
শেষ আপডেট: 17 May 2023 06:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস (World Hypertension Day, 2023)। ভারতে (India) প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজনই ভোগেন উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায়। অর্থাৎ আপনি বা আপনার পাশের মানুষটাই হাইপারটেনশনে ভুগছেন।
পৃথিবী জুড়ে এই রোগ নীরব ঘাতক বলে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতো ভারতে ২২ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে বেঁচে রয়েছেন। তার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও একটি পরিসংখ্যান শুনলে ভীত হবেন। তা হল—বিশ্বে প্রতি বছর অন্তত ৭০ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে এই সমস্যায়।
তবে ভয় পাওয়া কাজের কথা নয়। বরং সচেতন থাকা ও প্রতিকারের জন্য জীবনযাত্রা শুধরে নেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ। আগে জেনে নেওয়া যাক, উচ্চ রক্তচাপ কী? (What is Hypertension?)
আমাদের হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার (High blood pressure) বা হাইপারটেনশন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
দু’টি নির্দিষ্ট মানের মাধ্যমে মানব শরীরে এই রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। সিস্টোলিক প্রেশার তথা যেটার সংখ্যা বেশি, এবং ডায়াস্টলিক প্রেশার তথা যেটার সংখ্যা কম।
আমাদের প্রতিটি হৃদস্পন্দন, মানে প্রতিবার হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের সময়ে একবার সিস্টোলিক প্রেশার এবং এক বার ডায়াস্টলিক প্রেশার হয়।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ও সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের শরীরে রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার।
কারও শরীরে ব্লাড প্রেশারের রিডিং ১৪০/৯০ বা এর চেয়েও বেশি হলে বুঝতে হবে তাঁর হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে (Hypertension Normal Range)।
আবার কারও শরীরে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশেপাশে থাকে, তাহলে লো ব্লাড প্রেশার হিসেবে ধরা হয়।
তবে বয়সের সঙ্গে শরীরে রক্তচাপ কমতে বা বাড়তে পারে।
এখন জেনে নেওয়ার দরকার যে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের কী কী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা
• শরীরে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের ফলে হৃদপিণ্ডের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দুর্বল হৃদপিণ্ড রক্ত ঠিকমতো পাম্প করতে পারে না। ফলে হৃদপিণ্ড কাজ বন্ধ করতে পারে বা হার্ট ফেইলিওর হতে পারে। অথবা ধমনীর দেওয়াল সঙ্কুচিত হতে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও থাকে।
• হাইপারটেনশনের কারণে কিডনি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মস্তিষ্কে স্ট্রোক অর্থাৎ রক্তক্ষরণও হতে পারে।
• আবার হাইপারটেনশনের কারণে চোখের রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয়ে মানুষের দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব পড়তে পারে।
• কলকাতার বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাইপারটেনশনের কারণ নির্দিষ্ট করে জানা যায় না। দ্য ওয়ালকে তিনি জানিয়েছেন, “যাঁদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপের কারণ সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা সম্ভব হয় না, তাঁদের ক্ষেত্রে একে প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল ব্লাড প্রেশার বলা হয়।"
• ডাঃ দিলীপ কুমারের কথায়, “হাইপারটেনশনের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, বহু সময়ে কোনও প্রাথমিক লক্ষ্মণ দেখা যায় না। তাই অজান্তেই শরীরে ক্ষতি হতে থাকে। তাই সময়ান্তরে ব্লাড প্রেশার চেক করা উচিত”।
• বয়স্কদের মধ্যে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই চল্লিশ বছর পার হলেই নিয়মিত ব্লাড প্রেশার চেক করা উচিত। আর যাঁরা বহুদিন দিন ধরে হাইপারটেনশনে ভুগছেন তাঁদের সপ্তাহে অন্তত একবার প্রেশার মাপা উচিত।
• অবশ্য বিক্ষিপ্ত ভাবে একবার রক্তচাপ বেশি দেখা গেলে বলা যায় না যে হাইপারটেনশন রয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে তা দেখা গেলে তবেই বলা যেতে পারে কেউ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
• ২০১৯ সালে এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, হাই ব্লাড প্রেশারের ওষুধ ঘুমাতে যাবার আগে খেলে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ (Symptoms of Hypertension)
• নির্দিষ্টভাবে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ চিহ্নিত করা যেতে পারে—
• প্রচণ্ড মাথাব্যাথা। মাথা গরম হয়ে যাওয়া ও মাথা ঘোরা।
• ঘাড়ে, পিছে ব্যাথা
• বমি বমি ভাব, কিংবা বমি হওয়া
• অল্পতে রেগে যাওয়া, শরীর অস্থির করা বা কাঁপা
• রাতে ভালো করে ঘুম না হওয়া
• অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
এসব লক্ষণ থাকলে ব্লাড প্রেশার চেক করে নেওয়া ও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয়।
উচ্চ রক্তচাপের কারণ (Causes of Hypertension)
• ৪০ বছরের পর থেকে হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়তে থাকে
• শরীরের অতিরিক্ত ওজন
• বংশানুক্রমিক ভাবে পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে
• নিয়মিত ভাবে শারীরিক কসরত, ব্যায়াম, হাঁটাহাটি না করলে
• প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নুন খেলে
• সিগারেট বিড়ি বেশি খেলে
• অতিরিক্ত মদ্যপান বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খেলে
• ঘুমের সমস্যা হলে
• মানসিক চাপ থাকলে

ব্লাড প্রেশার কমানোর উপায় (How to control Hypertension)
• জীবনযাত্রায় পরিবর্তন। শৃঙ্খলা আনা। নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
• পরিমিত নুন খাওয়া। কারণ, নুনের সোডিয়াম রক্তে জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেওয়ায় রক্তের আয়তন ও চাপ বেড়ে যায়।
• সিগারেট, বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেওয়া।
• অতিশয় মদ্যপান না করা।
• শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
• নিয়মিতভাবে ব্যায়াম কিংবা কায়িক পরিশ্রম করা। তাতে হৃদপিণ্ড সবল থাকে এবং শরীরে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
• মানসিক চিন্তা বা চাপ কমানো। রাগ, ক্রোধ, ভয়, বা মানসিক চাপের কারণে শরীরে রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তাই তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভাল।
• মাংস, তেলেভাজা খাবার বা অতিশয় চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভাল। কারণ কোলেস্টোরল যুক্ত খাবার খেলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
• বেশি করে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া।

সোমবার কম চাপ দিন, কর্মীদের স্ট্রেস কমবে, গোটা সপ্তাহ ভাল কাজ করবে