Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

কেরল, বাংলায় কমিউনিস্ট ঠেকাতে মার্কিন ভিক্ষায় পুষ্ট হয়েছিল কংগ্রেস

আমেরিকা সম্প্রতি ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

কেরল, বাংলায় কমিউনিস্ট ঠেকাতে মার্কিন ভিক্ষায় পুষ্ট হয়েছিল কংগ্রেস

কেরলে কমিউনিস্ট সরকার ফেলার সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু ও কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

শেষ আপডেট: 21 February 2025 19:00

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের রাজনীতিতে অর্থ সাহায্য নিয়ে মার্কিন প্রেসি়ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ঘিরে  দেশে সরকার ও বিরোধীতে জোর তরজা চলছে। যদিও বাইরে থেকে অর্থ সংগ্রহ করার সরকারি প্রবণতা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার এরকম কাণ্ড ঘটেছে। প্রাক্তন মার্কিন আধিকারিকরাই এসব তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন বহুবার। ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন এক মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর স্মৃতিকথাতেই লিখে গিয়েছেন যে, কেরল ও পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিবৃদ্ধি দমন করতে ভারতের কংগ্রেস পার্টি আমেরিকার কাছ থেকে অর্থসাহায্য নিয়েছিল পক্ষান্তরে পেয়েছিল।

আমেরিকা সম্প্রতি ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যদিও এখন জানা গিয়েছে, ওই তহবিল আসলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের জন্য নয়। তাতেও বিতর্কের ঝড়ে বিন্দুমাত্র গতি কমেনি।ট্রাম্পের মন্তব্য এটা ভারতের প্রতি আমেরিকার কিকব্যাক স্কিম ছিল। যা নিয়ে আলোচনার জল আরও গড়াচ্ছে।

এদিকে, গোটা প্রক্রিয়াটি অতীতের বেশ কিছু ঘটনা ও বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। তার মধ্যে একটি হল আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার (যিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত) কংগ্রেসকে টাকা দিয়েছিলেন কেরলে প্রথম নির্বাচিত কমিউনিস্ট পার্টির সরকার ফেলতে। ১৯৫৭ সালে কেরলে দেশে প্রথম অকংগ্রেসি সরকার গঠিত হয় কেরলে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে।

এতেই মাথা ঘুরে যায় আমেরিকার। কারণ, তারা ভেবেছিল সোভিয়েত রাশিয়া ও চিনের বাইরে কমিউনিস্টদের ডানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সময় আমেরিকা বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে প্রায় অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তাদের ভয় ছিল কমিউনিস্টদের ছায়া যেন কোনওভাবেই আমেরিকার বুকে না পড়ে। যার ফলে শুরু হয় কমিউনিস্ট সোভিয়েতের সঙ্গে পুঁজিবাদী আমেরিকার ধনতন্ত্রের ঠান্ডাযুদ্ধ।

শুধু ভারত নয়, ইরানেও সরকার ফেলার জন্য মার্কিন চর সংস্থা সিআইএ কাড়িকাড়ি পুঁজি ঢেলেছিল। যা ১৯৫৩ সালের অপারেশন আজাক্স নামে কুখ্যাত। ইরানের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মোসাদ্দেগের নির্বাচিত সরকার ফেল দেওয়া হয় চক্রান্ত করে। কমিউনিস্ট টুডেহ পার্টির প্রভাব ছিল মোসাদ্দেগের উপর। যার কারণে আমেরিকা ইরানের শাহদের সঙ্গে হাত মেলায়।

বিতর্ক আবার তৈরি হয় ১৯৫৯ সালে। কেরলের প্রথম কমিউনিস্ট সরকারকে ফেলার জন্য সিআইএ এবং মার্কিন ইনফরমেশন সার্ভিস বা ইউসিস ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে দুহাতে টাকা সাহায্য করে। তার দুবছর আগেই সিপিআই ১২৬টি আসনের মধ্যে ৬০টিতে জিতে ক্ষমতায় এসে শিক্ষা ও ভূমি সংস্কারের আইন প্রণয়ন করে ফেলে। যাতে মহা সংকটে পড়ে কংগ্রেসের মতো বর্গাদারভিত্তিক পার্টি।

প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ৩৫৬ ধারা জারি করে ১৯৫৯ সালের ৩১ জুলাই রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করে সরকার ভেঙে দেন। ঐতিহাসিক ভি কৃষ্ণ অনন্ত একে সংবিধানের ৩৫৬ ধারার উল্লেখযোগ্য অপব্যবহার বলে ব্যাখ্যা করেন। এই একই ধরনের কথা লিখে গিয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন দূত এবং সেনেটর ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহান। তিনি তাঁর ১৯৭৮ সালে লেখা স্মৃতিকথা আ ডেঞ্জারাস প্লেস-এ লিখেছেন কীভাবে আমেরিকা ও সিআইএ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার হস্তক্ষেপ করেছিল ও কীভাবে পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছিল। তাঁর লেখাতেই আছে আমেরিকা প্রথমে কেরলে এবং পরে ১৯৬০ সাল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ থেকে কমিউনিস্টদের মুছে ফেলতে কীভাবে বস্তা বস্তা টাকার জোগান দিয়ে গিয়েছে কংগ্রেসকে। তাঁর লেখাতেই রয়েছে, কংগ্রেসের এক পদাধিকারী মিসেস গান্ধীকে টাকা দিয়েছে আমেরিকা।ফলে এবার হোক না হোক, ইতিহাস বলছে, এর আগেও কংগ্রেস পার্টি কীভাবে এদেশে কমিউনিস্টদের উৎখাত করতে বিদেশি বিশেষত আমেরিকার ভিক্ষাগ্রহণ করেছিল।


```