
কেশপুর ও গড়বেতায় উত্তেজনা
শেষ আপডেট: 25 May 2024 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও শিরোনামে বাম আমলে বছরভর খবরে থাকা কেশপুর-গড়বেতা। শনিবার ষষ্ঠদফায় রাজ্যের আরও কয়েকটি কেন্দ্রের সঙ্গেই ভোটগ্রহণ করা হয় ঘাটাল ও ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রে। সকাল থেকেই দফায় দফায় তেতে ওঠে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কেশপুর। কখনও সিপিএমের কর্মীদের পার্টি অফিসে আটকে রাখার অভিযোগে তোলপাড় হয়। কখনও আবার বিজেপির প্রার্থী হিরণকে ঘিরে চলে তুমুল বিক্ষোভ। অন্যদিকে গড়বেতায় সকালে শান্তিতে ভোট মিটলেও বেলা গড়াতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ইটের ঘায়ে মাথা ফাটে বিজেপির ডাক্তার প্রার্থী প্রণত টুডুর রক্ষীর। জখম হন প্রার্থীও। ভাঙচুর হয় গাড়ি। অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
বাম জমানায় সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে কেশপুর-গড়বেতা। আওয়াজ উঠেছে 'কেশপুর-কেশপুর, সিপিএমের শেষপুর'। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দু'বারের সিপিএম বিধায়ক রামেশ্বর দোলুইকে পরাজিত করে কেশপুরে ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন তৃণমূলের শিউলি সাহা ৷ ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনেও তিনিই জয়ী হন৷ লালের বদলে সবুজ আবির ওড়ে কেশপুর-গড়বেতায়। তৃণমূলের নেতারা দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গড়ার পর থেকে কেশপুর সন্ত্রাসহীন হয়েছে৷ এখন আর রক্ত ঝরে না, ঘর পোড়ে না, মানুষকে জেলে যেতে হয় না।
সেই কেশপুর-গড়বেতাই আবার অশান্ত হল শনিবার। এদিন রাজ্যের আটটি কেন্দ্রে ভোট ছিল। কাঁথি-তমলুকে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অশান্তির ঘটনা ঘটলেও সকাল থেকেই দফায় দফায় অশান্তি হয় কেশপুরে।
কেশপুরের খেতুয়া বুথে সিপিএম পার্টি অফিসে রাতে ছিলেন চারজন কর্মী। তাঁরা পোলিং এজেন্ট। রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে পার্টি অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিপিএম নেতৃত্ব জানান, বারবার থানায় জানানোর পর তালা খোলা হয়। তাঁরা রওনা দেন বুথের দিকে।
সকাল থেকেই ফের তেতে ওঠে কেশপুর। ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ির সামনে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ,বুথে বুথে ঘুরে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেন বিজেপির প্রার্থী। এরই বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ। দীর্ঘক্ষণ বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। বাঁশ-লাঠি নিয়ে রীতিমতো মারমুখী ছিল তাঁরা। এই বিক্ষোভ ঘিরে তুমুল অশান্তি ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।
পরবর্তীতে চন্দ্রকোনা মেদিনীপুর রাজ্য সড়কেও রাস্তার উপর আগুন জ্বালিয়ে ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী হিরণকে আটকানোর চেষ্টা হয়। অভিযোগের আঙুল ওঠে কেশপুর ব্লকের ৫ নম্বর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি শেখ হাসানুর জামানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
একইভাবে দিনের শুরুটা ভাল হলেও বেলা গড়াতেই তেতে উঠল গড়বেতা। হামলার নিশানা হলেন ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ প্রণত টুডু। একটি বুথে ছাপ্পার খবর পেয়ে গড়বেতার ওই বুথে পৌঁছন ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডু। অভিযোগ, বুথের কাছাকাছি পৌঁছতেই তাঁর গাড়ির দিকে তেড়ে আসে একদল লাঠিধারী লোকজন। অভিযোগ, তাঁরা প্রার্থীকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে। তাতেই মাথা ফাটে বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তারক্ষীর। আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।
প্রণতের অভিযোগ, "তৃণমূলের সুবিধে করে দিতে রাজ্য পুলিশ বাহিনীকে মিসগাইড করছে। তার জেরেই এই অশান্তির ঘটনা।" তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছেই। কিন্তু যে কেশপুর-গড়বেতায় এখন শান্তি ফিরেছে বলে দাবি করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব, সেখানেই আবার জ্বলে উঠল অশান্তির আগুন।