
শেষ আপডেট: 10 June 2019 07:15
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে সৌদি আরব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিক থেকে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছে। বাকি দেশগুলি হল চিন, ইরান, ভিয়েতনাম ও ইরাক। সৌদি আরবে শুধু গত বছর ১৪৯ জনকে মুণ্ডচ্ছেদ কর হয়েছে।
এই বছরে এখনও পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। এর মধ্যে শুধু এপ্রিলেই ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মানুষের দেহ প্রকাশ্য রাস্তায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য।
বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরব ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। এদের মধ্যে আছে তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরিন, সিরিয়া, ইরান, জর্ডন, আলজেরিয়া, মরক্কো, ইরাক, কুয়েত, মৌরিতানিয়া, ওমান, সোমালিয়া, সুদান এমনকি সৌদি আরবও। আরব বসন্তের ঝড়ে সিংহাসনচ্যুত হন তিউনিশিয়ার স্বৈরশাসক জয়নাল আবেদিন বেন আলি, মিশরের হোসিনি মুবারক, ইয়েমেনের আলি আবদুল্লাহ সালেহ, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি সহ বিভিন্ন দেশের একনায়করা।
ছবির মাঝখানে কালো গেঞ্জি পরা মুর্তাজা[/caption]
একদিন, মুর্তাজার দাদা আলিকে বিক্ষোভরত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে সৌদি পুলিশ। আলির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শেষ হতেই, ক্ষোভে দুঃখে প্রতিবাদে নেমে পড়েছিল ১০ বছরের বালক মুর্তাজা। তিরিশ জন বালকের একটি সাইকেল বাহিনী নিয়ে। মুর্তাজার তোলা 'রাজতন্ত্র নিপাত যাক' স্লোগানে মুখরিত হয়েছিল এলাকা।
সেদিন থেকেই সৌদি প্রশাসনের দু'চোখের বিষ হয়ে উঠেছিল বালক মুর্তাজা। ওইটুকু বয়েসে সে সঙ্গীদের বোঝাত যতদিন রাজতন্ত্র থাকবে ততদিন সৌদি আরবের জনসাধারণের ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই। তার কথায় অনুপ্রাণিত হতে থাকে সমবয়সীরা, তাদের থেকে অনুপ্রাণিত হতে থেকে তাদের পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টির ওপর নজর রেখে চলছিল সৌদি গোয়েন্দারা।
এর পর মুর্তাজাকে রাখা হয় দাম্মামের জুভেনাইল ডিটেনশন সেন্টারে। বিচার শুরু হতে সময় লাগল ৪বছর। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে মুর্তাজার বিচার শুরু হওয়ার আগে তাকে আইনজীবী নিতেও দেওয়া হয়নি। এই চার বছর কিশোর মুর্তাজাকে জেলের একটি সেলে একলা রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন মুর্তাজার ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তদন্তকারী দল মুর্তজাকে বলেছিল, সে দোষ স্বীকার করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই ভাবে তাকে তার উপর চাপিয়ে দেওয়া দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
বিশ্বের আবেদনে আজ পর্যন্ত সাড়া দেয়নি সৌদি আরব। তাই আশঙ্কিত বিশ্বের মানবাধিকার সংঘঠনগুলি। তারা জানে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিদ্রোহ দমনের জন্য সৌদির প্রধান হাতিয়ার মৃত্যুদণ্ড। সে মানুষটি যে বয়েসেরই হোক না কেন। তবুও চেষ্টা চলছে সর্বস্তরে। সেই কিশোরকে বাঁচাবার জন্য, মাত্র ১০ বছর বয়সে যে হাতে তুলে নিতে চেয়েছিল গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা। এবং যে চলে গেলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে বিশ্বের।