
শেষ আপডেট: 8 August 2020 18:30
স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলছেন, উনিশ শতকে মানুষের শরীরের যে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ছিল একুশে এসে তাই প্রায় এক ডিগ্রি ফারেনহাইট কমে গেছে। বর্তমানে মানুষের শরীর আরও একটু ঠাণ্ডা হয়েছে। শরীরের স্বাভাবিক তাপমান এখন ৯৭.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ৯৭.৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে। মহিলারা অবশ্য আরও একটু উষ্ণ। তাঁদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি।
শরীরের তাপমাত্রা কেন কমছে তার অনেক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা। বিজ্ঞানী ক্যাথেরিন লেই বলেছেন, আসলে এই তাপমাত্রার পরিমাপ একটা পর্যবেক্ষণ মাত্র। পরিবেশ, পরিস্থিতি, শারীরিক অবস্থা, বয়স নানা বিষয়ের উপর শরীরের তাপমান নির্ভর করে। ক্যাথেরিনের কথায়, সেই ১৮৫১ সালে জার্মান ডাক্তার ২৫-৩০ হাজার মানুষের শারীরিক তাপমাত্রা মেপে তার গড় হিসেব করেছিলেন। তখন তাপমাত্রা মাপা হত ‘আর্মপিট’ অর্থাৎ বগলের তলায় থার্মোমিটার রেখে। এখন ‘ওরাল টেম্পারেচার’ মাপা হয়, থার্মোমিটার রাখা হয় জিভের নিচে। ওরাল টেম্পারেচার সবসময়ই কিছুটা কম আসে। তাছাড়াও বর্তমান সময় নানারকম ওষুধ, হাইজিন ইত্যাদির বিষয়ের উপরেও শরীরের তাপমাত্রা বাড়া-কমা নির্ভর করে।
পরিবেশ, আবহাওয়াও বড় ফ্যাক্টর। ঠাণ্ডার সময় এমনিতেই শরীরের তাপমাত্রা কম থাকে। আবার দিনের বেলায় শরীরের যে তাপমান থাকে বেলার দিকে তা বাড়ে, রাতের দিকে আবার কমে। বয়স্ক মানুষদের অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় হাইপোথারমিয়ার মতো শারীরিক অবস্থা তৈরি হতে দেখা যায়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে নানা অঙ্গের উপর তার প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অসাড় হতে শুরু করে। শরীরের বিভিন্ন পেশিতে টান ধরে। মস্তিষ্ক, হৃদয়, ফুসফুসের কাজকর্ম বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এই শারীরিক অবস্থাকেই বলে হাইপোথারমিয়া।