
শেষ আপডেট: 26 April 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খবরের কাগজে বাংলা হরফে প্রথম বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে 'Calcutta Chronicle' নামক ইংরাজি পত্রিকায়। বিজ্ঞাপনটি ছিল বাংলা ব্যাকরণ বিষয়ক এক বইয়ের। পঞ্চানন কর্মকার প্রকাশ করেছিলেন সেই বিজ্ঞাপন। এই পঞ্চানন কর্মকারকে বাংলা মুদ্রণের পথপ্রদর্শক বলা যায়। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা হরফ নির্মাণের কলাকৌশল আয়ত্ত করেছিলেন পঞ্চানন। চার্লস উইলকিনসন নামে এক সাহেবকে হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ বই ছাপার জন্য বাংলা টাইপফেস তৈরিতে সাহায্যও করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে বাংলায় প্রকাশিত হতে থাকে নানা পণ্যের বিজ্ঞাপন। কেমন ছিল সেসময়কার সাদা-কালো যুগের বাংলা বিজ্ঞাপন? বাঙালি জীবনের অনেক অতীত নস্টালজিয়া আর না-জানা ইতিহাস জড়িয়ে আছে পুরোনো দিনের এই বিজ্ঞাপনী ছবিগুলোর সঙ্গে (Old Bengali ADs)।

১৯১৬ সালে। দেশজুড়ে স্বদেশি আন্দোলনের জোয়ার উঠেছে। বিলিতি দ্রব্য বর্জনের হিড়িকে মেতেছে বাঙালিও। কিন্তু দেশি জিনিসও তো চাই ব্যবহারের জন্যে। নিম পাতা দিয়ে সেই প্রথম তৈরি হল দেশি নিম সাবান, নাম রাখা হল 'মার্গো'। ক্যালকাটা কেমিক্যাল কোম্পানি তৈরি করে সাবানটি। প্রতিষ্ঠাতা খগেন্দ্র চন্দ্র দাশের পরিচালনায় ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রথম বাজারে আসে। উপরের বিজ্ঞাপনটি ক্যালকাটা কেমিক্যালের সেই বিখ্যাত 'মার্গো সোপ'-এর (Old Bengali ADs)। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছিল আনুমানিক বাংলা ১৩৪৪ সনে।

কাছাকাছি একই সময় প্রকাশ পেয়েছিল ক্যালকাটা কেমিকোর এই বিজ্ঞাপনটিও। তাঁদের নতুন 'নিম টুথপেস্ট'-এর গুণাগুণ উল্লেখ করা হয়েছে এই এই বিজ্ঞাপনে (Old Bengali ADs)।
সেই সময় বিভিন্ন স্বদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে প্রায় নব্বইটি সংস্থার হয়ে বিজ্ঞাপন করেছিলেন তিনি। অনেকে বলেন, বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সংগ্রহই ছিল তাঁর বিজ্ঞাপন জগতে আসার কারণ। তবে এইসব বিজ্ঞাপন থেকে পারিশ্রমিক হিসাবে রবীন্দ্রনাথ সত্যিই কোনও অর্থমূল্য নিতেন কী না সে ব্যাপারে ধোঁয়াশা রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের সাথে হেমেন্দ্রমোহন বসুর কুন্তলীন তেলের সম্পর্ক তো এক সময়ে প্রবাদে পরিণত হয়েছিল। কুন্তলীন তেলের প্রচারে রবীন্দ্রনাথ একটি জিঙ্গলও লিখেছিলেন- “কেশে মাখ ‘কুন্তলীন’/রুমালেতে ‘দেলখোস’ /পানে খাও ‘তাম্বুলীন’/ ধন্য হোক্ এইচ বোস।’ উপরের বিজ্ঞাপনটি সেই 'কুন্তলীন' কেশ-তেলের (Old Bengali ADs)। বিজ্ঞাপনটিতে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল কনজিউমার হিসাবে বিশ্বকবির নাম আর প্রশংসাবাক্যও, "কবীন্দ্র রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন :- কুন্তলীন ব্যবহার করিয়া এক মাসের মধ্যে নূতন কেশ হইয়াছে।"

উপরের বিজ্ঞাপনটি বোর্ন-ভিটার। এ বিজ্ঞাপনেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম ব্যবহার করা হয়েছে (Old Bengali ADs)। বিজ্ঞাপনে কবির স্বহস্তে লেখা চিঠিতে দেখা যাচ্ছে তিনি লিখেছেন, "বোর্ন-ভিটা সেবনে উপকার পাইয়াছি।"

সেই সময় ডট পেন, জেল পেন ছিল না, ছিল ঝর্না কালি। বিদেশি কোম্পানির পেনের সাথে পাল্লা দিতে অনেকটা কসরত করতে হয় বাংলার নিজস্ব ‘সুলেখা' ঝর্না কালিকে। সুলেখা কালির জন্য সেসময় উপরের এই বিখ্যাত বিজ্ঞাপনটি লিখে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

স্বদেশি বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি 'কে এল এম রয়াল ডাচ' এয়ারলাইন্সের জন্য এই বিজ্ঞাপনটি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। রয়াল ডাচ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ সেই বিজ্ঞাপন 'গুরুদেবের বিমান যাত্রা' শিরোনামে বিশ্বভারতী পত্রিকায় প্রকাশও করে।