
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা
শেষ আপডেট: 28 April 2024 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জঙ্গিদের সঙ্গে আপোস করছে, নির্বাচনী প্রচারে বারে বারে এই ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে বিজেপিকে। প্রচারে বঙ্গ বিজেপি থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সকলেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলতে ছাড়েনি। এবার সেই সুর শোনা গেল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার গলায়। বাংলায় ভোট প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে আপোস করে।"
লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রবিবার রাজ্যেরাজ্যে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। চলতি লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য বিজেপির হয়ে প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। তবে এই প্রথম রবিবার সভা করলেন জে পি নাড্ডা।
রবিবার দুটি সভা করার কথা রয়েছে তাঁর। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের জলিরবাগান মাঠে প্রথম সভা থেকেই এদিন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন নাড্ডা। বিজেপি প্রার্থী চিকিৎসক নির্মল কুমার সাহার সমর্থনে সভা করেন তিনি।
তৃণমূল সরকারের জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গে এদিন নাড্ডা বলেন, "মমতার সরকার বাংলার বদনাম করেছে। আমরা মজবুত সরকার তৈরি করতে চাই। আর মমতার সরকার তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে। ভেদাভেদ করে। জঙ্গিদের সহানুভূতি দেখায়।" বদলে কেন্দ্রের মোদী সরকারের প্রশংসায় তাঁর বক্তব্য, "যখন পাকিস্তান আমাদের উপর হামলা চালায় তখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সার্জিকাল স্ট্রাইক করে। মোদী সরকার আতঙ্কবাদীদের ঘরে ঢুকে মারে। ইউপিএ-র সময় যে সব কাশ্মীরি জঙ্গি ছিল তাদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিমন্ত্রণ করা হত। এটাই ছিল তখন মজবুত সরকারের নমুনা।"
এ যাবৎ কালে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের সঙ্গে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সন্দেশখালির ঘটনাকে বিরোধীদের সুর চড়ানোর অন্যতম বিষয় হতে দেখা গিয়েছে। এদিন জে পি নাড্ডাও সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে সরব হন। তাঁর কথায়, "শেখ শাহজাহানকে আড়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় নারী নির্যাতন হয়েছে। বাংলায় এখন মা-বোনোরা সুরক্ষিত নয়। সন্দেশখালি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।"
বহরমপুরে ভোটের প্রচারে সন্দেশখালিতে অস্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গও নাড্ডার বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘যেখানে রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা যেত সেখানে এখন গুলি-বোমার শব্দ শোনা যাচ্ছে। কোন পথে মমতা নিয়ে যেতে চাইছেন বাংলাকে ? ভয়, হুমকি দেখিয়ে ভোট জিততে চাইছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। সুভাষ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দরা কি এই বাংলাই দেখতে চেয়েছিলেন ?’ এদিনই নাড্ডার দ্বিতীয় সভা রয়েছে নদিয়ার বগুলা আইটিআই কলেজ মাঠে।