
শেষ আপডেট: 3 January 2024 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আরও কাছাকাছি, আরও কাছে এসো...’
আজ সূর্যের ঘনিষ্ঠ হবে পৃথিবী। বছরের একটা দিন সৌরমণ্ডলের কর্তার কাছে চলে আসে আমাদের নীল গ্রহ। দু’জনের সম্পর্ক আরও মাখোমাখো হয়। প্রেমপিরিতি বাড়ে। জানুয়ারির ৩ তারিখে সূর্য-পৃথিবীর প্রেম আরও গাঢ় হয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে অনুসূর অবস্থান বা পেরিহেলিয়ন। আবার ৪ জুলাই সূর্য-পৃথিবীর মধ্যে বিরহ বাড়ে অর্থাৎ পরস্পরের দূরত্ব অনেকটা বেড়ে যায়। একে বলে অপসূর অবস্থান বা অ্যাপহেলিয়ন।
আজ পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব হবে ১৪.৭ কিলোমিটার। পরস্পরের গড় দূরত্বের চেয়ে ৩ শতাংশ দূরত্ব কমবে। আরও একটু কাছে যাবে পৃথিবী। ফলে সূর্যরশ্মিও সরাসরি পড়বে পৃথিবীপৃষ্ঠে। তাতে জলবায়ুর গতিপ্রকৃতিতেও কিছু বদল হবে।
বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে। আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার (অনেকটা ডিমের মতো) কক্ষপথে পাক খায় চাঁদ। পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারিদিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করার পাশাপাশি সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড একবার আবর্তন করে। একে বলে পৃথিবীর বার্ষিক গতি।

এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী একবার সূর্যের সবচেয়ে কাছে আসে আর একবার দূরে চলে যায়। । দূরত্বটা যখন সব থেকে কমে যায়, সেটাকে বলে ‘অনুসূর’ অবস্থান এবং তারা যখন একে অপরের থেকে সর্বাধিক দূরত্বে থাকে, সেই অবস্থানের নাম ‘অপসূর’। বছরে একটা দিন পৃথিবী তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের নিকটতম বিন্দুতে পৌঁছয়। সেই দিনটাকে বলে পেরিহেলিয়ান (Perihelion)। গ্রীক শব্দ ‘পেরি’ মানে হল কাছে আর ‘হেলিয়স’ মানে সূর্য। এ বছর ৩ জানুয়ারি সেই দিন পড়েছে।
পেরিহেলিয়নে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল। উত্তর গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা থাকে। নাসা জানিয়েছে, পেরিহেলিয়নে সূর্যরশ্মির তীব্রতা প্রায় ৬ শতাংশ বাড়ে। সূর্যরশ্মির তীব্রতা পৃথিবীর জলবায়ুতে সামান্য বদল ঘটায়। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালের সময় আরও বাড়ে। তবে এই পরিবর্তন তেমন কোনও বড় প্রভাব ফেলে না।