.webp)
উধমপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 April 2024 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে হিন্দুত্বের জিগির চওড়া হচ্ছে। রাজনীতির কথামালা ছেড়ে হিন্দুত্বের হিতোপদেশ শোনা যাচ্ছে তাঁর আক্রমণের ভাষায়। যেমন, শুক্রবার হিন্দু অধ্যুষিত জম্মুর উধমপুরে গিয়ে শ্রাবণ মাসে মাংস খাওয়া নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও আরজেডি সুপ্রিমো তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবকে চড়া আগুনে কষলেন প্রধানমন্ত্রী। দুই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলের নেতাকে মোঘলদের মতো `বিধর্মী`দের সঙ্গেও তুলনা করেন মোদী।
হিন্দু অধ্যুষিত জম্মুতে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি আছে। তাই সেখানে প্রচারে এসে মুসলিম শাসকদের সঙ্গে রাহুলের তুলনা টেনে হিন্দু ভোটে নাড়া দিলেন তিনি। মোদী কারও নাম না করে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের দুই শরিক শিবের মাস শ্রাবণে মাংস খাচ্ছেন। এসব কোনওদিন দেখেছে ভারতের মানুষ! আসলে এঁরা দেশের সংখ্যাগুরু মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পাত্তা দিতে চায় না।
মুঘলদের সঙ্গে এ জাতীয় নেতাদের তুলনা টেনে বলেন, এসব লোক দেশের মানুষকে উত্ত্যক্ত করতে চায়। যাতে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হয়, এটাই তাদের লক্ষ্য। উল্লেখ্য, গতবছর সেপ্টেম্বরে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। যাতে দেখা গিয়েছিল, লালুপ্রসাদ এবং রাহুল একসঙ্গে মাংস রান্না করছেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, কংগ্রেসের লোকজন এবং ইন্ডি জোটের শরিকরা দেশের অধিকাংশ মানুষের ভাবভক্তিকে তোয়াক্কা করে না।
তিনি আরও বলেন, ওরা মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। একজন মানুষ যিনি জেল খেটেছেন এবং জামিনে মুক্ত আছেন, ওঁরা তাঁর মতো অপরাধীর বাড়িতে বেড়াতে যান। শুধু তাই নয়, শ্রাবণ মাসের মতো পবিত্র মাসে একসঙ্গে মাংস রান্না করে ছবি তুলে মানুষকে দেখান। যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘৃণা তৈরি হয়।
তাঁর মতে, মুঘলরা যেমন ছিল, ঠিক তেমনই এরাও দেশের বেশিরভাগ মানুষকে উত্ত্যক্ত করে মজা পায়। মোদী বলেন, এটা ঠিক যে, আইনে কোথাও বলা নেই কে কী খেতে পারবেন, কী পারবেন না। কিন্তু এইসব লোকের উদ্দেশ্য অন্যরকম। দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, মুঘলরা যখন এদেশ আক্রমণ করেছিল, তখন তারা মন্দির ধ্বংস না করে শান্তি পায়নি। ওই মুঘলদের মতোই এই লোকগুলোও শ্রাবণ মাসে মাংস খেয়ে মানুষের বিরক্তি উদ্রেক করছে। কিছুদিন আগে তেজস্বী যাদবের মাছ খাওয়ার ছবি নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি।
নবরাত্রির সময় আমিষ খাচ্ছেন। সেই ভিডিও দেখিয়ে দেশের ভক্তিপ্রবণ মানুষের মনে আঘাত দিচ্ছেন আপনারা। এতে কাদের খুশি করতে চাইছেন, প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর কথায়, কংগ্রেস বলে বেড়াচ্ছে রামমন্দির হল বিজেপির ভোটের ইস্যু। কিন্তু, আমি বলছি, রামমন্দির ভোটের বিষয় নয়। বিজেপির জন্মের আগে থেকেই রামমন্দির আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।
কংগ্রেস, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি এবং অন্য সব দল জম্মু ও কাশ্মীরকে পুরনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। জম্মু ও কাশ্মীরের এতটা ক্ষতি আর কেউ করেনি যতটা পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি করেছে। এখানে রাজনৈতিক দল বলতে বোঝায়, পরিবারের, পরিবারের জন্য, পরিবারের দ্বারা। এই দলগুলি ক্ষমতার জন্য ৩৭০ ধারার এমন প্রাচীর তৈরি করেছিল যে অন্য রাজ্যের কেউ এখানে আসতে পারে না। একই সময়ে, মানুষের মধ্যে এমন একটি বিভ্রম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ৩৭০ ধারা বহাল থাকলেই তাদের জীবন রক্ষা পাবে। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদে মোদী ৩৭০ ধারার প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে এবং এর ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পুঁতে দিয়েছে।