
শেষ আপডেট: 12 October 2022 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ১৯৯০। নভেম্বর মাস। লাল মাটির দেশ বোলপুরে জাঁকিয়ে বসেছে শীতের আমেজ। নতুন ছবি 'আগন্তুক'-এর শ্যুটিং শুরু হবে, আর সেই কাজেই শান্তিনিকেতন এসেছেন ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির সৌম্যদর্শন ভদ্রলোক। শরীর ভালো নেই, হার্টের অসুখ ধরা পড়েছে ততদিনে। তবু বোলপুর এসেই তিনি সটান হাজির আনন্দধারায়। ছবির শেষদিক সাঁওতালি নাচের একটা দৃশ্য রয়েছে। সেভাবেই তৈরি হয়েছে চিত্রনাট্য। শ্যুটিং হবে বোলপুরেই। কিন্তু লোকেশন? আর্টিস্ট? এত সবের ঠিকঠাক ব্যবস্থা হবে তো?
ব্যবস্থা হয়েছিল। সেদিন সত্যজিৎ রায়ের অনুরোধে সাঁওতালি নাচের সমস্ত দায়ভার নিখুঁতভাবে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন যে লাজুক সুরেলা মানুষটি, তাঁর নাম কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Kanika Bandyapadhyay)।

বাবা মা নাম দিয়েছিলেন ‘অণিমা’। ১৯৩৫ সালে রবীন্দ্রনাথ সেই নামটি বদলে নতুন নাম রাখেন ‘কণিকা’। সে বছরই শান্তিনিকেতনে শারদোৎসবের এক অনুষ্ঠানে বালক-বালিকাদের দলে অংশ নিয়েছিলেন কণিকা। তারও আগে কালবৈশাখীর সন্ধ্যায় উত্তরায়ণের বাগানে আম চুরি করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ছোট্ট মেয়েটার। সেইদিনই প্রথমবার কচি গলায় বৃষ্টির গান শুনিয়ে মন জয় করেছিলেন গুরুদেবের।
কণিকার জন্ম বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে। অসম্ভব সুন্দর গানের গলা ছিল মা অনিলা দেবীর। বিশ্বভারতী গ্রন্থাগারে চাকরি করলেও বাবা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায়ের আসল নেশা ছিল এস্রাজ বাজানো। বিষ্ণুপুরী ঘরানার সংগীতপ্রজ্ঞার উত্তরাধিকার পেয়েছিল বড় মেয়ে কণিকাও। গান ছিল তাঁর সহজাত কবচকুণ্ডল। পাশাপাশি শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছানুসারে অভিনয় আর নাচের তালিমও নিতে হল। 'তাসের দেশ', 'ডাকঘর', 'বিসর্জন'-এর মতো নাটকে অভিনয়ও করলেন কণিকা (Kanika Bandyapadhyay)।
১৯৩৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। প্রথমবার গানের রেকর্ড বের হল ১৪ বছরের কিশোরী কণিকার। নীহারবিন্দু সেনের কথায় ও হরিপদ চট্টোপাধ্যায়ের সুরে গানদুটি ছিল 'ওরে ওই বন্ধ হল দ্বার' ও 'গান নিয়ে মোর খেলা'। জীবনে প্রথম রেকর্ড, তাও রবীন্দ্রসংগীতের বদলে আধুনিক গান? আঘাত পেলেন রবীন্দ্রনাথ। গান শুনে গুরুদেব কষ্ট পেয়েছেন জানতে পেরে কণিকাও শপথ করলেন আর কখনও আধুনিক গান গাইবেন না। কিশোরীবেলার সে শপথ আজীবন অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত জগতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গায়িকাদের অন্যতমা কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Kanika Bandyapadhyay)।