অক্সফোর্ড বুকস্টোরে প্রকাশিত হল কার্তিকেয় বাজপেয়ীর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য আনবিকামিং’, যেখানে খেলা, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা এক সুতোয় জুড়ল।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 February 2026 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাহিত্য, দর্শন আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে শহরের বইপাড়ায় অন্যরকম আয়োজন। কলকাতার আইকনিক অক্সফোর্ড বুকস্টোরে (Oxford Bookstore) প্রকাশিত হল কার্তিকেয় বাজপেয়ীর প্রথম উপন্যাস 'The Unbecoming' যার ভূমিকায় স্বাক্ষর করেছেন দালাই লামা (Dalai Lama) এবং স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ (Swami Sarvapriyananda)। বইমেলায় না, তবু এই উদ্বোধনে সে রকমই সাহিত্যিক উত্তাপ ছিল বলে জানাচ্ছেন উপস্থিত সকলেই।
পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (Penguin Random House India) প্রকাশিত বইটির উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও লেখক বরুণ চন্দ (Barun Chanda)-সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে হওয়া নীরব, মননশীল কথোপকথন—যেন কলকাতার চিরন্তন ঐতিহ্য: চিন্তা, বিশ্বাস, সাহিত্য আর অন্তর্মুখী অনুসন্ধানের এক মিলনস্থল। বাজপেয়ীর উপন্যাসের দর্শনও যেন সেই সুরই তুলে ধরে।
লেখক কার্তিকেয় বাজপেয়ী বলেন, “দ্য আনবিকামিং আসলে সেই অনুধাবনের গল্প, যেখানে বোঝা যায়—আমাদের কষ্টের বড় অংশটাই তৈরি হয় ভয়ের ভিত্তিতে গড়া পরিচয়ে আঁকড়ে থাকার জন্য। এই পরিচয়ই মানুষকে সীমিত করে। তাই ফর্মলেস হোন, থটলেস হোন। নিজস্ব ইমেজ আর বাইরের প্রত্যাশা থেকে মুক্ত হোন।” তাঁর কথায়, আধুনিক জীবনে ‘ইনার ইনকোয়ারি’ (Inner Enquiry) জরুরি—এটাই মানুষকে সচেতন, স্থির আর স্পষ্ট করে।
বিচ্ছিন্নতা বা ‘ডিটাচমেন্ট’ (Detachment) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মায়া কাজ করে ভয় আর লোভ—এই দুই শক্তির মাধ্যমে। ডিটাচমেন্ট মানে পালানো নয়, বরং মনোযোগকে বাস্তবের দিকে ফেরানো।”
আলোচনায় উঠে আসে আধুনিক পরিচয় সংকট, উদ্দেশ্য বোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্থিতি আর ‘আনবিকামিং’-এর প্রক্রিয়া। উপস্থিত পাঠকেরা মন দিয়ে শুনলেন, প্রশ্ন করলেন—তাদের প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা গেল এই দর্শন কতটা জায়গা করে নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের মনে।
উপন্যাসের কেন্দ্রে দুই চরিত্র—সিদ্ধার্থ, এক বিখ্যাত ক্রিকেটার; আর অজয়, তাঁর কোচ। দীর্ঘদিনের গুরু-শিষ্য সম্পর্ক একসময় মুখোমুখি হয় প্রত্যাশা, ভয় আর পরিচয়ের বিভ্রমের। আখ্যানের সঙ্গে মেশে দার্শনিক প্রশ্ন, ভেতরের সত্য, আর ‘নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার’ শিল্প।
কার্তিকেয় বাজপেয়ী আদতে একজন খ্যাতনামা অ্যাডভোকেট (Advocate)। কর্পোরেট মার্কেটিং আর আইনের অভিজ্ঞতা যেমন আছে, তেমনই আছে বহু বছরের আত্মানুসন্ধানের অভ্যাস—ত্রাটক, ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন, মহামুদ্রা, মহাযান বৌদ্ধ অনুশীলন, মহাবতার বাবা্জির ক্রিয়া যোগ (Kriya Yoga)।
শৈশবে রাজ্যের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৪ জাতীয় ক্রিকেট (Cricket) দলে খেলেছেন। এখন ভারতীয় আইনজীবীদের ক্রিকেট দলের সদস্য। তাঁর প্রথম উপন্যাসে সেই অভিজ্ঞতা আর অন্তরের পথচলার মিলিত রূপ পাওয়া যাবে।