
শেষ আপডেট: 15 March 2024 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৎ ভাইকে নিয়ে সমস্যা নেই। রাজনীতির ত্রিসীমানা মারান না প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদবেব ছোট ছেলে প্রতীক। দাদা অখিলেশের সঙ্গে তাঁর দারুন সম্পর্ক। তবে প্রতীকে স্ত্রী অপর্ণা সম্পূর্ণ উল্টো চরিত্র। তাঁর প্রশ্ন, শ্বশুরের রাজনীতির উত্তরাধিকার কেন শুধু ভাসুর অখিলেশ এবং বড় জা ডিম্পলের হাতে থাকবে?
এই প্রশ্ন তুলে দু’ বছর আগে বিধানসভা ভোটের মুখে বিজেপিতে যোগ দেন অপর্ণা। উত্তর প্রদেশ বিজেপিতে জোর জল্পনা চলছে এবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে তাঁকে। বৃহস্পতিবার দিল্লিকে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গে অপর্ণার দীর্ঘ বৈঠক হয়। শুক্রবার দেখা করতে পারেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে।
বিজেপি সূত্রের খবর, অপর্ণাকে প্রার্থী করা হতে পারে উত্তর প্রদেশের মৈনপুরী আসনে। বর্তমানে সেখানকার প্রার্থী মুলায়মের বড় বউমা তথা অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল। মুলায়ম মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে ওই আসনে জিতেছেন ডিম্পল। এবারও শ্বশুরের আসনেই প্রার্থী হওয়ার কথা তাঁর। আর দলীয় সুপ্রিমো তথা ডিম্পলের স্বামী অখিলেশ প্রার্থী হবেন কনৌজ আসনে, এমনটাই কথা আছে।
গত বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিলেও অপর্ণাকে দল কোনও পদ দেয়নি। বিধানসভাতেও প্রার্থী করেনি। তবে তিনি দলের কাজ করে চলেছেন। লখনউয়ের ৫ কালীদাস মার্গের বাড়িতেই মুলায়মের দুই পুত্র বাস করেন। একই বাড়িতে বসে অপর্ণা বিজেপির জন্য রাজনীতি করে চলেছেন।
প্রতীক হল মুলায়মের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান। প্রতীকের স্ত্রী অপর্ণা। প্রথম স্ত্রী অর্থাৎ অখিলেশের মা মারা যাওয়ার পর সাধনার সঙ্গে সম্পর্ক হয় মুলায়মের। অখিলেশের জন্মের অল্পদিন পরই তাঁর মা মারা যান।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, অপর্ণার বিজেপিতে যোগদান নিয়ে মুলায়ম কোনও আপত্তি করেননি। এমনকী পদ্ম পতাকা হাতে নিতে যাওয়ার আগে শ্বশুরকে প্রণাম করতে গেলে অপর্ণাকে আশীর্বাদ করেছিলেন অসুস্থ মুলায়ম। এখন জোর জল্পনা চলছে, প্রয়াত শ্বশুরের আসনে লড়াই হতে পারে মুলায়মের দুই বউমার।
সৎ ভাই প্রতীককে নিয়ে অখিলেশ নিশ্চিন্তে থাকলেও প্রায়ই তাঁর দুই কাকাকে নিয়ে বিপদে পড়তে হয় তাঁকে। মুলায়ম বেঁচে থাকতেই তাঁর দুই ভাই দলের উত্তরাধিকার দাবি করে বসলে মুলায়ম তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেন, অখিলেশের রাস্তা খোলা রাখার জন্য।
আশ্চর্যের হল, শেষে বাবা মুলায়মকেই দলীয় সভাপতির পদ থেকে সরাতে অখিলেশকে পার্টির সম্মেলন ডেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে হয়েছিল। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি আসলে কে, এই প্রশ্নের মীমাংসা করতে শেষে বিরোধ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। ছেলের কাছে হেরে যান মুলায়ম।