জল ঢুকছে ঘরে, তাতে কী! ভক্তিভরে প্রণাম জানালেন গঙ্গাকে। কোনও হাহাকার নেই, বরং ‘গঙ্গা মাইয়া কি জয়’ ধ্বনিতে গৃহস্থালির মধ্যেই হয়ে আরতি। এমনই দৃশ্য ধরা পড়লপুলিশ আধিকারিক চন্দ্রদীপ নিশাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে।

আরতি সারছেন পুলিশ আধিকারিক
শেষ আপডেট: 3 August 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরা শ্রাবণে টইটম্বুর প্রায় সব নদী। দেশের বহু জায়গাতেই পরিমাণের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে এই মরশুমে। প্লাবিত একাধিক এলাকা। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন। বেশ কিছু বাড়িতে ঢুকে পড়েছে গঙ্গার জল। সেই জল 'পবিত্র' তাই ঘরের গেটের সামনেই দুধ আর ফুল ছড়িয়ে আরতি করলেন এক পুলিশ আধিকারিক।
জল ঢুকছে ঘরে, তাতে কী! ভক্তিভরে প্রণাম জানালেন গঙ্গাকে। কোনও হাহাকার নেই, বরং ‘গঙ্গা মাইয়া কি জয়’ ধ্বনিতে গৃহস্থালির মধ্যেই হয়ে আরতি। এমনই দৃশ্য ধরা পড়লপুলিশ আধিকারিক চন্দ্রদীপ নিশাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘নিষাদ রাজ ভবন, মোরি, দারাগঞ্জ, প্রয়াগরাজ’ লেখা নেমপ্লেটের সামনে কোমরসমান জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ওই পুলিশ আধিকারিক। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে ভিডিও পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, 'আজ সকালে কাজে বেরোনোর সময় মা গঙ্গা আমাদের ঘরের দরজায় এসে পৌঁছলেন। আমরা তাঁকে পুজো করে আশীর্বাদ নিয়েছি। জয় গঙ্গা মাইয়া!'
আর এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জলের মধ্যেই নিজে ডুব দিয়ে গঙ্গাস্নান করছেন চন্দ্রদীপ। ক্যাপশনে লিখেছেন, 'আজ মা গঙ্গা পুরোপুরি আমার ঘরের ভেতর প্রবেশ করেছেন। আমি ঘরের মধ্যেই বিশ্বাসের এক ডুব দিলাম। জয় গঙ্গা মাইয়া!'
आपदा मे अवसर ढूंढते प्रयागराज के सब इंस्पेक्टर ,
गंगा नदी का पानी बाढ़ के रूप मे घर तक आ गया और साहब उसकी पूजा कर रहे है ,
जय गंगा मैया की जय , pic.twitter.com/GsiHgLjZCP— Nargis Bano (@Nargis_Bano78) August 2, 2025
এই ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তুঙ্গে বিতর্ক। কেউ বলছেন, এমন পরিস্থিতিতেও ভক্তির মধ্যে ভরসা খুঁজে নেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। আবার কেউ কটাক্ষ করছেন, 'যদি এই গঙ্গাই কোনও গরিবের ঘরে প্রবেশ করে, তাহলে সর্বনাশ করবে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।' এক জন আবার লিখেছেন, 'আমরা ভারতীয়রা অসহায়তা ও দুর্নীতির সঙ্গেই বাঁচতে শিখে গেছি। আগামী পাঁচ হাজার বছরেও কিছু বদলাবে না।'
অনেকে বলছেন, 'আমরা ২০২৫ এ দাঁড়িয়ে এগোচ্ছি না উল্টে পিছিয়ে পড়ছি। কিছুদিন পর আর যে কী কী দেখতে হবে, কে জানে।'
সরকারের তরফে অবশ্য প্রয়াগরাজ ও আশপাশের প্লাবিত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে খাদ্য ও ওষুধ বিলি। মোট প্রায় ১০০টি বন্যা ত্রাণ শিবির চালু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
মাঝ নদীর মতো ঘরের জমা জলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেভাবে পুলিশের পোশাকে বিশ্বাস আর ভালবাসায় পুজো করলেন তা নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রেখে যায়।