
শেষ আপডেট: 10 April 2024 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বায়ুদূষণ ফুসফুসের চরম ক্ষতি করে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গও বিষ-বাষ্প থেকে সুরক্ষিত নয়। কিন্তু চোখ? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ধূলিকণা চোখের ক্ষতি করতে পারে। ঝাপসা হতে পারে দৃষ্টি। এমনকী দৃষ্টিশক্তি চলে যেতেও পারে।
গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণ যেমন হার্টের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক রেসপিরেটারি ডিজিজের জন্য দায়ী, তেমনি বিশ্ব জুড়ে বেড়ে চলা অন্ধত্বের কারণও হতে পারে দূষণই। বাতাসে ভাসমান দূষিত কণার কারণে এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (Age-related macular degeneration) রোগ হতে পারে। বিশেষত বয়স্করাই এই রোগের শিকার।
ম্যাকুলার ডিজেনারেশন কী?
ম্যাকুলা হল চোখের রেটিনার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ছোট বিন্দু। এই ম্যাকুলা সোজাসুজি দেখতে সাহায্য করে। ম্যাকুলার ডিজেনারেশন তখনই হয়, যদি এই ম্যাকুলা বা রেটিনার কেন্দ্রে অবস্থিত বিন্দুটার ক্ষতি হয়। তাহলেই সোজা লাইন দেখতে সমস্যা হয়। ঝাপসা হতে থাকে দৃষ্টি।
ধরা যাক, টিভি দেখছেন। এখন যদি ম্যাকুলার অবস্থান সরে যায় বা ম্যাকুলা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে সোজা ভিশনটাই থাকবে না। মনে হবে চোখের সামনে সব আঁকাবাঁকা হয়ে যাচ্ছে। সোজাসুজি টিভি দেখতে সমস্যা হবে। এটা হল রোগের প্রাথমিক ধাপ। ম্যাকুলা যত ক্ষতিগ্রস্থ হবে ততই দৃষ্টি ক্রমশ ঝাপসা হতে থাকবে। রেটিনার মাঝখানে একটা কালো গোলোকার ছাপ পড়বে। রোগ বাড়লে অন্ধও হয়ে যেতে পারেন রোগী।
উপসর্গ কী কী
অনেক সময় ছানি, গ্লুকোমার সঙ্গে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। চোখের কোনও সমস্যাই নেই, অথচ দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করেছে। সোজা লাইন দেখতে সমস্যা হচ্ছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এই রোগের কিছু লক্ষণ আছে সেগুলো দেখে সতর্ক হতে হবে। যেমন—
চোখ লাল হতে শুরু করবে। চোখে ব্যথা হবে।
চোখের মণির মাঝখানে একটা কালো গোলাকার ছাপ পড়বে।
সোজা লাইন বুঝতে সমস্যা হবে, মনে হবে চোখের সামনে সব ভেঙেচুরে, আঁকাবাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
দৃষ্টি আবছা হতে শুরু করবে। অনেক সময় হ্যালুসিনেসনও হয়।
কোনও সূক্ষ্ম জিনিস দেখা যাবে না। দৃষ্টিতে সবকিছুই ছোট মনে হবে। রোগ বাড়লে দৃষ্টি চলেও যেতে পারে।
চিকিৎসা কী?
ফোটোডাইনামিক থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা হতে পারে। লেজ়ার ট্রিটমেন্টও অনেক সময় করেন ডাক্তাররা। কিছু খনিজ ও ভিটামিন আছে যা দিয়ে এই রোগের থেরাপি হয়, যেমন ভিটামিন সি (৫০০ মিলিগ্রাম), ভিটামিন ই (৪০০ মিলিগ্রাম), জিঙ্ক (৮০ মিলিগ্রাম), লুটেইন (১০ মিলিগ্রাম), জিয়াজ্যানথিন (২ মিলিগ্রাম)। কিছু রেডিওলজিক্যাল পদ্ধতি আছে যেগুলো দিয়েও এই রোগের চিকিৎসা হতে পারে।