
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 1 April 2024 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে পাঁচ বছর ব্যাপী বিতর্কের অবসান হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। গত মাসে দেশের শীর্ষ আদালত ওই বন্ডকে বেআইনি এবং অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দিয়েছে। বন্ড বাবদ কোন ব্যক্তি/সংস্থা কোন দলকে কত টাকা দিয়েছে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সেই তথ্যও প্রকাশ করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মনে করেন, ইলেক্টোরাল বন্ড সঠিক ছিল। এতে অন্যায়ের কিছু ছিল না। আদালতের প্রসঙ্গ এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘২০১৮-র আগে কি রাজনৈতিক দলগুলি ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের কাছ থেকে টাকা পেত না?’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘পেত, কিন্তু সরকারিভাবে লেনদেন হত না। ইলেক্টোরাল বন্ড ছিল সরকারি লেনদেনের ব্যবস্থা। ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বন্ড কিনে আবার ব্যাঙ্ক থেকেই ভাঙিয়ে নেওয়া যেত।’
তামিলনাড়ুর একটি টিভি চ্যানেলকে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইলেক্টোরাল বন্ড আদালতের রায়ে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এটা কি সরকারের জন্য বড় ধাক্কা নয়?
প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘মোটেই না। আমার সরকার রাজনৈতিক দলগুলির অর্থ সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছিল। তাতে কোনও ভুলক্রটি হয়ে থাকলে তা শুধরে নেওয়া যেত। কিন্তু বাতিল হওয়ার ফল বিরোধীদেরই ভুগতে হবে।’
তবে কীভাবে বিরোধীরা বিপাকে পড়বে তা খোলসা করেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলির আয়ের উপর কোনও ধরনের সরকারি নজরদারি ছিল না। ইলেক্টোরাল বন্ড ব্যবস্থায় অন্তত স্টেট ব্যাঙ্কের কাছে সব তথ্য থাকত। ব্যাঙ্কগুলির কাছে রাজনৈতিক দলগুলিকেও অ্যাকাউন্টেরও কেওয়াইসি বা ‘নো ইওর কাস্টোমার’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
যদিও বিরোধীদের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টও প্রশ্ন তুলেছে, কোন কোম্পানি কোন দলকে টাকা দিচ্ছে তা গোপন থাকলে চাঁদা দেওয়ার বিনিময়ে তারা কোনও সুবিধা পাচ্ছে কি না তা অজানা থেকে যাচ্ছে। এই অস্বচ্ছ ব্যবস্থা চলতে পারে না।
প্রসঙ্গত, বিরোধীরা গোড়া থেকেই অভিযোগ করে আসছিল ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করা হয়েছে বিজেপির তহবিল ভরতে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বন্ড বাবদ মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা বিগত পাঁচ বছরে জমা হয়েছে। এর সিংহভাগ অর্থ পেয়েছে বিজেপি যা অর্ধেকের সামান্য কম।