
শেষ আপডেট: 9 November 2020 10:40
রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুল।[/caption]
তখনকার উইলিংডন বা এখনকার রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আঙিনায় রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুলের জন্ম হলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকানা পাল্টাতে হয়। হাসপাতাল সম্প্রসারিত হতে থাকে। আবার হাসপাতালের মধ্যে স্কুলের ছাত্রদের নিয়মিত আসাযাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। কাছাকাছির মধ্যে ডক্টরস্ লেনে একটা ভাড়াবাড়ি পাওয়া গেল। কাজ চালিয়ে যাওয়া গেলেও যথেষ্ট নয়। সেই সময় রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন রমেশচন্দ্র সেনগুপ্ত। ১৯২৭ থেকে ১৯৪৪ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। উদ্যমী মানুষ। কাছাকাছির মধ্যে লেডি হার্ডিঞ্জ রোডের একটা বাংলো পাওয়া যাওয়ায় সাময়িকভাবে স্থানসমস্যার সমাধান হল। তবে রমেশচন্দ্র সেনগুপ্তের নিরলস প্রচেষ্টায় নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কমিটির (এনডিএমসি) কাছ থেকে রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুল পেল স্থায়ী ঠিকানা। এনডিএমসি বিনা ভাড়ায় গোল মার্কেট এলাকার মন্দির মার্গে অবস্থিত একটি বাড়ি ও লাগোয়া জমি রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুলের হাতে তুলে দিল। ১৯৩২-এর ২২ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনামায় সরকারের সিলমোহর পড়ে। রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুল আজও সেই ঠিকানায় অবস্থিত।
১৯৮৫-তে সম্প্রসারিত হল রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুল। মূল প্রাঙ্গণে নয়, বরং অনেক দূরে শহরের অন্য প্রান্তে অবস্থিত চিত্তরঞ্জন পার্কে স্থাপিত রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুলে এখন হাজার দেড়েক ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুল, চিত্তরঞ্জন পার্ক ১৯৮৮-তে সরকারি অনুমোদন পায়।
১৮৮৭-তে শিমলা-য় স্থাপিত হয়েছিল বেঙ্গলি বয়েজ্ হাইস্কুল। দেশের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শিমলায় ১৯৩৪-এর ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় স্থির হল যে দিল্লিতেও একটা নতুন বয়েজ্ হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভারত সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ফলে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বেশি সময় লাগেনি। ১৯৩৯-এর ১৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ন অ্যাকাডেমির উদ্বোধন হয়। ঠিকানা : রাজাবাজার, নতুন দিল্লি। কোথায়? কনট প্লেস থেকে শহিদ ভগৎ সিং মার্গ ধরে গোল মার্কেট যাওয়ার পথে বাঁ দিকে শিবাজী স্টেডিয়ামের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন অ্যাকাডেমি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল। ১৯৪১ থেকে স্কুলটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭৭-এ বারো ক্লাসের স্কুল শিক্ষা প্রবর্তন হলে ইউনিয়ন অ্যাকাডেমি হয়ে যায় ইউনিয়ন অ্যাকাডেমি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল।
[caption id="attachment_274898" align="aligncenter" width="450"]
বিনয়নগর বেঙ্গলি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল।[/caption]
মনিকা সেন একসময় শিক্ষকতা করতেন। বাংলা ভাষা সংস্কৃতি সাহিত্য ইত্যাদির প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৫২-র ১১ নভেম্বর ৬ জন ছাত্রকে নিয়ে নিজের আবাসনেই একটি স্কুলের গোড়াপত্তন করে ফেললেন। সেদিনের সেই এক কামরার শিক্ষায়তন এখন বিনয় নগর বেঙ্গলি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল নামে সুপরিচিত। ছাত্র সংখ্যা বাড়তে থাকায় দরকার হল বড় জায়গা। সরকারি আবাসন পরিপূর্ণ সরোজিনী নগর, বিনয় নগর, লক্ষীবাই নগর এলাকায় জমি পাওয়া কি চাট্টিখানি কথা! কিন্তু যথাযথ উদ্যোগ এবং কঠোর পরিশ্রম যে কোনও কঠিন কাজকেও সফল করতে পারে। সরকারের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পর দরকার হল বাড়ি তৈরির টাকা। প্রথম দিকে টাকার অভাবে নতুন জমিতে তাঁবু খাটিয়ে চলল লেখাপড়ার কাজ। তারপর আস্তে-ধীরে তৈরি হল নিজস্ব বাড়ি। ফলাফল : বারোশোর বেশি ছাত্রছাত্রীর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় আজকের বিনয় নগর বেঙ্গলি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল।
মোতি বাগে অবস্থিত বিধানচন্দ্র বিদ্যালয় ১৯৬২-র ১ জুলাই স্থাপিত হয়। ঠিকানা : জে ব্লক, শান্তিপথ, চাণক্যপুরী। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভারতরত্ন ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানানোর জন্য তাঁর জন্মদিনকেই স্কুলের উদ্বোধনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্য সমাপতন! ওইদিনই মানে ১৯৬২-র ১ জুলাই ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা ছিল। তাঁবুতে ক্লাস হত। ছাত্র জনা পঞ্চাশ। সেদিনের সেই ছোট্ট বিদ্যায়তন আজ তিনতলা অট্টালিকায় এক হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখন মানবিক বিদ্যা (humanities), বাণিজ্য (commerce), এবং বিজ্ঞান (science) বিভাগে পড়াশোনা করা যায়।
লোদী রোড এলাকার সরকারি আবাসনে প্রথম থেকেই প্রচুর বাঙালি কর্মচারীর বসবাস। দেশভাগের পর লোদী কলোনিতে দোকান বাজার গড়ে উঠলেও স্কুলের অভাব। সরকারের কর্মচারীরা উদ্যোগ নিলেন। ১৯৪৮-এ ১৭-এ লোদী এস্টেট ঠিকানায় গড়ে উঠল শ্যামাপ্রসাদ বিদ্যালয়। প্রথম পর্যায়ে মাধ্যমিক হলেও এখন উচ্চমাধ্যমিক।
দিল্লির বাংলা স্কুলগুলি বাঙালির উদ্যোগে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য গড়ে উঠেছিল। তবে সময়ের তাগিদে সবগুলি স্কুলেই এখন ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়।
চেনা দিল্লির অচেনা কাহিনি জানার জন্য ক্লিক করুন নীচের লাইনে