Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

মেনোপজের পরে খিদে কম, বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট! হার্টের রোগের ইঙ্গিত: ডক্টর আশফাক আহমেদ

ডক্টর আশফাক আহমেদ (কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, অ্যাপোলো) হৃদয়ের রোগ জানান দিয়ে আসে না। সতর্কতা আর সচেতনতাই দাওয়াই। পুরুষদের হার্টের রোগের সম্ভাবনা মহিলাদের তুলনায় বেশি। তবে সুরক্ষার প্রশ্নে লিঙ্গের ভেদ চলে না। পঞ্চাশ পার করলেই

মেনোপজের পরে খিদে কম, বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট! হার্টের রোগের ইঙ্গিত: ডক্টর আশফাক আহমেদ

শেষ আপডেট: 9 October 2020 08:27

ডক্টর আশফাক আহমেদ (কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, অ্যাপোলো)

হৃদয়ের রোগ জানান দিয়ে আসে না। সতর্কতা আর সচেতনতাই দাওয়াই। পুরুষদের হার্টের রোগের সম্ভাবনা মহিলাদের তুলনায় বেশি। তবে সুরক্ষার প্রশ্নে লিঙ্গের ভেদ চলে না। পঞ্চাশ পার করলেই মহিলাদের শরীরের সুরক্ষা কবচ সঙ্গ ছেড়ে দেয়। তখন রোগব্যধিতে পুরুষ বা মহিলার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। একজন ষাটোর্ধ্ব পুরুষের হৃদরোগের সম্ভাবনা যতটা থাকে, একজন মহিলারও ততটাই থাকতে পারে। শুধু রোগের উপসর্গগুলো কিছুটা আলাদা। হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ সিম্পটম্প মহিলাদের মধ্যে নাও দেখা দিতে পারে। হৃদয় তার অস্বস্তির কথা জানান দেয় অন্যভাবে। বেশিরভাগ মহিলাই সেটা বুঝতে পারেন না। তাই রোগ ধরতেও দেরি হয়। ধাক্কাটা আসে আচমকাই। সামলে ওঠার সময়টুকুও দেয় না। তাই রোগের ধরন ও তার পূর্বাভাস জেনে রাখা ভাল। বয়সজনিত কারণে মহিলাদের হার্টের নানা সমস্যা ও তার সহজ সমাধান নিয়ে দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি চৈতালী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করলেন অ্যাপোলো গ্লেনগলস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর আশফাক আহমেদ।

মহিলাদের হৃদয়কে রক্ষা করে ইস্ট্রোজেন

আমাদের হৃদপিণ্ড হল পাম্পিং মেশিন। তার কাজ সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া। হৃদপিণ্ডের মাঝে করোনারি আর্টারি নামে দুটি ছোট ধমনী থাকে। এই ধমনীদের কাজ হল হার্টকে সচল ও কার্যক্ষম রাখা। পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দিয়ে হার্টকে ঝরঝরে ও তরতাজা রাখা। কোনও কারণে এই দুই ধমনী যদি ব্লক হয়ে যায় তাহলে পুষ্টি উপাদান আর হৃদপেশিতে পৌঁছতে পারে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। করোনারি আর্টারি বা ধমনী ব্লক হয়ে গেলে নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে শরীরে। নিঃশব্দে হানা দেয় হৃদরোগ।

Heart Disease In Women - Cardiovascular Disease

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই করোনারি আর্টারির কার্যক্ষমতা একটু একটু করে কমে। হৃদপেশি ফুলে যায় অনেকের। রক্তনালীর মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফ্যাট, কোলেস্টেরল জমা হতে শুরু করে। রক্তনালীর দেওয়ালে প্লাকের মতো জমা হয় ক্যালসিয়াম, কোলেস্টেরল যাকে ক্যালসিফিকেশন বলে। এর ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহের রাস্তাটাই বন্ধ হতে শুরু করে। হার্ট এজিংয়ের যেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের আগে পর্যন্ত এই করোনারি হার্ট ডিজিজের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কম।

রক্তনালীকে নমনীয় রাখে ইস্ট্রোজেন

স্ত্রী যৌন হরমোন ইস্ট্রোজেন এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়। ইস্ট্রোজেন রক্তনালীগুলির নমনীয়তা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্লাক জমতে দেয় না। সাধারণত দেখা যায়, ক্যালসিয়াম স্তরে স্তরে চকের মতো জমে রক্তনালীর ভেতর রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ক্যালসিয়ামের স্তর জমা ফলে রক্তনালী স্টিফ বা শক্ত হয়ে যায়। ইস্ট্রোজেন রক্তনালীকে শক্ত হয়ে যেতে বাধা দেয়। এই হরমোনের প্রভাবে হৃদপিণ্ডে রক্ত ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহে বাধা তৈরি হয় না। যতদিন এই হরমোন নিঃসৃত হয়, ততদিন করোনারি হার্ট ডিজিজের শঙ্কা কম থাকে।

The hormone debate: The Vilification and Redemption of Estrogen Replacement (part 2) - Action Medicine DPC, P.C.

মেনোপজের পরেই কি ভয় বাড়ে? 

মেনোপজ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মেনোপজ হতে হতে ৪৮ থেকে ৫০ বছর। এই সময় মহিলাদের শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। ইস্ট্রোজেন ক্ষরণ কমতে শুরু করে। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল বন্ধ হয়ে যায়। ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রক্তনালীর মধ্যে প্লাকের পরিমাণ বাড়তে থাকে। অনেক সময় তার জন্য ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বেঁধে যায়। কোলেস্টেরলের পরিমাণে তারতম্য আসে। খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বাড়তে থাকে, ভাল কোলেস্টেরল এইচডিএল কমে যায়। ফাইব্রোনোজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই ফাইব্রিনোজেন ব্লাড ক্লটের অন্যতম কারণ। তাই এই সময় মহিলাদের হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সমাধান কোথায়?

মেনোপজ নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। এটা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মেনোপজকে তো ঠেকানো যাবে না, তাই দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু নিয়ম মানলে মেনোপজ-পরবর্তী জীবনেও ভাল থাকা সম্ভব। পঞ্চাশের পর থেকে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক অসুখকে এড়ানো যায়। মেনোপজকে সে ক্ষেত্রে অ্যালার্ম হিসেবে ধরা হয়। মানে মেনোপজ মনে করিয়ে দেবে এবার একটু বেশি সাবধান থাকা দরকার। অনেকেরই মেনোপজের পরে হট ফ্লাশ, অনিদ্রা, বুক ধড়ফড় করে, সেক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। পঞ্চাশ পার হলেই ব্লাড প্রেসার, সুগার নিয়মিত চেক আপ করাতে হবে। ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনির রোগ থাকলে আরও সাবধান। মেনোপজের পরে মহিলাদের ইউটেরাস, ওভারি, ব্রেস্ট, সার্ভিক্সের ক্যানসার বেশি হয়ে থাকে। তাই সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার।

Heart disease is the number one killer of women in Norway” | Kilden

ইউটেরাসের সঙ্গে দুটো ওভারি বাদ গেলে সার্জিক্যাল মেনোপজ হয়। সেক্ষেত্রেও বলব, মহিলাদের ডাক্তারের চেক আপে থাকতে। না হলে তাড়াতাড়ি হাড় ক্ষয়ে যেতে পারে, হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বুকে ব্যথা নাও হতে পারে মহিলাদের হৃদরোগে

আচমকা হার্ট অ্যাটাকে পুরুষদের যে লক্ষণ দেখা যাবে, মহিলাদের সেটা নাও দেখা যেতে পারে। যেমন, হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় তীব্র বুকে ব্যথা। মনে হয় বুকে পাথর চেপে বসেছে। সেই সঙ্গে ঘাম, শ্বাসের সমস্যা। এই উপসর্গগুলো দেখে সাবধান হতে হয়। কিন্তু মহিলাদের লক্ষণ কিছু আলাদা। পঞ্চাশোর্ধ্ব অনেক মহিলাই আমাকে বলেন, খিদে কমে যাচ্ছে। ঘুম হচ্ছে না ঠিক মতো। সারাদিন ক্লান্ত লাগে। ঘরের সামান্য কাজেও হাঁফ ধরে যায়। এগুলোই হচ্ছে সিম্পটম্প। মেনোপজের পরে ঘন ঘন শ্বাসের সমস্যা, হাঁফ ধরে যাওয়া, অল্পেই ক্লান্তি, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে হেলাফেলা করবেন না। সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক মহিলাই এই লক্ষণগুলিকে বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। রোগ পুষে রাখলেই সেটা ডালপালা মেলবে। তাই শুরু থেকেই সাবধান হতে হবে। বিশেষ করে প্রেসার, সুগারের রোগীদের তো আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। ৪০ বছরের পরে যদি ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাহলেও সাবধান। কারণ ডায়াবেটিস থাকলে ক্যালসিফিকেশন অর্থাৎ রক্তনালীতে প্লাকের মতো ক্যালসিয়াম জমতে থাকে। যে কারণে হার্ট ব্লক হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত চেক আপের প্রয়োজন।

Why are Women at Higher Risk than Men for Heart Disease? | Beaumont Health

মেনোপজের পরে হতাশা, স্ট্রেস, মানসিক সমস্যা আরও বাড়ে। অনেকেই অল্পে মেজাজ হারান, খিটখিটে ভাব দেখা যায়। মানসিক স্বাস্থ্যে বদল এলে তার ছাপ পড়ে হার্টেও। স্ট্রেস, হাইপারটেনশন করোনারি হার্ট ডিজিজের সম্ভাবনাকে আরও উস্কে দেয়।

হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক, ডাক্তার নেই, কী করবেন

বিপদ বলে কয়ে আসে না। সাডন কার্ডিয়াক ডেথ (SCD) এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। আচমকাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে হার্ট। জানান না দিয়েই হার্ট অ্যাটাক হানা দিতে পারে। দুম করে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হবে বুকে, তারপরেই সব শেষ। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার সময়টুকুও হয়তো পাওয়া যাবে না। এই সাডন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হল হার্টের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি। ঠেকানো হয়তো যাবে না, তবে রোগী বাঁচানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। তাই সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন শিখে রাখার পরামর্শ দিই অনেককে। ধরুন বাড়িতেই আচমকা হার্ট অ্যাটাক হল। কাছাকাছি ডাক্তার নেই। অন্য পরিষেবাও পাচ্ছেন না। তখন কাছের মানুষটাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করা যেতে পারে। ডাক্তার বা চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়া অবধি, প্রাণটুকু ধরে রাখা যেতে পারে। সেটা কীভাবে?  যদি দেখা যায় আপনজন বুকে তীব্র যন্ত্রণার পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন, সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর করতে হবে। প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে ভাল, না হলে বিশেষ পদ্ধদিতে বুকে উপর হাত রেখে পাম্প করে মুখে ফুঁ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করতে হবে। অ্যাসপিরিন বা সরবিট্রেট জাতীয় ওষুধ থাকলে ঝুঁকি কিছুটা কমে।

Performing CPR during Pregnancy: Is It Safe?

না হলে সিপিআর দিয়েই কৃত্রিমভাবে শ্বাসের গতি চালিয়ে রাখা যেতে পারে। এইজন্য স্কুল ও কলেজ থেকেই বাচ্চাদের সিপিআর শিখে রাখার উপর জোর দিই। এটা সকলেরই জেনে রাখা ভাল। ডাক্তারের মতো না হলেও কীভাবে বুকে পাম্প করতে হবে, কী ভাবে রোগীর পালস দেখতে হবে সেই জ্ঞানটুকু থাকলেও অনেক সুবিধা হয়। রাস্তাঘাটে কোনও বয়স্ক লোককে সাডন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হতে দেখলে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। রাত-বিরেতে পরিবারের কেউ এমন বিপদে পড়লে সাহায্য করা যেতে পারে। আমি বলব, বিপদ তো আটকানো যাবে না, তবে তার থেকে সাময়িক পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়টুকু শিখে রাখা ভাল।

বেশি বয়সেও সুখে থাক হৃদয়, মহিলারা শুনছেন তো

বয়সকে বেঁধে রাখা যাবে না। স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় বদল আসবেই। তাই শরীরকেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে। তার জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বদল বা লাইফস্টাইল মডিফিকেশন খুবই দরকার। চল্লিশের পর থেকেই শরীর ও মনের একটু বেশি যত্ন নিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্ট্রেস ফ্রি থাকার চেষ্টা, টেনসন মুক্ত জীবন দরকার। ধূমপানে লাগাম টানতে হবে। অ্যালকোহলের নেশা কমাতে হবে। একদিনে হবে না, ধাপে ধাপে মনকে তৈরি করতে হবে।

পুষ্টিতেই হার্টের তুষ্টি

ধরাবাঁধা নিয়মে খেতে হবে এমনটা বলব না। কারণ সবসময় নিয়ম মানা সম্ভব হয় না। তবে প্রতিদিনের ডায়েটে তৈলাক্ত খাবার কম রাখারই চেষ্টা করবেন। ভাত, রুটি, সবুজ শাক-সব্জি, মাছ, দুধ, নানা রঙের ফল রোজকার খাবারে দরকার। নুন যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করলে ভাল। ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই মিষ্টিজাতীয় খাবারে রাশ টানতে হবে। মেনোপজের আগে ইস্ট্রোজেন হরমোনের সুরক্ষা থাকায় হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা কম থাকে বলে ছন্নছাড়া জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে চলবে না। কারণ শরীরের উপর অত্যাচার হলে, শরীরও তার বদলা নেবে কঠোর ভাবেই। অনিয়মিত জীবনযাপন, ধূমপান, বাড়ির খাবারের থেকে জাঙ্ক ফুডে বেশি আসক্তি, স্ট্রেস, গর্ভনিরোধক পিল ইত্যাদির কারণে কম বয়সেও প্রেসার, ডায়াবেটিস হানা দিতে পারে। চল্লিশের কমেই যদি প্রেসার, সুগার, হাইপারটেনশন বাসা বাঁধে. তাহলে মেনোপজের পরে হৃদরোগের আশঙ্কা যে বাড়বে সেটা বলাই বাহুল্য। তখন আর নারী বা পুরুষের মধ্যে কোনও ভেদ থাকবে না।

12 Heart-Healthy Foods to Work into Your Diet – Health Essentials from Cleveland Clinic

সুগার থাক বশে

রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা সবচেয়ে আগে জরুরি। কারণ সুগার লেভেলে হেরফের হলে হার্ট ডিজিজের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নিয়মিত চেক আপ খুবই জরুরি। আগেই বলেছি, ডায়াবেটিস এমন একটা রোগ যা রক্তনালীতে ক্যালসিফিকেশন বাড়িয়ে দেয়, রক্তনালীতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের শঙ্কাও বাড়ে। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ওজন, রক্তচাপও বশে রাখতে হবে। কোলেস্টেরল-ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণে রাশ না থাকলে বিপদ হানা দিতে পারে নিঃশব্দেই।

একটু হাঁটুন না, শরীর-মন দুই ভাল থাকবে

নিয়মিত শরীরচর্চা খুব দরকার। হাল্কা যোগব্যায়াম করতে সকলকেই বলি। চল্লিশের পরে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন নিয়মিত করলে শরীর ও মন দুই চাঙ্গা থাকে। যারা কার্ডিও করেন সেটাও করতে পারেন। হাল্কা ওজন তোলার অভ্যাস থাকলে ভাল। যদি এসব কিছুই সম্ভব না হয়, তাহলে সবচেয়ে সহজ উপায় হল হাঁটুন। ওয়াকিং হল বেস্ট এক্সারসাইজ। আধঘণ্টাও হাঁটুন না। তাহলেই কাজ হবে। প্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল সবকিছুই বশে থাকবে। রাতে ঘুম ভাল হবে। খিদে-হজম হবে। দম বাড়বে, শ্বাসের সমস্যা কমবে। হতাশা, অবসাদে মন ভারী হবে না। মেজাজ থাকবে হাল্কা, ফুরফুরে। মন সুস্থ থাকলে হার্টও সতেজ থাকবে।

Walking The New Fad. “A morning walk sets us out on the… | by Anita Sud | ILLUMINATION | Medium

মহিলারা পরিবারের বাকি সকলের খেয়াল রাখলেও, নিজেরা রুটিন মেনে চলতে চান না। বয়স্কা মহিলারা তো আরও বেশি। আমি বলব, একটু নিয়ম মানুন। সকলের যত্ন করছেন যেমন, নিজের শরীর-মনেরও যত্ন নিন। মা-বোনেরা ভাল থাকলে পরিবারও সুখে থাকবে। বয়স বাড়লেও তারুণ্যে ভরপুর থাকবে হৃদয়।

```