Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

কেন বিষধর সাপ জ্যান্ত গিলে খেত এক মানুষ, দেড় হাজার বছর আগে!

রূপাঞ্জন গোস্বামী আমেরিকার টেক্সাসের লোয়ার পিকোস গিরিখাত অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য শুরু হয়েছিল ১৯৬০ সাল নাগাদ। পরবর্তীকালে সেখানে জলাধার তৈরি হওয়ার পর, গিরিখাতটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলে ডুবে গেলেও প্রত্নতাত্বিকদের জন্য সংরক্ষিত স্থানটি

কেন বিষধর সাপ জ্যান্ত গিলে খেত এক মানুষ, দেড় হাজার বছর আগে!

শেষ আপডেট: 10 April 2020 16:40

রূপাঞ্জন গোস্বামী
আমেরিকার টেক্সাসের লোয়ার পিকোস গিরিখাত অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য শুরু হয়েছিল ১৯৬০ সাল নাগাদ। পরবর্তীকালে সেখানে জলাধার তৈরি হওয়ার পর, গিরিখাতটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলে ডুবে গেলেও প্রত্নতাত্বিকদের জন্য সংরক্ষিত স্থানটি সুরক্ষিত ছিল। কারণ, এই অঞ্চলের পর্বতের গুহায় পাওয়া গিয়েছিল প্রাচীনযুগের মানুষদের আঁকা গুহাচিত্র থেকে শুরু করে তাদের তৈরি হস্তশিল্প। যার মধ্যে ছিল গাছের আঁশ থেকে তৈরি করা চটি , ঝুড়ি, রঙ করা নুড়ি, পাথরের গয়না, আরও কত কি। টেক্সাসের প্রত্নতাত্বিক, মিস এলানোর সন্ডারম্যান কয়েকবছর  আগে লোয়ার পিকোস গিরিখাত অঞ্চলে গিয়েছিলেন তাঁর গবেষণার কাজে। এই এলাকায় বসবাসকারী প্রাচীন মানুষদের জীবনযাত্রার আরও কিছু নমুনা খোঁজার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। গভীর গিরিখাতের ভেতরে থাকা দূর্গম গুহাগুলিতে কয়েক হাজার বছর ধরে বাস করত মানুষগুলি। এলানোর সন্ডারম্যান, রক ক্লাইম্বিং করে বিভিন্ন গুহায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন। [caption id="attachment_207299" align="aligncenter" width="1024"] লোয়ার পিকোস গিরিখাত।[/caption] তিনি দেখেছিলেন, কোনও কোনও গুহাকে টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করত মানুষগুলি। সেরকমই একটি গুহা থেকে সন্ডারম্যান খুঁজে পেয়েছিলেন, ফসিল হয়ে যাওয়া মানুষের মল। প্রত্নতাত্বিকদের পরিভাষায় যাকে বলা হয় কর্পোলাইটস। উত্তেজনায় সেই রাতে ঘুমাতে পারেননি সন্ডারম্যান। পরদিন মানুষের মলের ফসিলটি পরীক্ষা করে সন্ডারম্যান জানতে পেরেছিলেন, মলের ফসিলটির প্রায় দেড় হাজার বছর পুরানো। প্রত্নতাত্বিকদের কাছে মানুষের মলের ফসিল বা কর্পোলাইটস অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি বস্তু। কারণ, মানুষের মলের ফসিল থেকে সবসময়েই আশ্চর্যজনক কিছু তথ্য পাওয়া যায়। দেড় হাজার বছরের পুরোনো মানুষের মলের ফসিল তাই সন্ডারম্যানের কাছে ছিল হীরের চেয়েও দামী। যেটি থেকে জানা যাবে, দেড় হাজার বছর আগের ভৌগলিক পরিবেশ, উদ্ভিদ, প্রাণী, এমনকি আবহাওয়াও। জানা যাবে সেই সময়কার মানুষদের খাদ্যাভ্যাস। জানা যাবে মলটি যার, সেই মানুষটির সামাজিক অবস্থানও। [caption id="attachment_207300" align="aligncenter" width="1024"] লোয়ার পিকোস গিরিখাতে চলছে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান।[/caption]
কী জানা গিয়েছিল মলের ফসিলটি থেকে!
সন্ডারম্যানের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল 'জার্নাল অফ আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স' পত্রিকায়। ১৫০০ বছর পুরানো মানুষের মলের ফসিল বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছিল, মানুষটি খেত ইউক্কা গাছের ফুল। কারণ, গাছটির ফুলের রেনু পাওয়া গিয়েছিল তার মলে। মলে পাওয়া গিয়েছিল চামড়া না ছাড়িয়ে, রান্না না করে খাওয়া ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর হাড় এবং লোম। জানা গিয়েছিল সেই সময়ে লোয়ার পিকোস গিরিখাত অঞ্চলের মানুষরা, খরগোশ, কাঠবেড়ালি, কুকুর, সজারু, বিভার, গিনিপিগ শিকার করে কাঁচাই খেয়ে নিত। মলের ফসিল থেকে সন্ডারম্যান পেয়েছিলেন আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে তথ্যটি চমকে দিয়েছিল বিশ্বকে। মলের ফসিল থেকে পাওয়া গিয়েছিল বিষধর সাপের বিষদাঁত। পাওয়া গিয়েছিল বিষধর সাপটির খুলির অংশ এবং হাড়ও। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল প্রত্নতাত্বিক মহলে। সাপের দাঁতটি পরীক্ষা করে জানা গিয়েছিল সাপটি অত্যন্ত বিষধর Viperidae শ্রেণীর। সম্ভবত মানুষটি 'ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটল স্নেক' নয়ত 'কপারহেড সাপ' জীবন্ত গিলে খেয়েছিল। এই দুই ধরণের বিষধর সাপই লোয়ার পিকোস গিরিখাতে পাওয়া যায়। যে সাপগুলির এক ছোবলে মানুষ কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যায়, সেই সাপ আস্ত গিলে খেয়ে মানুষটি সুস্থ্য অবস্থায় মলত্যাগ করেছিল। আর এতেই চোখ কপালে উঠেছে জীববিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের। তাঁদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল বিষাক্ত সাপটিকে জীবন্ত অবস্থায় গিলে ফেলার সময় কি সেটি ওঝার মুখের ভেতরে বা পাকস্থলীতে গিয়ে ছোবল মারেনি! বিষ ঢেলে দেয়নি ওঝার শরীরে! [caption id="attachment_207306" align="aligncenter" width="1024"]
ইনসেটে মলের ফসিল, যার ভেতরে পাওয়া গেছে ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেকের আস্ত কঙ্কাল।[/caption]
কেন বিষধর সাপ আস্ত গিলে খেতো মানুষটি!
খাদ্যের অভাবের পৃথিবীর বহু জায়গার মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে সাপ খেয়ে আসছেন। পুড়িয়ে বা রান্না করে করে বিষাক্ত সাপও খাওয়ার চল আছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। তবে সেক্ষেত্রে সাপের মাথা, হাড়, বিষদাঁত ফেলে দেওয়া হয়। লোয়ার পিকোস গিরিখাত অঞ্চলের গুহায় থাকা মানুষেরাও সাপ খেতো। কারণ এর আগেও লোয়ার পিকোস গিরিখাতে মানুষের মলের ফসিল খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। সেই সমস্ত ফসিলে সাপের হাড়গোড়ও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই সাপগুলি ছিল বিষহীন। কোনও মলের ফসিল থেকেই বিষধর সাপের দাঁত বা দেহাবশেষ মেলেনি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মনে জেগেছিল, তাহলে কি ১৫০০ বছর আগে লোয়ার পিকোস গিরিখাত অঞ্চলে একজন মানুষই বিষাক্ত সাপ জীবন্ত খেত। কে সে, কেনই বা খেতো বিষধর সাপ! লোয়ার পিকোস এলাকায় পাওয়া গুহাচিত্রে দেখতে পাওয়া গিয়েছে সেই যুগের ওঝাদের ছবি। লোয়ার পিকোস রক আর্ট নিয়ে বহুদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন ক্যারোলিন বয়েড। তিনি জানিয়েছেন, সেই যুগে, ওঝারা সমাজের অনান্য মানুষদের চেয়ে নিজেদের অবস্থানকে উঁচু করে দেখাতে ভয়ঙ্কর কিছু খাবার খেত। যেমন ক্যাকটাস, ধারালো পাথর, বিষাক্ত উদ্ভিদ ও আরও অনেক কিছু। ক্যারোলিন বয়েডের অনুমান, সন্ডারম্যানের খুঁজে পাওয়া মলের ফসিলটি হয়ত সেরকমই কোনও ওঝার। সন্ডারম্যানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল ক্যারোলিন বয়েডের অনুমান। সন্ডারম্যানের গবেষণা থেকে জানা গিয়েছিল, দেড় হাজার বছর আগেকার সেই ওঝা ধর্মীয় রীতিনীতি বা ঝাড়ফুঁকের অঙ্গ হিসেবে বিষধর সাপ জীবন্ত গিলে খেতো। বিষধর সাপ জীবন্ত খেয়ে ওঝা তার উপজাতির মানুষদের কাছে প্রমান করতে চাইত, একমাত্র সেই দৈব ক্ষমতার অধিকারী, সেই ঈশ্বরের একমাত্র প্রতিনিধি। সাধারণ মানুষ যা পারেনা, তা সে অনায়াসে করতে পারে।
কল্পনাতে ফিরে চলুন দেড় হাজার বছর আগে
লোয়ার পিকোস গিরিখাতের অন্দরমহলে নেমেছে মিশকালো রাত। রাতের আঁধারে সীতার অগ্নিপরীক্ষার মত চলছে ওঝার দেবত্ব পরীক্ষা। আকাশে টিমটিম করছে রাহুর আধ খাওয়া চাঁদ। পেঁচা ও বাদুড়েরা ড্রামের আওয়াজের প্রতি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে ডানা ঝাপটিয়ে উড়ছে আকাশে। মাটিতে জ্বলছে পশুর চর্বি আর গাছের আঁশ দিয়ে বানানো মশাল। কয়েকশো অর্ধনগ্ন নারী পুরুষ, বৃত্তাকারে একজন মানুষকে ঘিরে নেচে চলেছে ক্লান্তিহীন ভাবে। মানুষটি সেই সর্বশক্তিমান ওঝা। ঈশ্বরের পরেই যার স্থান। একসময়, ওঝা ঝুড়ি থেকে বের করে আনে ছোট্ট একটি সাপ। বিষধর সাপটিকে দেখে সভয়ে সরে যায় নৃত্যরত নারী পুরুষ। তারা জানে এই সাপের এক ছোবলে মৃত্যু অনিবার্য। দ্রুত লয়ে বাজতে শুরু করে ড্রাম। বিষধর সাপটিকে ধরে একটু একটু করে গিলতে শুরু করে ওঝা। সাপটির লেজ ওঝার মুখের চারদিকে অক্টোপাসের মত ঘুরতে থাকে। একসময় সাপটি পুরো গিলে ফেলে ওঝা। তারপর হঠাৎই চমকে উঠে শুরু করে তার তান্ডব নৃত্য। সে নৃত্য দেখে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত উপজাতীয় নারী পুরুষেরা। ওঝা বুঝতে পারে, পাকস্থলীতে গিয়ে ছোবল মেরেছে সাপটা। তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। হাতে আর বেশী সময় নেই। ওঝার দেহের শিরা ধমনীর রক্তে নাচতে শুরু করেছে সাপের বিষ। হিমশীতল ঘাম গড়িয়ে পড়তে থাকে ওঝার শরীর থেকে। বিষক্রিয়ায় চোখ লাল, নাক মুখ দিয়ে ফেনা ঝরছে। নাচতে নাচতে অবসন্ন হয়ে পড়ে ওঝা। মাঠ ছেড়ে এবার পাহাড়ের ওপরে থাকা দৈব গুহার দিকে এগোতে থাকে সে। সমবেত জনতা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে ওঝার দিকে। রাতের আকাশে জেগে থাকা নক্ষত্রদের আলো গায়ে মেখে, দৈব গুহায় পৌঁছাবার জন্য হামাগুড়ি দেয় ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়া ওঝা। কোমরে বাঁধা পুঁটলি থেকে কী একটা জড়িবুটি বের করে চিবাতে থাকে। এই জড়িবুটি চিবিয়ে গত বছরের বিষাক্ত সাপটাকেও হজম করে ফেলেছিল সে। পরদিন সকালে নিজের মলে থাকা সাপটির বিষদাঁত সবাইকে সগর্বে দেখিয়েছিল ওঝা। মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছিল উপজাতির মানুষেরা।  ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নিয়েছিল তাকে। কিন্তু আজ কী হবে! জ্ঞান হারাতে বসা ওঝা জানে, যদি সে আগামীকালের সূর্যোদয় দেখতে পায়, তাহলে আরও এক বসন্তের জন্য ঈশ্বরের প্রতিনিধি হওয়া নিশ্চিত। আরও একবছর ধরে ঝাড়ফুঁকের বুজরুকি দেখিয়ে চলবে অঢেল সম্পদ ও নারী ভোগ। তাই মরণখেলায় শেষ চালটা দিয়ে ফেলেছে সে। কিন্তু কিস্তিমাতের চাল কে দেবে, জীবন না মৃত্যু! সেই প্রশ্নের উত্তর ওঝা জানে না, কারণ উত্তর দেবে পরের দিনের সূর্য।

```