
নরেন্দ্র মোদী- পি চিদাম্বরম
শেষ আপডেট: 30 May 2024 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-টোয়েন্টির ভাষায় বলতে গেলে লোকসভা ভোটে এখন স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউট চলছে। বল দেখো আর মারো। নরেন্দ্র মোদীর কোনও বলই আর তাই ছাড়ছেন না কংগ্রেস নেতারা। যে যেমন পারছেন ব্যাটে বলে করার চেষ্টা করছেন। এক, দুই যা রান ওঠে, কম কী!
প্রধানমন্ত্রী মোদী মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, কংগ্রেস কথায় কথায় এখন মহাত্মা গান্ধীর কথা বলে, কিন্তু গান্ধীকে গোটা দুনিয়ার কাছে তুলে ধরেনি। গান্ধীকে বিশ্ব জেনেছে রিচার্ড অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’ সিনেমাটি দেখার পর।
এখন যাঁদের বয়স পঞ্চাশ বা তার বেশি তাঁদের অনেকের কাছে অ্যাটেনবরোর তৈরি গান্ধী চলচ্চিত্রটি নস্টালজিক। দূরদর্শনে কতবার যে ওই ছবিটি দেখানো হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সে ভিন্ন বিষয়। মোদী যে প্রশ্ন তুলেছেন তা মৌলিক। মহাত্মা গান্ধীর প্রতি হঠাৎ তাঁর এত শ্রদ্ধা ও আগ্রহও কৌতূহল তৈরি করেছে। কারণ, নাথুরাম গডসের গুলিতে মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর পর ভারতবর্ষের অনেক মানুষ এখনও অন্তত বিজেপি-আরএসএসের মুখে গান্ধীর জীবন ও আদর্শ নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা শুনতে চান না।
তবে গান্ধী নিয়ে মোদীর এই দাবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে সন্দেহ নেই। সোশাল মিডিয়ায় ট্রোল করাও চলছে। বুধবার সন্ধেয় সর্বশেষ খোঁচাটি দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। টুইট করে চিদম্বরম লিখেছেন, “সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্য শুনে হতবাক হয়ে যাচ্ছি! উনি বলেছেন,যতদিন না রিচার্ড অ্যাটেনবরো ‘গান্ধী’ চলচ্চিত্রটি বানিয়েছেন, ততদিন মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে গোটা বিশ্ব জানত না।” চিদম্বরমের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী কি আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম শুনেছেন? প্রধানমন্ত্রী কি জানেন আলবার্ট আইনস্টাইন মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে কী বলেছিলেন?”
টুইটে চিদম্বরম বলেছেন, আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯৫৫ সালে মারা গিয়েছেন। আর অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’ চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে ১৯৮২। তাহলে কি আইনস্টাইন ওই চলচ্চিত্র দেখেই গান্ধী সম্পর্কে জেনেছিলেন?
ঘটনা হল, ১৯৩৯ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন মহাত্মা গান্ধীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বহু বিশেষণে গান্ধীকে ভরিয়ে দিয়েছিলেন আইনস্টাইন। তিনি লিখেছিলেন, “আমি বিশ্বাস করি যে গান্ধীর মতাদর্শ বর্তমান সময়ে সমস্ত রাজনীতিকদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানদীপ্ত। (I believe that Gandhi’s views were the most enlightened of all the political men of our time.)”
শুধু কি তাই! ১৯৫৮ সালের ৩০ জানুয়ারি হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। সেই প্রবন্ধে গান্ধীজির অহিংস নীতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের শ্রেষ্ঠ পথ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি।
১৯৩১ সালে ফরাসি নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক রোমা রোল্যাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল মহাত্মা গান্ধীর। রোমা রোল্যাঁ বলেছিলেন, “যীশু খ্রীষ্টকে যদি শান্তির যুবরাজ বলা হয়, তাহলে মহাত্মা গান্ধীরও সমমর্যাদা প্রাপ্য।”
চিদম্বরম অবশ্য মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বা রোমা রোল্যাঁর কথা বলেননি। আইনস্টাইনেই থেমে গেছেন। এবং বোঝাতে চেয়েছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ভোটের প্রচারে মহাত্মা গান্ধীর সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।