
অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং মুকেশ কুমার
শেষ আপডেট: 15 April 2024 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিআইজি মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ মুকেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেওয়ার পরই ফুঁসে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে তিনি কমিশনকে সরাসরি দোষারোপ করে বলেছেন, মুর্শিদাবাদে কোনও হিংসা হলে তার দায় কমিশনকে নিতে হবে। বিষয় হল, এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে শাসক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ করেছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর অভিযোগের পরই নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
অধীরের অভিযোগ ছিল, যে সব পুলিশ আধিকারিকরা তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দিনের পর দিন কাজ করে গেছেন সেই অফিসারদেরই ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে জেলায়। যার নেপথ্যে ছিলেন এই আইপিএস মুকেশ কুমার। এখন তাঁকে সরানো হয়েছে এমন খবর পেয়ে খুশি হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মুকেশ কুমারকে নিয়ে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন অধীর। তাঁর কথায়, এই অফিসার একজন ক্রিমিনালের থেকে কম নন!
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে এবারের ভোট নিরাপদে, নির্বিঘ্নে হবে। তার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার সেটা নেওয়া হবে। কমিশনের আস্থা পেয়েই তিনি বহরমপুরের মানুষকে আশা দিয়েছেন স্বচ্ছ ভোটের, জানান অধীর। সেই প্রেক্ষিতেই মুকেশ কুমারকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ''আমাদের অভিযোগ সত্যি তাই সরিয়েছে। এই নির্বাচনকে বানচাল করার যারা চেষ্টা করছে তাঁদের মধ্যে এক নম্বর এই মুকেশ কুমার!''
২০১৯ সালে মুকেশ কুমার মুর্শিদাবাদ জেলার এসপি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়। অধীর বলছেন, ''পুলিশের উর্দি পরা একজন ক্রিমিনাল হলেন এই আইপিএস অফিসার। শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি। মুকেশ কুমার একজন ক্রিমিনাল মানসিকতার অফিসার।'' কেন এত বড় দাবি করছেন অধীর? সেই ব্যাখ্যাও করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী।
তাঁর অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ জেলার বহু যুবককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে, মাদক পাচার মামলা দিয়ে বছরের পর বছর জেল খাটিয়েছেন এই অফিসার। তাছাড়া জেলায় হওয়া গরু পাচার থেকে শুরু করে একাধিক অপরাধমূলক কাজ ধামাচাপা দিতে টাকা খেয়েছেন তিনি। সোমবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুকেশ কুমার প্রসঙ্গে দাবি করেন, যারা দাঙ্গা সামলাতে পারেন, বেছে বেছে তাঁদেরই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে অধীর চৌধুরী এই মুকেশ কুমারের বিরুদ্ধেই দাঙ্গা লাগানোর অভিযোগ করেছেন!
বহরমপুর এলাকায় জায়গায় জায়গায় উস্কানি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছিলেন এই আইপিএস অফিসার। তাঁর যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছিল তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। এই দাবি করেই অধীর বলছেন, নির্বাচন কমিশনের যে পদক্ষেপ তাতে স্পষ্ট হল, এবারের নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে।