ভারতের মুসলিম শাসনকালের ইতিহাস থেকে ছেঁটে বাদ দেওয়া হল দিল্লির সুলতানি আমলের বীরাঙ্গনা রাজিয়া সুলতান, মুঘল যুগের কিংবদন্তি সুন্দরী সাম্রাজ্ঞী নুরজাহানের নাম।

রাজিয়া সুলতান, টিপু সুলতান ও নুরজাহান। তৈলচিত্র।
শেষ আপডেট: 28 August 2025 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের মুসলিম শাসনকালের ইতিহাস থেকে ছেঁটে বাদ দেওয়া হল দিল্লির সুলতানি আমলের বীরাঙ্গনা রাজিয়া সুলতান, মুঘল যুগের কিংবদন্তি সুন্দরী সাম্রাজ্ঞী নুরজাহানের নাম। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (NCERT) চলতি শিক্ষাবর্ষের (2025-26) অষ্টম শ্রেণির নতুন ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে ব্রাত্য হলেন রাজিয়া সুলতানা ও নুরজাহান।
এমনকী ‘মহীশুরের বাঘ’ বলে খ্যাত টিপু সুলতানের উল্লেখ পুরনো পাঠ্যপুস্তকে থাকলেও নতুন বই থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরনো পাঠ্যবইয়ে টিপুর নাম ১৬ বার থাকলেও এবং টিপু সুলতান ব্রিটিশ কর্তৃক চন্দন কাঠ, গোলমরিচ ও এলাচ রফতানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও তিনি ইতিহাসপাঠ্যে নেই। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সেই আমলে দেশীয় ব্যবসাদারদের কাছ থেকে এই অধিকার ছিনিয়ে নিজেরাই রফতানির ব্যবস্থা করে কোটি কোটি টাকা মুনাফার চেষ্টা করায় বিরোধিতা করেছিলেন হায়দর আলির পুত্র টিপু সুলতান। টিপু ছাড়াও বাদ পড়েছে হায়দর আলির নামও। বইয়ের পাতায় উল্লেখ নেই অষ্টাদশ শতকে টিপু সুলতান ও ব্রিটিশদের মধ্যে ঘটা চারটি ইং-মহীশুর যুদ্ধের কথাও।
আগে পড়ুয়ারা দিল্লির সুলতানি আমলের ইতিহাস জানত সপ্তম শ্রেণিতে। নতুন বইয়ে সপ্তম শ্রেণির বই শেষ হয়েছে দ্বাদশ শতাব্দীর আমলে। এই বিষয়গুলি নিয়ে আসা হয়েছে অষ্টম শ্রেণির নতুন বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে। পুরনো বইতে দুটি পরিচ্ছেদ ছিল একটিতে দিল্লির সুলতানি ও অন্যটি মুঘল আমলের। এখানে সুলতান ইলতুৎমিসের কন্যা রাজিয়ার বিস্তারিত সংগ্রামের কথা ছিল। রাজিয়া তাঁর অন্য ভাইদের তুলনায় অনেক বেশি যোগ্য ও শিক্ষিত ছিলেন বলে উল্লেখ ছিল আগের বইতে। এবারে নামটাই বাদ চলে গিয়েছে।
নতুন বইতে মুঘল সাম্রাজ্যের অংশে জাহাঙ্গিরের ক্ষমতাসম্পন্ন স্ত্রী নুরজাহানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় গঢ়হা রাজত্বের রানি দুর্গাবতীকে যুক্ত করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, তিনি সেনাকে নেতৃত্ব দিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে মুঘল সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। নতুন বইয়ের তিন নম্বর পরিচ্ছেদে মারাঠা শক্তির উত্থান অংশে বলা হয়েছে, তারাবাই ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা রানি। যিনি ঔরঙ্গজেবের রাজ্যজয়ের চেষ্টা রুখে দিয়েছিলেন। অহল্যাবাই হোলকরকে উত্তর ভারতে মারাঠা সাম্রাজ্য বিস্তারের কারিগর বলে ব্যাখ্যা করে হয়েছে।
এছাড়া ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় অবধ বা আওউধের বেগম হজরত মহলকে বিদ্রোহের নায়িকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিইআরটি-র বইতে রয়েছে ১৭৭১ সাল থেকে তিন দশক ধরে মারাঠারা বারবার দিল্লি দখল করেছে। এবং দিল্লি তাদেরই অধীনে ছিল, যতক্ষণ না ব্রিটিশরা রাজধানী দখল করে। বইয়ের একটি মানচিত্রে রয়েছে ১৭৫৯ সালে মারাঠা সাম্রাজ্য কোলাপুর থেকে ওড়িশার কটক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। উত্তরে তা পেশোয়ার পর্যন্ত ছিল। এই অধ্যায়ে একথারও উল্লেখ রয়েছে, শিবাজির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে প্রায় ১০ বছর ধরে মারাঠা সৈন্যদের বিচ্ছিন্ন কিছু উচ্ছৃঙ্খলতা এবং অত্যাচারের কারণে নৃশংস ও ধ্বংসাত্মক কাণ্ড ঘটেছে সাধারণ মানুষের উপর।