
শেষ আপডেট: 30 November 2020 18:30
'বড়া পাও', জনপ্রিয় এই স্ট্রিটফুডটির নামের পিছনে সত্যিই লুকিয়ে আছে একটা অন্যরকম গল্প, যা অনেকেরই অজানা। খুব বেশি আগের কথা নয়। গত শতাব্দীর ষাটের দশকের মাঝামাঝি। আজকের মুম্বই তখনও বম্বে। এই বম্বে শহরের চারপাশে ছড়িয়ে ছিল একের পর এক ছোট বড় কাপড়ের মিল। শ্রমিক সংখ্যাও নেহাত কম নয়। হাড়ভাঙা খাটুনি আর কম মজুরির এই শ্রমিকদের ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্য ভরসা করতে হত রাস্তার স্ট্রিট ফুডের উপরেই। কিন্তু কম পয়সায় পেট ভরবে এমন খাবার রাস্তার স্টলে মেলে কই! সেসময় বম্বের পথেঘাটে পোহা বা বড়ার মতো কিছু খাবার পাওয়া যেত ঠিকই, কিন্তু সেসব খেয়ে সারাটা দিন পেট ভরানো বেশ মুশকিল।
এই শিল্প তালুকগুলোর পাশেই একটা ছোট্ট খাবারের দোকান চালাতেন অশোক বৈদ্য। প্রচলিত পোহা, বড়া এসবই বিক্রি করতেন তিনি। দিনের পর দিন রাস্তায় খাবার বিক্রি করে একটা জিনিস অশোকবাবু বুঝেছিলেন, দিন আনি দিন খাই শ্রমিকদের জন্য কম পয়সায় ঠিকঠাক পেটভরা খাবারের খুব অমিল। এমন একটা খাবার দরকার যেটা পেটও ভরাবে, আবার পকেটসাশ্রয়ীও হবে।
সেটা সম্ভবত ১৯৬৬ সাল। একটা অদ্ভুত কাজ করে বসলেন অশোক বৈদ্য। কিছুটা এক্সপেরিমেন্টের ছলেই আলুর পুর দেওয়া মশলাদার মোটাসোটা বড়াকে তিনি চালান করে দিলেন দুটুকরো মোটা পাঁউরুটির ভিতর। আর চাটনি সহযোগে পরিবেশন শুরু করলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই হু হু করে জনপ্রিয় হতে শুরু করল সেই নতুন খাবার। জনপ্রিয়তা এতই বাড়ে, যে অশোকবাবুর ছোট দোকানটির সামনে সকাল থেকে রাত অব্দি লম্বা লাইন পড়তে শুরু করে মিল-শ্রমিকদের। শুধু শ্রমিকেরাই নয়, পথচলতি সাধারণ মানুষও মজছিল এই নতুন স্বাদে। স্বাভাবিকভাবেই অশোক বৈদ্যের দেখাদেখি আশেপাশের দোকানদারেরাও উৎসাহিত হয়ে পড়েন এই নতুন বড়া-পাও বিক্রি করার জন্য। বাকিটা তো ইতিহাস।
১৯৯৮ এর ৬ জুলাই মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা যান অশোক বৈদ্য। ততদিনে অবশ্য তাঁর কল্যাণে অমরত্ব পেয়েছে 'বড়া পাও'। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর খাবারের দোকানটি এখন চালান অশোকবাবুর ছেলে নরেন্দ্র বৈদ্য। এখনও যেকোনও দিন দাদার রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আপনিও সেই প্রথম বড়া-পাও ফ্যামিলির জনপ্রিয় গরমাগরম বড়া পাওয়ের স্বাদ নিতে পারেন।
শ্রমিকদের ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের জন্য দেশে বিদেশে কম খাবার তৈরি হয়নি। কিন্তু গত ৫০ বছর ধরে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে বড়া-পাও যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। এতটাই সেই জনপ্রিয়তা যে, প্রতিবছর ২৩ অগস্ট নিয়ম করে বিশ্ব বড়া-পাও দিবস পালন করা হয়। বিদেশি বার্গারের এই ভারতীয় সংস্করণটি এখন আর নিছক 'স্ট্রিট ফুড'এর তকমায় আবদ্ধ নেই৷ দেশে বিদেশের একাধিক নামীদামি রেস্তোরাঁতেও সে নিজের জায়গাটি পাকা করে নিয়েছে, অবলীলায়... সগর্বে।