
প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 5 June 2024 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিজেপির ভোট সম্ভাবনা নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের পূর্বানুমান মিলল না। উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র নিয়েও তাঁর অনুমান ডাহা ফেল করে গেল। তার ফলে প্রশান্ত কিশোর আকা (অলসো নোন অ্যাজ) পিকের বিশ্বাসযোগ্যতাই বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল।
গত লোকসভা ভোটে বাংলায় আঠারোটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। সেই ধাক্কা সামলাতে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছিলেন পিকে। তা এতটাই যে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠকের মঞ্চেও দেখা গেছিল তাঁকে। এহেন এবার লোকসভা ভোটের আগে দাবি করেছিলেন, বাংলায় ভাল ফল করবে বিজেপি। গত লোকসভা ভোটে তারা যত আসনে জিতেছিল, তার থেকে আসন কমবে না। এমনকি প্রশান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এও বলেছিলেন, সন্দেশখালির (Sandeshkhali) ঘটনা তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় ভরপুর অক্সিজেন যোগাবে।
কেবল একবার নয়, ধারাবাহিক ভাবে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে প্রশান্ত বলেছিলেন, “বিধানসভা ভোটে বিজেপির ফলাফল দেখে লোকসভার সম্ভাবনা বিচার করা ঠিক হবে না।” একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত এও বলেছিলেন, “দেখুন সন্দেশখালির মতো ঘটনা যখন ঘটে, যে যাই বলুক না কেন, শাসক দলের ক্ষতি হয়ই। তবে সন্দেশখালির মতো ঘটনা ঘটুক বা না ঘটুক এটা বাস্তব যে বাংলায় বিজেপি এখন বাড়ছে।”
এখানেই থামেননি পিকে। তিনি বলেছিলেন,“দিল্লিতে বসে অনেকে ভাবছেন বাংলায় বিজেপি খতম হয়ে গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও ভুল ভাবনা রাখবেন না। বিজেপি এখন বাংলায় খুব মজবুত একটা রাজনৈতিক শক্তি। এবং গত ১২-১৩ বছর সরকারের থাকার ফলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা যেরকম উত্তরোত্তর বাড়ছে, তার ফলে তাদের জমি ধরে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।” তাঁর বক্তব্য ছিল, “এই সব কারণেই মনে করছি যে উনিশের ভোটে বিজেপি বাংলায় যত আসনে জিতেছিল, তার থেকে কমবে না। বিধানসভা ভোটের তুলনায় বিজেপি বাংলায় অনেক ভাল ফল করবে। বেশ ভাল ফল করবে”।
প্রশান্ত কিশোরের সেই সব পূর্বানুমান বাংলায় তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। অনেকে রেগেও গেছিলেন। ঘটনা হল, প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের জন্য আর কাজ না করলেও আই-প্যাক এখনও জোড়াফুলের প্রচার ও কৌশল নির্ধারণের কাজ করে। তার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতীক জৈন। লোকসভার ভোট ফলাফলেই স্পষ্ট যে প্রতীকের নেতৃত্বে আই-প্যাকের এই টিমও প্রভাব ফেলার মতই কাজ করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে,প্রশান্ত কিশোর যে দম্ভ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলি বলছিলেন, তাতেই মনে হচ্ছিল তাঁর স্বার্থ রয়েছে। বিশেষ করে কারও কারও মনে হতে শুরু করেছিল যে পিকে বিজেপির মুখপাত্র হয়ে কাজ করছেন। লোকসভা ভোটের এই ফলাফলের পর প্রশান্তের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই এবার এক্সিট পোলের ফল প্রকাশ হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর একটি টুইট করেছিলেন। তাতেও তাঁর অহমের ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রশান্ত কিশোর তাতে লিখেছিলেন, এর পর থেকে ভোট বা রাজনীতির কথা বলতে হলে, খালি বসে থাকা ভুয়ো সাংবাদিক, বড় বড় কথা বলা নেতা আর সোশাল মিডিয়ায় স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞদের কথা শুনে সময় নষ্ট করবেন না।
অনেকের প্রশ্ন হল, এখন প্রশান্তের কথা শুনেই বা মানুষ সময় নষ্ট করবে কেন?