
সন্দেশে ফুটেছে পদ্ম-ঘাসফুল, উড়ছে লাল ঝান্ডাও -নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 3 June 2024 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: ভোট মিটতেই সন্ত্রাসের খবর আসছে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে। তবে বাঁকুড়া শহরে পদ্ম-ঘাসফুল-কাস্তে হাতুড়ির সহাবস্থানই নজরে এল। জুনবেদিয়ার একটি মিষ্টির দোকানে পাশাপাশি সাজানো সন্দেশ। কোনওটায় পদ্মের প্রতীক, কোনওটায় জোড়া ফুল, কোনওটায় আবার কাস্তে হাতুড়ি। হানাহানি যাই হোক, ভোটে জিতলে বাঙালি মিষ্টিমুখ তো করবেই। সেই বিশ্বাসেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
এবার জেলার দু'টি কেন্দ্রেই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাঁকুড়া কেন্দ্রে বিজেপির বিদায়ী সাংসদ ডঃ সুভাষ সরকারের সঙ্গে জোরদার লড়াই তৃণমূলের জেলা সভাপতি অরূপ চক্রবর্তীর। ময়দানে রয়েছে বামেরাও। কুর্মি ভোটও এই কেন্দ্রে একটা ফ্যাক্টর। অন্যদিকে বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে প্রাক্তন স্বামী-স্ত্রী সৌমিত্র-সুজাতার লড়াইও জোরদার। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সিপিএমের প্রার্থী শীতল কৈবর্ত্যও। সব হিসেবনিকেশ করেই জুনবেদিয়ার ওই মিষ্টির দোকানে শোভা পাচ্ছে বিজেপি, তৃণমূল আর সিপিআইএমের প্রতীক আঁকা মিষ্টি।
ভোটের ফল ঘোষণা হবে কাল। তবে নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস মতো এখনই দলের প্রতীক আঁকা মিষ্টি কিনে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা। অনেকে আবার দেখে যাচ্ছেন। পছন্দের দল ভোটে জিতলে তবেই কিনবেন। এক-একটি মিষ্টির দাম ১৫ টাকা। সব মিষ্টিই বিক্রি হচ্ছে ভাল। তবে পদ্মের পাল্লা একটু ভারী। জানালেন দোকানের মালিক জয়দেব বরাট।
তিনি বলেন, "ভোটের আবহে আমরা মিষ্টির মাধ্যমে শান্তির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া মিষ্টি বাঙালির যে কোনও উৎসবের অনুষঙ্গ। ভোটে জিতলে মিষ্টি তো খাবেই। কম-বেশি সব প্রতীক আঁকা মিষ্টি বিক্রি আছে, তবে এই মুহূর্তে পদ্মফুল আঁকা মিষ্টির চাহিদাই সব থেকে বেশি।" মূলত খোয়া ও ছানার সঙ্গে 'সার্টিফায়েড রং' ব্যবহার করেই এই মিষ্টি তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।