
শেষ আপডেট: 14 March 2019 08:17
জার্নাল অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিকাল ইমিউনোলজিতে বলা হয়েছে, গবেষকরা ১২০ জন বাচ্চার মধ্যে পরীক্ষা করে দেখেছেন, যাদের এক তৃতীয়াংশই মোটা বাচ্চা ছিল। মূলত বাড়িতে দূষণের মাত্রা, রক্তে ভিটামিনের মাত্রা এবং স্থূলতা এই তিনটি কারণেই তাদের হাঁপানি দেখা যায়।
ভিটামিন ডি-কে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ডি থ্রি এবং ডি টু। ডি থ্রি শরীরেই তৈরি হয়। আমাদের চামড়ার নীচে সেভেন ডি হাইড্রোকোলেস্টেরল থাকে। সূর্যের আলোর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি যদি আপনার চামড়ার নীচে পড়ে তাহলে এমনিতেই ভিটামিন ডি থ্রি তৈরি হয়। তবে এই রোদ হতে হবে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
ভিটামিন ডি ৮০ শতাংশ আসে সূর্যের আলো থেকে। বাকি ২০ শতাংশ খাবারে পাওয়া যায়। তবে এই খাবারগুলো আমাদের দেশে প্রচলিত না। যেমন : সামুদ্রিক মাছ, কড মাছ, ম্যাকরেল, সার্ডিন। এগুলো আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে পড়ে না। সবার একটা ধারণা দুধের মধ্যে ভিটামিন ডি আছে। আসলে দুধে ক্যালসিয়াম আছে। ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম। এমনকি বুকের দুধের মধ্যেও কম আছে। এক বছর পর্যন্ত বয়সে ৬০০ ইউনিট। এক থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৭০০ ইউনিট। আর যাদের বয়স ৭০-এর উপরে তাদের দেখা যায় ৭০০ ইউনিটের বেশি লাগছে। শরীরে ভিটামিন ডি ইনটেসটাইন থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করার পাশাপাশি আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। এক সময় আমরা জানতাম ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে শিশুদের রিকেট হয় অর্থাৎ দেহের হাড়গুলো ঠিক মতো বৃদ্ধি পায় না, নরম হয়ে যায়, শিশুর বৃদ্ধি হয় না, হাড় বাঁকা হয়ে যায়। এখন আর শুধু হাড়ে থেমে নেই বিষয়টা।
অ্যাজ়মা সাধারণত বংশগত রোগ। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাড়িঘরের ধুলোবালি, উৎকট গন্ধ বা স্প্রে, সিগারেট বা অন্যান্য ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে এই রোগ বাড়তে পারে। অ্যাজ়মাকে কাবু করতে, অ্যাজ়মা আক্রান্ত শিশুর বাবা মা’র ধূমপান করা উচিত নয়। অ্যাজ়মা সর্দি, কাশির মত ছোঁয়াচে রোগ নয়। শিশুর অ্যাজ়মা হলেও মায়ের বুকের দুধ খেতে কোন বাঁধা নেই। এই রোগ একজন থেকে অন্যজনে ছড়াবে না। শিশুকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ধুলোবালি থেকে দূরে রাখুন। শিশুকে পুরোনো কাপড় পরানো উচিত নয়। কারণ পুরোনো কাপড়ে ধুলোবালি লেগে থাকে। তাই শিশুকে সব সময় পরিষ্কার কাপড় পরানো উচিত। শিশুকে সাধারণ ব্যায়াম করানোর অভ্যাস করান। এছাড়াও বসু বলছেন, "রক্তের ভিটামিন ডি মাত্রা বাড়ানোর একটি উপায় হল সূর্যের আলোয় বেশি রাখতে হবে শিশুকে। তবে শহুরে পরিবেশে সবসময়ে সম্ভব নয় সেটা, তা ছাড়াও ফ্যাটি মাছ, মাশরুম, রুটি, কমলার রস বা দুধের মতো খাবার থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন-ডি। " প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুর অ্যাজ়মা হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে এবং ঠিকমত চিকিৎসা করালে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।