
অখিলেশ যাদব ও রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 24 April 2024 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনে লড়বেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। তিনি তাঁর কনৌজ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ডিম্পল তাঁর বর্তমান সংসদ এলাকা মৈনপুরীতে আগেই প্রার্থী হয়েছেন। তারকা রাজনীতিকদের মধ্যে অখিলেশ এবং ডিম্পলই স্বামী-স্ত্রী জুড়ি যাঁরা এবার লোকসভা ভোটে লড়াই করছেন।
মৈনপুরীর মতো কনৌজও অখিলেশদের খাসতালুক বলা চলে। অখিলেশ নিজে সেখানকার তিনবারে সাংসদ। এর আগে তাঁর স্ত্রী, তার আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুলায়ম সিং সেখানকার সাংসদ ছিলেন। ফলে অখিলেশের জয় নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই।
যদিও তাঁর প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো বর্তমানে উত্তর প্রদেশের বিরোধী দলনেতা। বিধানসভায় তাঁর দলের বিধায়ক সংখ্যা একশোর বেশি। দলীয় সভাপতি হিসাবে গোটা রাজ্যে তাঁকে ছুটতে হচ্ছে। তারপরও নিজে প্রার্থী হওয়ার কারণ, দলতে উদ্দীপ্ত রাখা। বিজেপির সঙ্গে সমাজবাদীর মূল লড়াই। সঙ্গে আছে কংগ্রেস। বিজেপির লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিন নেতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদী বারাণসীর প্রার্থী। তাছাড়া কনৌজের সঙ্গে অখিলেশের বাবা মুলায়ম সিংয়ের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, অখিলেশ লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অমেঠি নিয়ে চাপ বাড়ল রাহুল গান্ধীর উপর। রাহুল এখনও বিজেপির চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। অমেঠির প্রার্থীও ঘোষণা করেনি কংগ্রেস। ফলে রাহুল প্রার্থী হচ্ছেন কী হচ্ছেন না এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির ভাল বোঝাপড়া হয়েছে। কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, প্রাক্তন দলীয় সভাপতি অমেঠিতে প্রার্থী হলে উত্তর প্রদেশে রাহুল-অখিলেশ জুটির লড়াই নিচুতলার কর্মীদের উৎসাহিত করবে।
এরই মধ্যে রাহুলের অমেঠির আস্থানা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় পুরনো কেন্দ্র থেকে তাঁর ফের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছ। গতবার সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি। হারের আঁচ পেয়ে একই সঙ্গে কেরলের ওয়ানাড আসনে প্রার্থী হয়ে সেখান থেকে বিপুল ভোটে জিতে লোকসভায় যান কংগ্রেস সভাপতি। দল খারাপ ফল করায় ভোটের ফল ঘোষণার পরই সভাপতির পদ ছেড়ে দেন রাহুল।
অমেঠিতে গতবার হেরে গেলেও তাঁর পিছু ছাড়েনি বিজেপি। বর্তমান সাংসদ স্মৃতি ইরানি এক বছর আগে থেকে রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলেছেন, ফের অমেঠিতে প্রার্থী হতে। তবে একটি শর্ত জুড়ে দেন। প্রার্থী হতে হবে শুধু অমেঠিতেই।
লক্ষণীয় হল, রাহুল ফের তাঁর বর্তমান কেন্দ্র ওয়ানাডে প্রার্থী হওয়ার পরও অমেঠি নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিরাম নেই পদ্ম শিবিরের। প্রধানমন্ত্রী মোদী তো আছেনই, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা, যোগী আদিত্যনাথদের মতো প্রথমসারির নেতারাও রাহুলকে খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না। বলছেন, সাহস থাকে তো অমেঠিতে ফের প্রার্থী হোন।
রাহুল কি শেষ পর্যন্ত বিজেপির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চলেছেন। গত সপ্তাহে গাজিয়াবাদে তাঁকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিল, আপনি কি অমেঠিতে প্রার্থী হচ্ছেন। রাহুল সরাসরি হ্যাঁ বা না কিছুই বলেননি। জবাবে বলেন, এই ব্যাপারে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি এবং সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির সেই অমেঠিতে প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে সেখানকার গৌরীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় রাহুলের আস্থানা সারাইয়ের কাজ শুরু হওয়ায়। মিস্ত্রিরা জোর কদমে কাজে নেমে পড়েছেন সেখানে।
বাড়িটির একদিকে কংগ্রেসের নির্বাচনী কার্যালয়। আর এক দিকে রাহুল থাকেন। পাশে রয়েছে তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীদের থাকার ব্যবস্থা। অমেঠিতে রাহুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হলেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা দীপক সিং। তিনিই রাহুলের দেখভাল করেন। তিনি যদিও বাড়িটি সারাইয়ের কাজ রুটিন বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই বলেছেন, অমেঠি, রায়বেরলিতে প্রার্থীর ব্যাপারে গান্ধী পরিবারই সিদ্ধান্ত নেবে। পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন। নয়তো তাঁদের মনোনীত কাউকে টিকিট দেওয়া হবে।
দু-মাস আগে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় রাহুল অমেঠি এবং রায়বেরলি, দু’জায়গাতেই গিয়েছিলেন। রায়বেরলির পাশাপাশি তাঁর তিনবারের সাংসদ এলাকা অমেঠিতেও বিপুল সাড়া পান রাহুল। ভিড় থেকে আওয়াজ ওঠে ‘রাহুল তুম ওয়াপাস আও, হাম তুমহারে সাথ হ্যায়।’ অনেককেই বলতে শোনা যায়, ‘গতবারের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। অমেঠি ভুল শুধরে নিয়েছে।’ কংগ্রেস নেতারা রাহুলের যাত্রায় মানুষের সাড়া দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
রাহুলের যাত্রা চলাকালে বর্তমান সাংসদ স্মৃতিও অমেঠির গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন। তাই শুধু নয়, অমেঠিতে নিজের স্থায়ী বাসস্থানে গৃহপ্রবেশের কাজ সেরেছেন ভোট ঘোষণার মুখে। ২০১৯-এর ভোটে স্মৃতি কথা দেন, জিতলে অমেঠিতেই থেকে যাবেন।