Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

অসুররাজ মহিষাসুর, জন্ম থেকে মৃত্যুমুহূর্ত পর্যন্ত মায়াবী কুয়াশায় ঢাকা ছিল যাঁর জীবন

রূপাঞ্জন গোস্বামী অসুরকুলপতি দানুর বংশধর ছিলেন অসুররাজ রম্ভাসুর। একদিন রম্ভাসুর গভীর অরণ্যের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় এক স্ত্রী মহিষের দেখা পেয়েছিলেন। অলৌকিক ক্ষমতাধারী রম্ভাসুর জানতে পেরেছিলেন স্ত্রী মহিষটি আসলে পশুরূপ ধারণ করা এক রাজকন্যা

অসুররাজ মহিষাসুর, জন্ম থেকে মৃত্যুমুহূর্ত পর্যন্ত মায়াবী কুয়াশায় ঢাকা ছিল যাঁর জীবন

শেষ আপডেট: 30 September 2022 04:38

রূপাঞ্জন গোস্বামী

অসুরকুলপতি দানুর বংশধর ছিলেন অসুররাজ রম্ভাসুর। একদিন রম্ভাসুর গভীর অরণ্যের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় এক স্ত্রী মহিষের দেখা পেয়েছিলেন। অলৌকিক ক্ষমতাধারী রম্ভাসুর জানতে পেরেছিলেন স্ত্রী মহিষটি আসলে পশুরূপ ধারণ করা এক রাজকন্যা, নাম তাঁর শ্যামলা। যিনি অভিশাপের কারণে মহিষ হয়ে গিয়েছিলেন। অসুররূপ ছেড়ে মহিষের রূপ ধারণ করে রম্ভাসুর নেমে গিয়েছিলেন জলাশয়ে। মহিষরূপী শ্যামলার সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন মহিষরূপী রম্ভাসুর। মিলনের ফলে গর্ভবতী হয়েছিলেন শ্যামলা। মহিষরূপী রাজকন্যা শ্যামলার গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছিলেন ত্রিভুবন কাঁপানো মহিষাসুর (mahishasura)।

মা শ্যামলা মহিষ ছিলেন বলে মহিষাসুরও (mahishasura) মহিষের রূপ ধারণ করতে পারতেন। এছাড়াও বিপদের মুহূর্তে বা প্রয়োজনে অন্য পশুর রূপ ধারণ করার সহজাত ক্ষমতা ছিল রম্ভাপুত্রের। জন্মের পর খুব বেশি দিন মা'কে পাননি মহিষাসুর। পুত্রের জন্মের কিছুদিন পরেই মা শ্যামলার মৃত্যু হয়েছিল।

অসুররাজ রম্ভাসুরের আত্মীয়েরা রাজপুত্র মহিষাসুরকে লালনপালন করতে শুরু করেছিলেন। পিতৃমাতৃহীন মহিষাসুর হয়ে উঠেছিলেন লাগামছাড়া ও দুর্বিনীত।তার ওপর রম্ভাসুরের আত্মীয়েরা মহিষাসুরকে বলেছিলেন মহিষাসু্রের মধ্যে ত্রিলোকবিজয়ী হওয়ার ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। বালক মহিষাসুরের মধ্যেও ধীরে ধীরে ধারণা হতে শুরু করেছিল সে অপরাজেয়।সেই বালক বয়সেই অসম্ভব অত্যাচারী হয়ে উঠেছিল মহিষাসুর (mahishasura)।

যুবক হওয়ার পর মহিষাসুর তাঁর এক বয়স্ক আত্মীয়কে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা সারাজীবন ধরে আমাকে বলে এসেছ, আমার মধ্যে ত্রিলোকবিজয়ী হওয়ার ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। সেই স্বপ্ন বাল্যকাল থেকেই দেখতে শুরু করেছি আমি। এখন আমি যুবক, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।" বয়স্ক আত্মীয়টি স্মিত হেসে মহিষাসুরকে জানিয়েছিলেন তাঁর পিতা অসুররাজ রম্ভাসুরের তপস্যার কথা। বয়স্ক আত্মীয়টি মহিষাসুরকে বুঝিয়েছিলেন ত্রিলোক জয় করতে গেলে মহিষাসুরকে অমরত্ব লাভ করতে হবে। এর জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার আরাধনা করতে হবে। কঠোর তপস্যায় ব্রহ্মা তুষ্ট হলে মিলবে অমরত্ব। মহিষাসুরের করায়ত্ত হবে ত্রিলোক।

Mahishasura

তপস্যা শুরু করেছিলেন রম্ভাপুত্র মহিষাসুর

গভীর অরণ্যে প্রবেশ করেছিলেন মহিষাসুর। বিপদসঙ্কুল অরণ্যে একটি গাছের তলায় এক পায়ে দাঁড়িয়ে শুরু করেছিলেন কঠোর তপস্যা। কেটে গিয়েছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী। দীর্ঘ উপবাসে থাকা মহিষাসুরের দৈহিক শক্তি কমার বদলে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। মহিষাসুরের শরীর থেকে নির্গত তেজ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে। মহিষাসুরের তেজ অনুভব করেছিলেন ধ্যানমগ্ন ব্রহ্মাও। ভক্তের কঠোর তপস্যায় তুষ্ট ব্রহ্মা দেখা দিয়েছিলেন মহিষাসুরকে, বলেছিলেন, "আমি তোমার তপস্যায় তুষ্ট, আমার কাছে তুমি কী বর আশা কর?"

ব্রহ্মার পদতলে লুটিয়ে পড়ে মহিষাসুর চেয়েছিলেন অমরত্বের বর। উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা। তিনি জানতেন নৃশংস মহিষাসুরকে অমরত্বের বর দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে! তাই ব্রহ্মা বলেছিলেন, "আমি তোমায় অমরত্বের বর প্রদান করতে পারিনা। তবে তুমি আমার কাছে সেই বর চাইতে পার, যে বর পেলে দেবতা, মানুষ ও পশু তোমায় হত্যা করতে পারবে না। একমাত্র কোনও নারীই তোমাকে বধ করতে পারবে।"

ব্রহ্মার কথা শুনে মনে মনে হেসেছিলেন অগ্নিদেবের বরে জন্ম নেওয়া মহিষাসুর। এককথায় সেই বর নিতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। মহিষাসুর ভেবেছিলেন, কোনও নারীর পক্ষে তাঁর মতো অমিতশক্তিশালী অসুরকে বধ করা সম্ভব নয়। তাই এই বর পাওয়া মানেই অমরত্ব লাভ করা। উল্লসিত মহিষাসুরকে দেখে স্মিত হেসেছিলেন অন্তর্যামী ব্রহ্মা। ভক্ত মহিষাসুরকে বর দিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ব্রহ্মলোকে।

অসুররাজ মহিষাসুরের অত্যাচারে কেঁপে উঠেছিল স্বর্গ মর্ত্য পাতাল

অরণ্য থেকে প্রাসাদে ফিরে এসেছিলেন অশুভ শক্তির প্রতীক মহিষাসুর। স্বর্গ মর্ত্য পাতাল জুড়ে অসুর সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিলেন। শুরু করেছিলেন নির্মম অত্যাচার ও অকাতরে নরহত্যা। ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছিল ধরাধামে। অগ্নি ও ব্রহ্মার বরে বলীয়ান মহিষাসুরের হাত থেকে পরিত্রাণ পাননি সাধুসন্তরাও।

কালিকাপুরাণ থেকে জানা যায়, একদিন মহিষাসুর লাস্যময়ী রমণীর রূপ ধারণ করে প্রবেশ করেছিলেন ঋষি কাত্যায়নের যজ্ঞস্থলে। ঋষি কাত্যায়নের এক শিষ্যকে যৌন আবেদনে বশ করে, যজ্ঞের জন্য রাখা সকল খাদ্যবস্তু ভক্ষণ করে নিয়েছিলেন। ঋষি কাত্যায়ন চিনে ফেলেছিলেন নারীরূপী মহিষাসুরকে। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বলেছিলেন, "পাপিষ্ঠ, নারীর ভেক ধরে আমার শিষ্যের মন কলুষিত করেছিস। আমি অভিশাপ দিলাম, তোর মৃত্যুরও কারণ হবে এক নারী।" ঋষি কাত্যায়নের কথা শুনে বিশ্ব কাঁপিয়ে হেসে উঠেছিল মহিষাসুর।

জন্ম নিয়েছিলেন দেবী কাত্যায়নী

এর পর, দূরাচারী মহিষাসুর মর্ত্যকে রক্তসাগরে ভাসিয়ে, যুদ্ধে দেবতাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে দখল করে নিয়েছিলেন স্বর্গ। ভীতসন্ত্রস্ত দেবতারা গিয়েছিলেন শ্রীবিষ্ণুর কাছে। বৈকুণ্ঠধামে পৌঁছে দেবতারা দেখেছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে আলোচনারত শ্রীবিষ্ণুকে। পাশে বসেছিলেন দেবী পার্বতী ও দেবী লক্ষ্মী। মহাদেব ও শ্রীবিষ্ণুকে মহিষাসুরের ভয়াবহ অত্যাচার ও স্বর্গ দখলের কথা জানিয়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র।

ইন্দ্রের কথা শেষ হওয়া মাত্র সারা বৈকুণ্ঠ জুড়ে ভাসতে শুরু করেছিল সুরেলা অথচ কঠোর এক নারী কণ্ঠ, "আমার প্রিয় পুত্রকন্যাগণ, প্রজাপতি ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর অপরাজেয়। তাই অশুভশক্তিকে বিনাশের জন্য একই দেহে বিলীন হয়ে যাবেন তিন দেবী। আমিই পুনরায় জন্ম নেব এক রণরঙ্গিনী দেবী রূপে। সকল দেবতার সর্বপ্রকার তেজ একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হবে মহাশক্তি। সেই মহাশক্তিপুঞ্জ প্রবেশ করবে রণরঙ্গিনী দেবীর শরীরে। তোমরা তোমাদের অস্ত্র সেই দেবীকে প্রদান কোরো। তিনিই বিনাশ করবেন মহিষাসুরকে।"

মহাদেবীর মহাবাণী শুনে স্মিত হাসি ফুটে উঠেছিল দেবী পার্বতী, দেবী সরস্বতী ও দেবী লক্ষ্মীর মুখে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর ও বাকি দেবতাদের দেহ থেকে নির্গত হয়েছিল চোখধাঁধানো তেজরাশি। ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে মহাদেবীর তিন অবতার, পার্বতী, সরস্বতী ও লক্ষ্মী এক নব-কলেবরে বিলীন হয়ে গিয়েছিলেন। সেই নব কলেবরে প্রবেশ করেছিল দেবকুলের তেজপুঞ্জ। আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী কাত্যায়নী।

যাঁর শরীর থেকে একই সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছিল বিনাশের ভয়াবহতা ও সীমাহীন লাবণ্য। দেবীর সর্বাঙ্গ থেকে নির্গত জ্যোতির তীব্রতা এতই বেশি ছিল, যে দেবতারাও দেবীর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছিলেন না। মহাদেবীর মতোই সুরেলা ও কঠোর কণ্ঠে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন দেবী, "আমি ঋষি কাত্যায়নের কন্যা দেবী কাত্যায়নী। আমিই মহাদেবীর অবতার দুর্গা রূপে অশুভকে বিনাশ করার জন্য জন্ম নিয়েছি।"

উপস্থিত দেবতারা সাষ্টাঙ্গে দেবী কাত্যায়নীকে প্রণাম জানিয়েছিলেন। তার পর মহাদেবীর কথামত তাঁরা দেবীকে রণসাজে সজ্জিত করেছিলেন তাঁদের অস্ত্র দিয়ে। দেবী দুর্গার হাতে শ্রীবিষ্ণু তুলে দিয়েছিলেন ১০৮ টি ধার যুক্ত শাণিত সুদর্শন চক্র। ব্রহ্মা দিয়েছিলেন কমণ্ডলু, অক্ষমালা ও পদ্ম। মহাদেব তুলে দিয়েছিলেন তাঁর ত্রিকাল দণ্ড বা ত্রিশূল। এরপর দেবতারা একে একে দিয়েছিলেন তাঁদের অস্ত্র। দেবীর বাহন হিসেবে গিরিরাজ হিমালয় দিয়েছিলেন এক ভয়াল ভয়ঙ্কর সিংহ।

রণহুঙ্কার দিয়েছিলেন দেবী সর্বাসুরবিনাশা

সেই রণহুঙ্কারে কেঁপে উঠেছিল ত্রিলোক। আকাশ ছুঁয়েছিল সাগরের উত্তাল ঢেউ। প্রবল ভূমিকম্পে থর থর করে কেঁপে উঠেছিল পৃথিবী। ভয়াবহ বেগে বইতে শুরু করেছিল ধুলোর ঝড়। মহিষাসুরের কানে পৌঁছেছিল দেবীর রণহুঙ্কার। কয়েক মুহূর্তের জন্য বুঝি বুকের রক্ত জল হয়ে গিয়েছিল মহিষাসুরের। শব্দের উৎস খুঁজতে তিনি প্রাসাদের বাইরে এসেছিলেন। দূরে দৃষ্টি ভাসিয়ে মহিষাসুর দেখেছিলেন, রণসাজে সজ্জিতা এক অতীব সুন্দরী নারী সিংহের পিঠে চড়ে এগিয়ে আসছেন তাঁরই প্রাসাদের দিকে। মহিষাসুরের মনে পড়েছিল ব্রহ্মার বরের কথা। এই কী সেই নারী! মহিষাসুরকে হত্যা করতে শেষে দেবতারা এই লাবণ্যময়ী নারীকে পাঠিয়েছেন!

মহিষাসুরের কানে ভেসে এসেছিল দেবীর বজ্রকণ্ঠ, "পাপিষ্ঠ মহিষাসুর, তুমি নারীর হাতে মরতে চেয়েছিলে। আমিই সেই নারী।" তাচ্ছিল্যের হাসিতে ধরাধাম কাঁপিয়ে দেবীর দর্পচূর্ণ করার জন্য মহিষাসুর পাঠিয়েছিলেন অসুরবাহিনীকে। সামান্য নারীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাননি মহিষাসুর। কিন্তু দেবী দশভুজা দশ হাতে অসুরবাহিনীকে ধ্বংস করেছিলেন। এক সময় সমস্ত অসুরসেনা হারিয়ে দিশেহারা ও বাকরুদ্ধ মহিষাসুর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে রণহুঙ্কার দিয়ে উঠেছিলেন।

মহিষাসুর ধারণ করেছিলেন ভয়ঙ্কর এক মহিষের রূপ

সেই মহিষের ক্ষুরের আঘাতে উড়তে থাকা ধুলোয় অন্ধকার নেমে এসেছিল বিশ্বে। মহিষরূপী মহিষাসুর ভয়াবহ গতিতে ছুটে এসে শিং দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন দেবী দুর্গাকে( Devi Durga)। দেবী দুর্গা মহিষের কণ্ঠ লক্ষ্য করে ফাঁস ছুঁড়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে মহিষ থেকে হাতিতে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন মহিষাসুর। শূঁড় দিয়ে সিংহের পায়ে টান মেরে দেবী দুর্গাকে মাটিতে ফেলে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। দেবী দুর্গার খড়্গ নেমে এসেছিল হাতির শূঁড়ে। রক্ত ঝরতে শুরু করেছিল হাতির শূঁড় থেকে। তখন মহিষাসুর ধরেছিলেন সিংহের রূপ। এভাবে ক্রমাগত রূপ বদলে টানা ন'দিন যুদ্ধ চালিয়েছিলেন মহিষাসুর।

এসে গিয়েছিল অন্তিম মুহূর্ত

যুদ্ধের দশম দিন। দেবীকে বিভ্রান্ত করার জন্য দেবী দুর্গার খুব কাছে চলে এসেছিলেন মহিষরূপী মহিষাসুর। দেবী দুর্গার খড়্গ নেমে এসেছিল মহিষের ঘাড়ে। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল মহিষের মাথা। অসুররূপ ধারণ করে মহিষের গলা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন মহিষাসুর। পুনরায় রূপ বদল করার জন্য দূরে পালাবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মহিষের গলা দিয়ে মহিষাসুরের পুরো শরীর বের করার আগেই দেবী দুর্গা ত্রিলোক কাঁপানো রণহুঙ্কার দিয়ে সিংহের পিঠ থেকে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। শূলবিদ্ধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। মায়াবী মহিষাসুরের মায়াজাল ছিন্ন করে দেবী দুর্গা বধ করেছিলেন অশুভশক্তির প্রতীক মহিষাসুরকে।

মৃত্যুকালে মহিষাসুর দেবীকে বলেছিলেন, দেবীর হাতে মৃত্যুবরণ করার জন্য তাঁর কোনও দুঃখ নেই। কিন্তু তাঁর অন্তিম ইচ্ছা, দেবীর পূজার সময় দেবীর পদতলে যেন মহিষাসুরের ঠাঁই হয়। মৃত্যুপথযাত্রী মহিষাসুরের অন্তিম ইচ্ছা পূরণ করে দেবী মহিষাসুরকে বলেছিলেন, " আমার উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দুর্গা রূপের পূজা করার সময় তুমিও দেবতা, মানুষ ও অসুরদের পূজা পাবে।" পরম শান্তিতে চোখ বুজেছিলেন প্রবলপরাক্রমশালী মহিষাসুর। বসুন্ধরাকে ঘিরে ফেলা শুভশক্তির জ্যোতির্পুঞ্জে বিলীন হয়ে গিয়েছিলেন দেবী দুর্গা।

সূত্র: মার্কণ্ডেয় চণ্ডী, দেবী ভাগবত ও কালিকাপুরাণ

আরও পড়ুন :মা দুর্গার ভয়ঙ্করতম অবতার 'কালরাত্রি', বধ করেছিলেন পার্বতীর পাণিপ্রার্থী অসুররাজ রুরুকে


```