
নরেন্দ্র মোদী - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 March 2024 21:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির নির্যাতিতা তথা বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে মঙ্গলবার ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তিনি ফোন করেন কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী রাজমাতা অমৃতা রায়কে। এই ফোন করা নিয়ে এবার তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ মোদীর এই ফোনালাপ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন।
বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থীকে ফোন করে তাঁকে 'শক্তি স্বরূপা' বলে সম্বোধন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। আশা প্রকাশ করে এও বলেন, তিনি রেখা পাত্রকে সংসদে দেখতে চান। বুধবার কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে সরাসরি উঠে আসে তৃণমূলের প্রার্থী মহুয়া মৈত্রর নাম। এই নিয়ে চর্চা তো চলছেই। এবার তৃণমূল এই ইস্যুতে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলল নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে।
রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন, ''কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে মহিলা প্রার্থীদের ফোন করছেন নরেন্দ্র মোদী? প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে যদি এই ফোন কল হয় তাহলে তা বিরাট প্রকার নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের বিষয়।'' এই ব্যাপারে তিনি কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মোদীর এই ফোন কলের বিষয় নিয়ে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকেও নিশানা করেছে তৃণমূল। সাকেত গোখলের কথায়, ''নতুন পন্থায় নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করা হচ্ছে। কমিশন কি কোনও ব্যবস্থা নেবে না মোদী এইভাবেই নিয়ম ভাঙতে থাকবেন?'' প্রশ্ন তাঁর।
Which platform is @narendramodi making his phone calls to women candidates from? If he’s making calls from the Prime Minister’s office, it’s an even greater violation of the MCC. attention @ECISVEEP https://t.co/FLYVMRX59z
— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) March 27, 2024
কৃষ্ণনগরের রাজমাতার সঙ্গে মোদীর কী কথা হল? প্রধানমন্ত্রী এদিন রাজমাতাকে বলেন, “দেখুন ইদানীং লড়াই দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে আমরা আছি। যাঁরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাইছি। আর অন্য শিবিরে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা দুর্নীতিপরায়ণদের বাঁচাতে একজোট হয়েছেন। একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। ওঁদের কাছে দেশ অগ্রাধিকার নয়, ক্ষমতায় থাকাটাই অগ্রাধিকার।'' এরপর মহুয়া মৈত্রর প্রসঙ্গ টেনে রাজমাতা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “আমি লোকজনকে জিজ্ঞেস করেছি, মহুয়া মৈত্রর কী হবে? ওরা বলছে, (সাধারণ মানুষ) মহুয়াকে জেলেই যেতে হবে।” শুনে প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, “আচ্ছা, লোকে তাই বলছে?”
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই ফোনালাপের মাঝেই বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাজমাতাকে বলেন, ''বাংলায় ইডির লোকেরা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। আর এই টাকা গরিব মানুষের টাকা। নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পরই একটা আইনি ব্যবস্থা করতে হবে বা নিয়ম বানাতে হবে, যাতে গরিব মানুষ যে টাকা ঘুষ হিসাবে দিয়েছে, বা তাদের লুঠ করা হয়েছে তা তাদের ফেরত দিয়ে দেব।'' তৃণমূল এই ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরে এমন প্রতিশ্রুতি কী ভাবে প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেন, তা জানতে চায় তাঁরা।