
শেষ আপডেট: 30 October 2023 10:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতির গায়ে ওটা কী?
অশরীরীর ছায়া পড়েছে বৃহস্পতির গায়ে? বিকৃত হচ্ছে মুখ-চোখ। বৃহস্পতির চারপাশে ঘোরার সময় ছবি তুলেছে নাসার জুনো। আর সেই ছবিতে যা ধরা পড়েছে তা দেখে চমকে গেছেন বিজ্ঞানীরা।
জুনোক্যামে তোলা ছবি খুঁটিয়ে দেখে বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির তারাসভ বলেছেন, বৃহস্পতির জেট এন৭ এলাকায় এমন মুখের ছবি ধরা পড়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ভূতুড়ে মুখ। মুখের চোখ-নাক-ঠোঁট য়েন বেঁকেচুরে যাচ্ছে।
মঙ্গলের লাল মাটিতেও এমন মুখের ছবি বহুবার ধরা পড়েছে। একবার তো স্পষ্ট মানুষের মুখ দেখে চমকে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। নাসার ‘মিস কিউরিওসিটি’ সেই ছবি তুলে পাঠিয়েছিল। যদিও বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, সে সবই ছিল আলো-ছায়ার কারসাজি।
তাহলে বৃহস্পতির গায়ে ওটা কীসের মুখ? বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির তারাকভ বলছেন, দেখতে মুখের মতো লাগলেও আসলে সবটাই দৃষ্টিভ্রম। বৃহস্পতির জেট এন৭ এলাকায় সবসময়েই ঘূর্ণিঝড় চলে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকায়। ওই এলাকার উপর ঘন হয়ে থাকে মেঘ। তাই সবমিলিয়েই মনে হয়েছে যেন তা মানুষের মুখের আদল নিয়েছে। ঝড়ের গতি ও অভিমুখ বারে বারেই বদলাচ্ছে, তাই মনে হচ্ছে মুখ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতির ঠিক নাগের ডগায় বসে আছে নাসার মহাকাশযান ‘জুনো’ (Juno) । বৃহস্পতিতে কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখলেই সে খবর পাঠায় পৃথিবীতে। জুনোর হাই রেজোলিউশন ক্যামেরায় ধরা দেয় বৃহস্পতির অন্দরমহলের ছবি।
পৃথিবীতে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে তার মধ্যে থাকা জলের কণাগুলো আয়নিত হয়। তখন তাদের ঘর্ষণে বৈদ্যুতিক শক্তি তৈরি হয়। বৃহস্পতিতেও পদ্ধতি ঠিক তেমনি, তবে বৃহস্পতির মেঘে অ্যামোনিয়া-জলের মিশ্রণ থাকে। পৃথিবী ও বৃহস্পতিতে বজ্রপাতের পদ্ধতি অনেকটাই এক। পৃথিবীতেও ঠিক যেমনভাবে আকাশে মেঘ করে, বিদ্যুৎ চমকায়, বৃহস্পতিতেও ঠিক তেমনটাই হয়।
১৯৮৯ সালে বৃহস্পতিতে (Jupiter) মহাকাশযান গ্যালিলিও (Galileo Spacecraft) পাঠিয়েছিল নাসা। ২০০৩ সালে গ্যালিলিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে নাসা তার মহাকাশযান জুনোকে পাঠিয়েছে বৃহস্পতির খবর আনতে। তাছাড়া নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ গ্রহদের ওপর নজর রাখেই। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে তুমুল ঝড় বয়ে চলেছে বৃহস্পতির পিঠে সুবিশাল এলাকা জুড়ে। এমন প্রলয়ঙ্কর, এত দীর্ঘমেয়াদী ঝড় এখনও পর্যন্ত এই সৌরমণ্ডলের আর কোনও গ্রহে দেখা যায়নি। হস্পতির এমন খামখেয়ালি পরিমণ্ডলের জন্যই তার বলয়ে নানা রকম বদল দেখা যায়।