
অধীররঞ্জন চৌধুরী
শেষ আপডেট: 4 June 2024 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২১ সালের ২ মে। একুশের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছিল সেদিন। রাত ১১টা নাগাদ দ্য ওয়ালের প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে আলাপচারিতায় অধীর চৌধুরী স্বীকার করেছিলেন, চব্বিশের লড়াইটা অনেক কঠিন হয়ে গেল। কারণ, বহরমপুর লোকসভার অধীনে ৭টি বিধানসভাতেই হেরে গেছে কংগ্রেস। তাঁর ভদ্রাসন তথা বহরমপুর বিধানসভায় জিতেছে বিজেপি।
চুম্বকে দেওয়াল লিখন হয়তো অনেক আগেই পড়ে ফেলেছিলেন বহরমপুরের একদা রবিনহুড। পোড় খাওয়া রাজনীতিক বুঝতে পেরেছিলেন, তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবেশে তাঁর আসন বিপন্ন।
হলও তাই। লোকসভা ভোটে বহরমপুর লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে প্রায় ৮০ হাজার ভোটে হেরে গেলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
মঙ্গলবার চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর অধীরবাবু দ্য ওয়ালকে বলেন, “রাজনীতিতে কেউই অপরাজেয় নয়। এটুকু বলতে পারি, চেষ্টা করে হেরে গেছি। একে মহাপতন, ইন্দ্রপতন যা ইচ্ছে বলতে পারেন”। অধীরের কথায়, কেউই যে অজেয় নয় এবারের ফলাফলেই প্রমাণিত। নরেন্দ্র মোদীরও দর্পচূর্ণ হয়েছে। হারজিতের এই বাস্তবটা মেনে নিতে হবে।
বহরমপুরের চূড়ান্ত ফলাফলের পরিসংখ্যানে অধীর চৌধুরীর পরাজয়ের কারণ স্পষ্ট। বহরমপুর লোকসভায় হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়েরই ভোট পেতেন অধীর। ২০১৪ সালে যখন গোটা দেশে কংগ্রেসের সবচেয়ে খারাপ সময় তখনও প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট থেকেই মুর্শিদাবাদের সমীকরণে বদলের হাওয়া দেখা যাচ্ছে। জেলায় ধর্মীয় মেরুকরণ একপ্রকার তীব্র আকার নিয়েছে। যে বহরমপুর লোকসভায় বিজেপি প্রাসঙ্গিকই ছিল না সেখানে এবার বিজেপির প্রার্থী ডাঃ নির্মল সাহা ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোট পেয়েছেন। অধীর পেয়েছেন চার লক্ষের কিছু বেশি ভোট। আর পৌনে পাঁচ লক্ষ ভোট পেয়েছেন ইউসুফ পাঠান। বিজেপি এভাবে ভোট কাটাতেই বহরমপুরে অধীর চৌধুরী এবার পরাস্ত হয়েছেন।
অধীরের সমস্যা ছিল বহুবিধ। এই ভোটে রাহুল গান্ধী বা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মতো দিল্লির কোনও নেতা বা নেত্রী তাঁর হয়ে প্রচারে আসেননি। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক ধরে রাখায় ব্রতী ছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। দল চালানোর মতো আর্থিক সাহায্যও দিল্লি থেকে আসেনি। উপরি ছিল মেরুকরণ। বহরমপুরের রবিনহুডের তাই ডবল হ্যাট্রিক হল না। টানা ২৫ বছর ধরে সাংসদ থাকার পর বহরমপুর আসন হাতছাড়া হল তাঁর।