দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুসফুসের জটিল রোগ থেকে রেহাই দেবে। তীব্র শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণা রুখবে। ভারতে প্রথম উন্নতমানের প্রেসারাইজ়ড মিরাড ডোজ ইনহেলার নিয়ে এল দেশের প্রথম সারির ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জাইদাস ক্যাডিলা।
ফুসফুসের এই রোগ সাঙ্ঘাতিক। নাম ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি (COPD)। শ্বাসযন্ত্রের এমন এক অবস্থা যেখানে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার রাস্তাটাই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় রোগীর। এই সিওপিডি-তে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। শ্বাসকষ্ট থেকে সাময়িক রেহাই পাওয়ার একটাই উপায়, সেটা হল ইনহেলার। প্রেসারাইজ়ড মিরাড ডোজের ইনহেলার (pMDI) উন্নতমানের। জাইদাস ক্যাডিলা কম দামে এমনই ইনহেলার নিয়ে এসেছে।
ক্যাডিলা গ্রুপের তৈরি এই ইনহেলারের নাম ফর্গলিন পিএমডিআই ইনহেলার। সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ভারতে এই ধরনের ইনহেলার এই প্রথম। দেশীয় প্রযুক্তিতে সংস্থার অন্দরেই বানানো হয়েছে এই ইনহেলার। দামও সাধ্যবিত্তের মধ্যেই। একটি ভায়ালের দাম ৪৯৫ টাকা।
কী ভাবে তৈরি হয়েছে এই ইনহেলার?
দু’রকমের ওষুধের মিশ্রণে এই ইনহেলার তৈরি হয়েছে। বলেছেন ক্যাডিলা হেলথকেয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শারভিল পটেল। তিনি জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তিতে
ফরমোটেরল ফিউমারেট (LABA) ও
গ্লাইকোপাইরোলেট (LAMA)—এই দুই ড্রাগের সংমিশ্রণে এই ইনহেলার তৈরি হয়েছে। এর একটি ডোজেই তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমবে বলেই দাবি শারভিলের।
এই দুই ড্রাগের মিশ্রণ করেছে জাইজাস ফার্মাসিউটাল টেকনোলজি সেন্টার। গবেষকরা বলেছেন, এই দুই ওষুধকে বিশেষ উপায় সংশ্লেষ করে এমনভাবে ডোজ নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে জটিল ফুসফুসের সংক্রমণে ভোগা রোগীও আরাম পেতে পারে। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ কমতে পারে এই ওষুধের ডোজে।
সিওপিডি কী?
ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি ফুসফুসের এমন একটা রোগ যেখানে বিশুদ্ধ বাতাস বা অক্সিজেন ঢোকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড জমতে শুরু করে। পরিবেশের ধুলো, ধোঁয়া, দূষণ, বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া পরতে পরতে জমেও শ্বাসযন্ত্রের এই জটিল রোগ ধরে। শ্বাসের সমস্যা শুরু হয় রোগীর। তীব্র প্রদাহ শুরু হয় ফুসফুসে। একটা সময় প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে থাকে রোগী। সঠিক সময় চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।
কী থেকে হয় সিওপিডি?
এম্ফিসেমা বা ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস থাকলে সিওপিডির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হল অধিক মাত্রায় ধূমপান। বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে ঢুকে জমা হতে থাকে। শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অক্সিজেন ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
দ্বিতীয় কারণ হল, বায়ুদূষণ। যানবাহনের ধোঁয়া, ধুলো, কাঠকয়লার আগুন, বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে থাকা রাসায়নিক ফুসফুসের বারোটা বাজিয়ে দেয়। অনেকে বাড়িতে মশা মারার কয়েল জ্বালান। এর থেকেও বের হয় কার্বন-মনোক্সাইড। টানা ৬-৭ ঘণ্টা এই ধোঁয়া ফুসফুসে ঢুকলে যে কোনও জটিল রোগের সম্ভাবনাই বাড়িয়ে তোলে। তাছাড়া, আবর্জনা পোড়ার ধোঁয়া, খড় পোড়া ধোঁয়া ইত্যাদিও সিওপিডির কারণ। ডাক্তাররা বলেন, স্মোকিং শুধু নয়, প্যাসিভ স্মোকাররাও সিওপিডিতে আক্রান্ত হতে পারে।
কী কী উপসর্গ দেখে সাবধান হতে হবে?
সিওপিডি হওয়া মানেই ফুসফুসের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ক্রমাগত কাশি, রাতে কাশির দমকে ঘুম ভেঙে যাওয়া, সিঁড়ি বা উঁচু জায়গায় ওঠানামার ক্ষেত্রে বুকে চাপ অনুভব করা বা শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া, বুকের মধ্যে সাঁইসাঁই করা, এই উপসর্গগুলো দেখা দেয়। অল্পই ঠাণ্ডা লেগে বুকে কফ জমে সর্দি-কাশি হতে পারে, সেখান থেকে শ্বাসকষ্ট। এমন লক্ষণ ক্রনিক হয়ে গেলে সাবধান হতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর বিশ্বে সিওপিডি-তে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা কয়েক কোটি। প্রতি ১০ সেকেন্ডে সিওপিডি-তে আক্রান্ত হয়ে এক জন রোগীর মৃত্যু হয়। হু প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন এগেনস্ট সিওপিডি’ এবং ‘সিওপিডি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ সমীক্ষা রিপোর্টেও দেখা গেছে, অধিক ধূমপান, বাতাসের দূষণ এই সিওপিডি-র জন্য দায়ী। যাঁরা বেশি সিগারেটে আসক্ত তাঁদের সিওপিডি-র ঝুঁকি অনেক বেশি।