
শেষ আপডেট: 10 October 2023 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মহামারীর এই দু'বছরে মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) একদম দফারফা হয়ে গেছে। খালি মনে হয় মন ভাল নেই। সেই সঙ্গেই একরাশ স্ট্রেস, অবসাদ (Mental Detox)। একাকীত্বেও ভুগছেন অনেকে। ঘন ঘন মুড বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণে। স্ট্রেস, মানসিক চাপ নিত্যসঙ্গী। এগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে খুবই ভাল, কিন্তু স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টে যদি আপনি পারদর্শী না হন, তাহলে নিঃসন্দেহে মাথাচাড়া দিতে পারে অবসাদ (Mental Stress) । তখন মুঠো মুঠো ওষুধ খাওয়া, থেরাপি ছাড়া কোনও গতি নেই। তবে গবেষণা বলছে, মানসিক অবসাদ ওষুধ ছাড়াও কমতে পারে একটি বিশেষ উপায়।
অবসাদ মানেই অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট ড্রাগ। ‘এফেক্টিভ ডিসঅর্ডার’ মেডিক্যাল জার্নালের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অবসাদ, উৎকণ্ঠা বা অ্যাংজাইটি দূর হতে পারে শারীরিক কসরতেই। নিয়ম করে হাঁটা বা দৌড়নোই হল সেই মেডিসিন যাতে অবসাদ ঘুচে যাবে চিরতরে। কোনওরকম ওষুধ খাওয়ার দরকার পড়বে না বা কঠিন থেরাপির মধ্যে দিয়েও যেতে হবে না।
ইউরোপিয়ান কলেজ অব নিউরোসাইকোফার্মাকোলজির গবেষকরা বলছেন, মনের ব্যধি হল স্ট্রেস। একে দূরে রাখতে পারলেই মন ভাল থাকবে। তার জন্য শরীর ও মনকে ডিটক্স করতে হবে। মাথা ধরা, তিরিক্ষে মেজাজ, প্রচণ্ড ক্লান্তি অথচ শুলেও আসছে না ঘুম। শরীরের এমন বেহাল দশার সমাধান করতে পারে শারীরিক পরিশ্রমই। মন ও ব্রেনকে ডিটক্স করার এটাই আদর্শ উপায়। গবেষকরা বলছেন, প্রথমেই দৌড়তে শুরু করবেন না। তার আগে অবশ্যই ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ এবং ওয়ার্মআপ করতে হবে। না হলে হঠাৎ দৌড় শুরু করলে পেশিতে টান লাগতে পারে। চোট আঘাতের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।এমন জুতো পরে দৌড়বেন, যা এই ধরনের শরীরচর্চার জন্য আদর্শ। দরকারে আগে থেকে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারেন। দৌড়ের সময়ে সঠিক জুতো না পরলে স্নায়ুর সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে।
অবশ্যই হালকা কিছু খেতে পারেন দৌড়ের আগে। কিন্তু ভরা পেটে কখনও নয়। কারণ, খাবার হজম করতে শরীর অনেকটা শক্তি খরচ করে। সে সময় দৌড়লে খাবার ঠিক করে হজম হয় না। অল্পতেই আপনি হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। দৌড়নোর মাঝেমাঝে খানিক ক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে অল্প অল্প করে জল খেতে পারেন। শরীরে যেন জলের ঘাটতি না হয়। একটি নির্দিষ্ট গতিতে দৌড়ন। এই প্রচণ্ড জোরে দৌড়লাম, এই আবার আস্তে! এ রকম করবেন না। হাঁপিয়ে গেলে বিশ্রাম নিয়ে তার পর দৌড়ন।
গবেষণা বলছে, ২০২০ সাল অর্থাৎ করোনাকালের পর থেকে মানসিক উদ্বেগ, রাগ, অবসাদের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে, যা গত ১০ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ (Women Mental Health)। সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ, বেকারত্ব, সম্পর্কের অবনতি, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, গার্হস্থ্য হিংসা–সব মিলিয়ে অবসাদ বেড়েছে। একই সঙ্গে মানসিক উদ্বেগও বেড়েছে নানা কারণে। এমনও দেখা গেছে, ইদানীংকালে সবচেয়ে বেশি অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন লোকজন। এর থেকে রেহাই পেতে হলে নিয়মিত শরীরচর্চাই আদর্শ উপায়।