
'হানিমুন পিরিয়ড’ কাটতে না কাটতেই আসে ডিপ্রেশন
শেষ আপডেট: 18 April 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে হোক বা প্রেম- যখন ‘হানিমুন পিরিয়ড’ (honeymoon period) শেষ হয়ে যায়, তখনই ধাক্কা দেয় বাস্তব। আর বিয়ের পরে জীবন মানেই সেখানে থাকবে চ্যালেঞ্জ, তখন সঙ্গে থাকে শুধু পারস্পরিক বোঝাপড়া। দরকার হয় একে অপরের প্রতি ধৈর্য ও অটুট বিশ্বাস। কিন্তু সব সময় সম্পর্কের গল্পটা সিনেমার মতো মসৃণ হয় না।
বাস্তবে কিন্তু বিয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সমাজের তৈরি করা নানা নিয়ম। সিনেমা আর সোশ্যাল মিডিয়ার তৈরি অবাস্তব কল্পনার একদম অন্যরকম এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন মানুষ। সেখান থেকেই তৈরি হয় একধরনের মানসিক চাপ, অসন্তোষ আর নিজের ফেলে আসা জীবনের সঙ্গে একটা তুলনার অনুভূতি। জন্ম নেয় অবসাদ (depression)।
মনোবিদদের কথায়, বিয়ের পর ডিপ্রেশন (post-marriage depression) আসা একেবারেই বাস্তব। বিয়েকে অনেক সময় শুধু রোম্যান্টিক নজরে দেখা হয়। দু’টো মানুষ যখন একসঙ্গে থাকা শুরু করে, ভাবে এবার থেকে হয়তো সারাজীবন ধরে ডেট-ই চলবে তাঁদের। অথচ বাস্তব হচ্ছে, বিয়ের পরে প্রেমের পাশাপাশি সম্পর্কে এসে পড়ে দায়বদ্ধতা, আর প্রতিনিয়ত একে অপরের মধ্যে বোঝাপড়ার চেষ্টা।
কেন আসে এই ডিপ্রেশন?
মনোবিদরা আরও বলছেন, আমাদের সমাজে কাপলদের মধ্যে সিনেমার প্রভাব থাকে শুরুর দিকে। নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ে আরও বেশি প্রভাব ফেলে। সাধারণত বিয়ের আগের জীবনের স্বাধীনতাটা হারানোর অনুভূতির সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাঁদের। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা, কিংবা আর্থিক ও আবেগজনিত কিছু অলিখিত প্রত্যাশা থেকেও অবসাদ জন্ম নেয়।
পুরুষরা অনেক সময় নিজেদের দিকটা বুঝিয়ে উঠতে পারেন না, চেপে রাখেন মনের মধ্যে। না চাইতেই অনেক পরিবর্তন আসে জীবনে। হঠাৎ এসে পড়া দায়িত্বে ডুবে যেতে থাকেন অনেকে। তা থেকেও হতাশা আসতে পারে তাঁদের জীবনে।
একই মানুষের সঙ্গে সারাজীবন কাটানোর ভাবনা, আশেপাশের মানুষের সঙ্গেও অনেক সময় দূরত্ব তৈরি হয় বিয়ের পর। চাকরির চাপ বা বিয়ের আগে থেকে একে-অপরের সঙ্গে ঠিকমতো বোঝাপড়া না থাকলেও গ্রাস করতে পারে হতাশা।
কীভাবে সামলে রাখবেন নিজেকে এই হতাশা থেকে?
১. আগে থেকেই বাউন্ডারি সম্পর্কে সচেতন থাকুন: বিয়ের আগে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক প্রয়োজন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করুন। শুধু বিয়ের আয়োজনে মন না দিয়ে ভবিষ্যতের দিকেও নজর থাকুক।
২. দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে নিন: সম্পর্কের ভিত শক্ত হয় তখনই, যখন দু’জনই কোনও সমস্যা নিয়ে একটা বোঝাপড়ায় পৌঁছতে পারেন।
৩. সম্পর্ক থেকে কী চাইছেন সেই নিয়ে আলোচনা করুন: শুধু সন্তান নয়, জীবন নিয়ে আরও কিছু স্বপ্ন দেখুন যা দু’জন একসঙ্গে পূরণ করতে পারবেন।
৪. পছন্দ–অপছন্দ নিয়ে কথা বলে নিন আগে থেকে: কোন কোন বিষয় নিয়ে একদমই ছাড় দেওয়া যাবে না, তা স্পষ্ট করে নিতে পারলেই দ্বন্দ্ব কমে যায় অনেকাংশে।
৫. মতভেদ হলে কীভাবে সামলাবেন, সেটা জানুন: কার কীভাবে রাগ কমে, কে কীভাবে মানিয়ে নেয়—এই বোঝাপড়া থেকেই গড়ে ওঠে সুন্দর সম্পর্ক।
৬. একসঙ্গে সময় কাটান: যতই ব্যস্ত থাকুন, মাঝে মাঝে সময় করে একসঙ্গে ডেটে যান বা বাড়িতেই তৈরি করে নিন খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ, এসব আদতে সম্পর্ককে মজবুত করে।