
১০০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে একটানা পিরিয়ড
শেষ আপডেট: 10 April 2025 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাসের ওই কয়েকটা দিনের যন্ত্রণা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। কেউ ভীষণ যন্ত্রণা, হেভি ব্লিডিং-এ কষ্ট পান, কেউ বা মুড সুইং নিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। পাঁচ-ছ’দিন নয় প্রায় ১০০০ দিনের (1000 days of period) বেশি সময় ধরে পিরিয়ডের (period) রক্তপাতের সমস্যায় ভুগছিলেন আমেরিকার (america) এক মহিলা। সোশ্যাল মিডিয়া তো দূর, ডাক্তারদেরও হতবাক করে দিয়ে এবার বিরল এক রোগের খোঁজ পাওয়া গেল যেখানে ৯৫০ দিন ধরে যন্ত্রণা-সহ পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়।
এক টিকটক ব্যবহারকারী, পপি, তাঁর এই সমস্যার কথা শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি জানিয়েছেন প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে টানা পিরিয়ডের সমস্যায় ভুগছেন তিনি।
পপি জানিয়েছেন, নানারকম টেস্ট, ট্রিটমেন্ট এমনকি সার্জিক্যাল ‘কাটাছেঁড়া’র মধ্যে দিয়েও যেতে হয়েছে তাঁকে, কিন্তু কী কারণে এতদিন ধরে রক্তপাতের সমস্যায় ভুগছেন তিনি, তা জানা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর শরীরে আয়রনের পরিমাণ তলানিতে এসে ঠেকেছে, পেটের যন্ত্রণার কথা তো না বলাই ভাল।
পপির ক্ষেত্রে ডাক্তাররা প্রথমে ভেবেছিলেন এটা হয়তো পলিসিস্টিক ওভারির কারণে হচ্ছে। সেই সংক্রান্ত কিছু সমস্যা থাকলেও এটাই একমাত্র কারণ নয় বলেই সন্দেহ হয়েছিল ডাক্তারদের। নানারকম টেস্টের পর অবশেষে পপি জানতে পারেন, তিনি বাইকরনুয়েট ইউটেরাসের (bicornuate uterus) সমস্যায় ভুগছেন। এই বিরল সমস্যায় ইউটেরাসের আকৃতি হার্টের মতো হয়ে যায় এবং দু’টি চেম্বারের মতো ভাগ দেখা যায়।
জানা গেছে, বাইকরনুয়েট ইউটেরাস একপ্রকার জন্মগত ইউটেরাইন অস্বাভাবিকতা। কিন্তু বেশ বিরল, ৫%-এর কম মহিলাদের এই সমস্যা দেখা যায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত বন্ধ্যাত্ব বা বারংবার মিসক্যারেজের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, এই ধরনের কিছু নজরে আসা খুব কঠিন।
পপির কথায় তিন বা চার মাস টানা রক্তপাতের পর তাঁর প্রথম আলট্রাসাউন্ডে এই সমস্যার কথা জানা গিয়েছিল, কিন্তু তখনও এতটা জটিলতার কারও নজরে আসেনি। তবে অন্তত এটা যে জানা গেছে, সেটাই আপাতত আশার বিষয়।
হরমোনের নানা টেস্ট করিয়ে, ইউটেরাসের কিছু অস্বাভাবিক টিস্যু সরিয়ে আরও নানা পথ অবলম্বন করে হয়তো ভাল থাকা সম্ভব। সার্জারি করিয়ে ইউটেরাসের আকার স্বাভাবিক অবস্থায় আনা, এটাও হয়তো পপির সমস্যার সমাধান হতে পারে।
মহিলারা সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে একবার করে পিরিয়ডের সম্মুখীন হন, ব্যক্তিবিশেষে রক্তপাত চলে ২ থেকে ৭ দিন। বয়স, হরমোন, জন্মনিরোধক বড়ির ব্যবহার, স্ট্রেস, ডায়েট অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে পিরিয়ডের সময়সীমা বা তীব্রতা।