
শেষ আপডেট: 11 April 2022 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির পোষা কুকুরকে (Dog Saliva) আদর করতে কার না ভাল লাগে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে, পিঠ চাপড়ে, কোলে তুলে নিয়ে আদর অনেকেই করেন, কেউ কেউ আবার আদুরে সোহাগে কুকুরের মুখে মুখও ঠেকিয়ে ফেলেন। কিন্তু কুকুরকে চুমু খাওয়া কতটা নিরাপদ?

আরও পড়ুন: সকাল থেকেই চড়া রোদ, কড়া গরম, বাঁচতে কী করবেন, কী করবেন না
না, কুকুর পোষা হলে মুখের সামনে মুখ নিয়ে গেলে কামড়ে দেবে না। তবে জিভি বের করে আপনার মুখ কুকুর চেটে (Dog Saliva) দেবেই, এটাই তাদের স্বাভাবিক আচরণ ধর্ম। অনেকেই মনে করেন কুকুরের লালায় কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। প্রচলিত ধারণা আছে, মানুষের মুখের চেয়েও কুকুরের মুখগহ্বর নাকি বেশি পরিষ্কার। কিন্তু কুকুরকে মুখে মুখ ঠেকিয়ে চুমু খাওয়ার আগে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন না করলেই নয়।

মানুষ আর কুকুরের শারীরিক গঠন যেহেতু এক নয়, তাই তাদের রোগের ধরনও আলাদা আলাদা। কুকুরের যে রোগ হয়, মানুষের শরীরে তা হয় না। বা মানুষের শরীরে যে জীবাণু মারণ রোগ বয়ে আনে, সেই একই জীবাণু হয়তো কুকুরের শরীরে কোনও প্রভাব ফেলতেই পারে না। ঠিক সেই কারণেই কুকুরের লালায় বাস করা জীবাণু নিয়ে অনেকেই খুব একটা মাথা ঘামান না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবজ্ঞার দিন শেষ।

ক্যাপনোসাইটোফাগা ক্যানিমরসাস। কুকুরের লালায় থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলির মধ্যে অন্যতম এটাই। মানুষের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে না, এটা প্রবেশ করলে মারাত্মক কোনও রোগ ডেকে আনতে পারে যে কোনও মুহূর্তেই।
কুকুরের মুখের সংস্পর্শে আসার আগে অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার তারা যেখানে সেখানে মুখ দেয়। রাস্তাঘাটের যে কোনও পরিষ্কার বা অপরিষ্কার জিনিসে মুখ ঠেকিয়ে তারা গন্ধ শোঁকে, খাবারের কিছু পেলে তা চেটেও দেখে বৈকি। মানুষের মতো দাঁত মেজে, কুলকুচি করে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখাও হয়ে ওঠে না চারপেয়দের। ফলে কুকুর যতই পোষ মানুক, তাদের মুখে অজস্র জীবাণু বাসা বেঁধে থাকে। সেই মুখে মুখ দিয়ে আদর করা মানুষের পক্ষে একেবারেই নিরাপদ নয়। তাৎক্ষিণক না হলেও ভবিষ্যতে তা ডেকে আনতে পারে বড়সড় কোনও বিপদ।