দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আবহে বাইরে বেরিয়ে রেস্টুরেন্টে বা ধাবায় বসে খাওয়ার মজা অনেকেই আর নিতে পারছেন না। অনেকে আবার মনে করছেন এইসময় বাইরের খাবার যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সেই খাবারগুলোকে বাদ দিয়ে নীরস জীবন কাটাবেন কী ভাবে? তাই এই ঘোরতর সমস্যার সমাধানও নিজেরাই করছেন! নিউ নর্মাল জীবনে এখন প্রায় প্রতি ঘরেই খুঁজলে পাওয়া যাবে একজন পাকা রাঁধুনিকে। খাদ্যরসিক মানুষ বাইরে যেতে না পারলে কী হবে, বাড়িকেই বানিয়ে ফেলেছেন রেস্টুরেন্ট! বাড়ির খাবারের যে চিরাচরিত ধারণা তাও খানিকটা বদলে গেছে বর্তমানে।
বেঙ্গালুরুতে বসে মালাবারের মান্ডি বিরিয়ানি খাওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন আবদুল জালিল ও শামীন। আবদুল জানান এবছরের ওনামের সময় থেকে তিনি এবং তাঁর সহকর্মী শামীন মালাবার অঞ্চলের বিভিন্ন রকম খাবার বানানো শুরু করেন। যে খাবারগুলো সাধারণত হোটেল বা রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়না সেগুলোও এখন তাঁরা বাড়িতে বানিয়ে খাচ্ছেন। এরমধ্যে দম পরোটা, ক্যালিকট স্টাইলের দম বিরিয়ানির কথার সবার আগে উল্লেখ করেছেন আবদুল।
আবার কলকাতায় বসে শ্রীলঙ্কার খাবারের স্বাদ উপভোগ করেছেন নীলুফার বেবিবোন। তিনি জানান যে তাঁর এই খাবারের প্রতি আগ্রহটা জন্মেছে তাঁর মায়ের থেকে। তাঁর মা একজন শ্রীলঙ্কার বাসিন্দার, তাই শিকড়ের প্রতি তাঁর একটা টান রয়েছে। এখন কলকাতায় বসে তিনি আবারও শ্রীলঙ্কার খাবার লম্প্রেইস বানিয়ে খাচ্ছেন। তবে বেরি পোলাও এবং ক্র্যাব কারি তাঁর বেশি পছন্দের বলে জানিয়েছেন।
মুম্বাইতে থেকেও খাঁটি বাঙালি খাবারের স্বাদ উপভোগ করেছেন মধুমিতা পাইন। তিনি বলেন, বিগত কয়েকমাস ধরে তিনি বাড়িতেই বাঙালি খাবার রান্না করে চুটিয়ে খাচ্ছেন। সেই রান্নার তালিকাও নেহাতই কম নয়! কষা মাংস, শাকসবজি, শুক্ত, মাছের নানারকম পদ বানিয়েছেন মধুমিতা।
আবার বিজিতা হরিশ মাটন বিরিয়ানির কথা বলেছেন। বাড়িতেই বিভিন্ন মশলা দিয়ে তিনি এবং তাঁর ভগ্নিপতি হিজা এই বিরিয়ানি বানানো শুরু করেন জুন মাস থেকে। এতদিন শুধু বাড়ির লোক এবং বন্ধুদের জন্যে বানাতেন তবে বর্তমানে তাঁদের বানানো এই বিরিয়ানির সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে অনেকদূর। লকডাউনের মধ্যেও আর্থিক দিক থেকে রোজগারের একটা পথ খুঁজে পান তাঁরা।