যুগে যুগে প্রেমিক-প্রেমিকারা জেনে এসেছে হাতে লেখা একটা চিঠির মূল্য চোকাতে কত কী শাস্তি পেতে হয়েছে তাদের!

২৪ বছর আগে ক্যাপ্টেনকে লেখা প্রেমিকার সেই চিঠি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে লেখা চিঠি (Hand written letter) মানে যেন ভালবাসার আদিমতম অথচ সবচেয়ে নতুন ভাষা। অনুভূতি যখন কলমের আঁচড়ে পাতায় লিপিবদ্ধ (love letter) হয়ে পৌঁছে গিয়েছে প্রিয়জনের কাছে, মাইলের পর মাইল দূরত্বও হার মেনেছে সেখানে।
যুগে যুগে প্রেমিক-প্রেমিকারা জেনে এসেছে হাতে লেখা একটা চিঠির মূল্য (Old school love) চোকাতে কত কী শাস্তি পেতে হয়েছে তাদের - দেখা করা বন্ধ, কথাও হবে না, আরও কত কী! সেই ‘এসেন্স’ আজকের প্রজন্ম কি আদৌ বোঝার সুযোগ পেয়েছে! সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) মন কেড়েছে (viral) হাজারো মানুষের।
প্রাক্তন এক ভারতীয় আর্মি অফিসার (Ex-army officer) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হাতে লেখা এত্তবড় চিঠি শেয়ার করেছেন। চিঠিটা আজ থেকে ২৪ বছর আগে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তাঁকে লিখেছিলেন। ঘটনাচক্রে সেই প্রেমিকাই তাঁর স্ত্রী। কতটা ভালবাসা থাকলে তবে এতটা সময় নিয়ে কেউ নিজের থেকে বহুদূরে বসে থাকা তাঁর প্রেমিককে চিঠি লিখতে পারেন, যেখানে প্রেমিক দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন – তা নিয়ে আবেগে ভেসেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
চিঠির তারিখ বলেছে ১০ ডিসেম্বর, সাল ২০০১। ক্যাপ্টেন ধর্মবীর সিং (Captain Dharamveer Singh) তখন সদ্য চেন্নাইতে অফিসার হওয়ার ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে (Officers Training Academy) যোগ দিয়েছেন।
ক্যাপ্টেন পোস্টে লিখেছেন, ‘১ নভেম্বর, ২০০১, আমি ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে যোগ দিই। চিঠিটি আমার কাছে এসেছিল ১০ ডিসেম্বর। লিখেছিলেন আমার ঠাকুরাইন (স্ত্রী), তৎকালীন প্রেমিকা এবং ততদিনে এটা স্থির হয়ে গিয়েছিল যে তিনিই আমার স্ত্রী হতে চলেছেন।’
কিন্তু চিঠিটি পেয়ে কী অনুভূতি হয়েছিল ক্যাপ্টেনের? সেটা কারও পক্ষে আন্দাজ করা কঠিন নয়, কিন্তু তার জন্য যে ‘শাস্তি’ তিনি পেয়েছিলেন – সেই ঘটনা মন কেড়েছে নেটিজেনদের।
৫০০ টি পুশ-আপ…! (500 Push ups)
ক্যাপ্টেন জানান, সিনিয়রদের সেখানে এক বিশেষ নিয়ম ছিল। কারও নামে চিঠি আসলে, তা হাতে পেতে গেলে ৫০-১০০টি পুশ-আপ করতে হত। তাঁর কথায়, ‘আমার চিঠি এত বড় আর ভারী ছিল যে, আমাকে ৫০০ পুশ-আপ দিতে হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাকাডেমিতে যাওয়ার পর এটা আমার প্রথম পাওয়া চিঠি। সেটা কিছু ভাল সময় ছিল। যতটা আবেগ জড়িয়ে থাকত চিঠি লেখাতে, ততটাই দীর্ঘস্থায়ী হত সেই ভাললাগার অনুভূতি।’
ভিডিওটিতে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে গিয়েছে, বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে ওই চিঠি।
ওই পোস্টেই একজন মন্তব্য করেছেন, “অসাধারণ হাতের লেখা ওঁর। ২০০১ সালে আপনার ঠাকুরাইন আমার মতোই নাটকীয় ছিলেন।” আরেকজন লিখেছেন, “আমার মতো আরও অনেকে হয়তো চিঠিটি পড়ার চেষ্টা করেছেন। যদি আরও থাকে, প্রকাশ করুন।”
অন্য এক মন্তব্যে চোখে পড়ে, “তিনি যেভাবে লিখেছিলেন - ‘তোমার জন্য শাস্তি পেতে হবে এই ভাবনা আমি ঘৃণা করি’, সেটা ভীষণ মিষ্টি।”
প্রেমপত্র নিয়ে এত উচ্ছ্বাস দেখে অনেকেই জানতে চান, চিঠির সেই প্রেমিকা কি পরে তাঁর স্ত্রী হয়েছেন? উত্তরে ক্যাপ্টেন সিংহ জানান, “হ্যাঁ, তিনিই এখন আমাদের যমজ সন্তানের মা।”