
শেষ আপডেট: 11 April 2024 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকালকার দিনে প্রায় বেশিরভাগ মহিলাদেরই অন্যতম সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বা পিসিওএস। ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট সিস্ট থাকাকেই বলে পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম। আগে একে পিসিওডি বা পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজ বলা হতো। তবে এখন এ ডিজিজের এমনই বাড়বাড়ন্ত, যে একে আর ডিজিজ বা 'অসুখ' বলছেন না ডাক্তাররা, বলছেন সিনড্রোম বা উপসর্গ। পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজ কী, কাদের হয়, চকোলেট সিস্টই বা কী, এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শহরের বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট ও অবস্টেট্রিশিয়ান ডা. ধ্রুবা রায়।
ডাক্তারবাবু বলছেন, পলিসিস্টিক নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে রোগটি আসলে কী। পলি মানে হল অনেক, আর সিস্ট মানে হল ছোট ছোট স্যাক বা থলির মতো। ওভারিতে যখন ছোট ছোট অনেকগুলো সিস্টের মতো গঠন তৈরি হয়, তখন তাকে বলে পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজ বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম। ছোট ছোট বিভিন্ন রঙের পুঁতির মতো তৈরি হয় ওভারি বা জরায়ুতে।
এটি মূলত হরমোনের বিশৃঙ্খলা জনিত সমস্যা। এখন মহিলাদের হরমোনের বিশৃঙ্খলা ঘটিত সমস্যাগুলির মধ্যে ডিম্বাশয়ের এই সমস্যাই সবচেয়ে বেশি হয়। বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবেও এই পিসিওএস অন্যতম৷ তাই একে অবহেলা করা একেবারেই অনুচিত। যত দ্রুত এর চিকিৎসা, ততই দ্রুত এর জটিলতা থেকে মুক্তি।
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হল মহিলাদের মধ্যে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) এর মাত্রা বেড়ে যাবার জন্য কিছু উপসর্গ। ছোট ছোট সিস্ট পুঁতির মালার মতো দেখতে ওভারি বা ডিম্বাশয়কে ঘিরে থাকে। এই সিস্টের জন্য ওভারির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। পলিসিস্টিক ওভারি এমন একটি ব্যাধি যেখানে একটি মহিলার ডিম্বাশয় বড় হয় এবং সেখানে ০.৫-১.০ সেন্টিমিটার ব্যাসের ছোট ছোট ফলিকুলার সিস্ট তৈরি হয়। এর ফলে ডিম্বাশয়ে ডিম্বানু জমা হয় যা শরীর থেকে বেরোতে পারে না। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ থেকে ১২ টি সিস্ট থাকবে প্রতি ওভারিতে। হাইপার অ্যান্ড্রোজেনিজম, ওভুলেটরি ডিসফাংশন এবং অনেক ছোট ছোট সিস্টযুক্ত ওভারি—এই তিনটি উপসর্গ থাকলেই তাকে বলে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম।
১৮ থেকে ৪৪ বছরের মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ এন্ড্রোক্রিন গ্রন্থির রোগ হল পিসিওএস।এই বয়সের প্রায় ২% থেকে ২০% মহিলা এই অসুখে আক্রান্ত। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিণ্ড্রোম আসলে অ্যাডলোসেন পিরিয়ডে হলে মানে ১৩- ১৬ এর মধ্যে হলে চিকিৎসা করা কঠিন হয়। কারণ তখন তাদের ওভারিতে মান্টিপল ফলিকল থাকে। ফলিকল মানে ডিম, যা ভিতরে তৈরি হয়ে ওভারি সারফেসে এসে ফাটে এবং ওভাম তৈরি হয়। এই ডিম ফাটার আগেই খুব ছোট ছোট ১৮ থেকে ২০ মিলিমিটারের সিস্ট তৈরি হয়। যাদের অনেক সংখ্যায় তৈরি হয় এই সিস্ট তাদেরই পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিণ্ড্রোম হয়। ডিম না ফুটেই অনেকের পিরিয়ড শুরু হয়, একে বলা হয় অ্যানিভোলেশন। এদের ক্ষেত্রে অনেকটা পরে শুরু হলেও বেশিদিন ধরে চলে পিরিয়ড।
এই সময় মেন্স্ট্রুয়াল ইরেগুলারিটি দেখা যায় মেয়েদের। প্রথমেই অনিয়মিত পিরিয়ড বা পিরিয়ড একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও ঘটতে পারে। হরমোনাল ডিসফাংশন, এন্ড্রোক্রিন ডিসফাংশন হয় মেয়েদের। ওজন বাড়তে থাকে, ওবেসিটি দেখা দেয়। আবার চকোলেট সিস্টও হয় মেয়েদের। ওভারি বা ডিম্বাশয়ের উপরে লেপ্টে বসে থাকা ছোট রক্তভরা থলি বা সিস্ট তৈরি হতে পারে। একে চকোলেট সিস্ট বলে। প্রজননক্ষম মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা আজকাল দেখা দিচ্ছে। এন্ডোমেট্রিওসিস কোনও সংক্রমণ নয়, ছোঁয়াচে রোগও নয়। নয় থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়স অবধি মহিলাদের জরায়ুতে যে এন্ড্রোমেট্রিয়াল লাইন থাকে, তার কোষ জরায়ুর বাইরে ফ্যালোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় বা পাউচ অব ডগলাসে লেপ্টে বসে থাকলে তাকে এন্ডোমেট্রিওসিস বলে।
ঋতুচক্রের সময়ে এন্ডোমেট্রিয়াম যেমন ফুলে ওঠে, তেমনই বাইরে (ফেলোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় বা পাউচ অব ডগলাস)এ সব অঙ্গের উপরে রক্তভরা পিণ্ড তৈরি হয়। এই রোগের প্রধান লক্ষণই হল (১) তলপেট ও পেলভিসে ব্যথা। ঋতুস্রাবের শুরুর দিন চারেক আগে থেকে যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাব শুরু হওয়া। আবার কারও কারও প্রবল রক্তপাত হতে পারে। (২) যৌন মিলনের সময় বা পরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। (৩) কোমর, তলদেশ বা শ্রোণিচক্রে এক টানা ব্যথা চলতেই থাকে।
এটি ১০০ শতাংশ সেরে যায় না কখনোই। তবে ওষুধ দিয়ে এবং নিয়মিত মনিটরিং-এর মাধ্যমে সমস্যাগুলোকে বেশ কিছুটা কমিয়ে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এই রোগের প্রভাবগুলোকেও কমিয়ে দেওয়া যায় ২০-২৫ বছরের জন্য। এমনকি রোগীর সহযোগীতা থাকলে তাঁর পক্ষে কনসিভ্ করারও কোনও সমস্যা নেই।
শুনুন ডাক্তারবাবু কী বলছেন