
কংগ্রেস কি এবার একশো পেরবে?
শেষ আপডেট: 31 May 2024 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস কি এবারের লোকসভা নির্বাচনে তিন সংখ্যা অর্থাৎ একশো পেরবে? এবারের ভোটে শতাব্দি প্রাচীন দলটির কাছে সেই লক্ষ্যপূরণই মুখ্য। সেই লক্ষ্যপূরণে এবার প্রচারে সেঞ্চুরি করেছেন দলের তিন শীর্ষ নেতা সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। এর সঙ্গে আছে অগুনতি রোড শো। তিনি জনই গড়ে ৫০টি করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন দলের বক্তব্য তুলে ধরতে। এছাড়া বিশেষ সাক্ষাৎকার তো আছেই। কংগ্রেস সূত্রে বলা হচ্ছে, এত পরিকল্পিত এবং বৃহৎ প্রচার সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে করেনি কংগ্রেস। মাঠে-ময়দানের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিজেপিকে সমানে টক্কর দিয়েছে দল।
যদিও এবারই সবচেয়ে কম আসনে লড়াই করছে হাত শিবির। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে সাকুল্যে ৩২৮টিতে লড়াই করেছে দল। ২০১৯-এর ভোটে ৪২১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে কংগ্রেসের ভাগ্যে জুটেছিল মাত্র ৫২টি আসন। তার আগে ২০১৪-তে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল ৪৬৪টি আসনে। জিতেছিল মাত্র ৪৪টি আসন। তার আগে যথাক্রমে ২০০৯ এবং ২০০৪-এ কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন ছিল ২০৬ এবং ১৪৫। ওই দুই বছর দল লড়াই করে যথাক্রমে ৪৪০ এবং ৪১৭ আসনে।
এবার ইন্ডি জোটের শরিকদের অনেক আসন ছেড়ে দিয়ে হাত শিবির প্রার্থী দেন ৩২৮ আসনে। যদিও দলের লক্ষ্য আসন দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা। তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হবে কি না, ৪ জুন জানা যাবে। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবে শেষ নির্বাচনী ভাষণে রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, ইন্ডি জোটের সরকার হতে চলেছে। ৪ তারিখ গণনা কেন্দ্রে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ইন্ডি জোটের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, স্ট্রং রুমের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।
কংগ্রেসের সঙ্গে এবার শরিক দলগুলির ভাল বোঝাপড়া হয় তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লিতে। ওই আসনে শরিকদের চাহিদা যথাসম্ভব পূরণ করেছে কংগ্রেস।
দল যে ৩২৮টি আসনে লড়াই করছে, তার দুই তৃতীয়াংশ আসনেই দলের তিন মুখ খাড়্গে, রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা প্রচার করেছেন। ৮৩ বছর বয়সি কংগ্রেস সভাপতি ৪০-৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে একশোটির বেশি জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। ৭০টি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।
১৬টি রাজ্যে প্রচারে গিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। শতাধিক জনসভা করেছেন কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক। করেছেন অসংখ্য রোড শো। বৃহস্পতিবার প্রচার শেষ করেন হিমাচল প্রদেশে রোড শো করেই। তাঁকে আলাদা করে বাড়তি সময় দিতে হয় রায়বেরলি এবং অমেঠিতে। দু-জায়গাতেই আসলে লড়াই করেন প্রিয়ঙ্কাই।
বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানি এ নিয়ে প্রিয়ঙ্কাকে নিশানা করতে ছাড়েননি। বলেছেন, আপনি তো প্রার্থী হলেই পারতেন। অন্য একজনকে টিকিট দিয়ে লড়ছেন আসলে আপনি। স্মৃতি আসলে আগাম পরিকল্পনা করে রেখেছেন, এবার জিতে গেলে দাবি করবেন, রাহুলের পর প্রিয়ঙ্কাকেও হারিয়েছেন।
শারীরিক কারণে সনিয়া গান্ধী এবার প্রচার থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন। দু’বার ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া রায়বেরলিতে রাহুলের মনোনয়ন পেশের দিন একটি সভায় ভাষণ দেন। রাহুলকে জেতানোর আর্জি জানিয়ে রায়বেরলিবাসীর উদ্দেশে বলে আসেন, ছেলেকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম।