
শেষ আপডেট: 29 March 2024 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে ডিহাইড্রেশন হয়। ডাক্তাররা বেশি করে জল খেতে বলেন, কারণ জল না খেলে যেমন হজমের গোলমাল হয়, তেমনিই হরমোনের সমস্যাও দেখা দিতে থাকে। এ তো গেল একটা দিক। গরম পড়ছে। এখন ডিহাইড্রেশন এড়াতে নানারকম পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু ওভারহাইড্রেশন (Overhydration) কী জানেন?
অনেক সময়েই শুনবেন লোকজন বলছে যে শরীরে জল জমে যাচ্ছে। আচমকা ওজন বাড়ছে, হাত-পা গোড়ালি ফুলে যাচ্ছে। এইসব লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হতে হবে। কারণ বুঝতে হবে শরীরে জল জমতে শুরু করেছে। আপনি ওভারহাইড্রেশনের শিকার।
ওভারহাইড্রেশন কী?
মানুষের শরীরে ৫০-৬০ ভাগ জল থাকে। শরীরে জল, খনিজ লবণ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য থাকে। এই ভারসাম্য বিগড়ে গেলেই মুশকিল। তখন শরীরে জলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন কোষ-কলাগুলিতে জল জমে যায়। ফলে শরীর ফুলতে থাকে। একেই বলে ওভারহাইড্রেশন।
শরীরে বেশি জল জমে গেলে রক্তচাপ বাড়ে, এর প্রভাব পড়ে হার্টে। হৃদপেশির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। পায়ে, পেটে, বুকে জল চলে আসে। এসব রোগীর বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্ত চাপ, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ক্লান্তবোধ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
কেন জল জমে?
ফুসফুস বা কিডনিতে কোনও জটিল রোগ বাসা বেঁধে থাকলে, তার থেকেও জল জমতে পারে। লিভার সিরোসিস হলে প্রথমে পেটে ও পরে পায়ে ও বুকে জল জমে যায়। হেপাটাইটিস ভাইরাস বি ও সি, অতিরিক্ত মদ্যপান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভারের সিরোসিস হয়। কিডনির সমস্যা থাকলে ওভারহাইড্রেশন হতে পারে। নেফ্রোটিক সিনড্রোম, নেফ্রাইটিস ও কিডনি বিকল হলে প্রথমে মুখে, পরে পায়ে ও বুকে জল জমে।
তবে শরীরে জলের পরিমাণপ্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গেলে সাধারণ ভাবে তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু শরীরে যখন তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জল যায় তখন বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ পায়। সেগুলি কী কী?
১) ঘন ঘন প্রস্রাব পেলে বুঝতে হবে কিছু তো গন্ডগোল হয়েছে। অনেকেই ভাবেন সুগারের কারণে এমন হচ্ছে, তা নাও হতে পারে।
২) শুধু প্রস্রাব ঘন ঘন পাওয়া নয়, একই সঙ্গে জলতেষ্টাও বাড়বে। ধরুন, এই কিছুক্ষণ আগে জল খেলেন আবার দেখবেন একটু পরেই গলা শুকিয়ে কাঠ।
৩) ওভারহাইড্রেশনের অন্যতম লক্ষণ হল বমি বমি ভাব। শরীরে অতিরিক্ত জল জমলে পিত্তাশয় সেই অতিরিক্ত তরল শোষণ করতে পারে না, ফলে পিত্তাশয়ে জলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তখন বমি বমি ভাব দেখা দেয়।
৪) প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হবে। শরীরের কোষে অতিরিক্ত জল জমতে থাকলে লবণের পরিমাণ কমে যায়, কোষ ফুলে যায়। শ্বাস নিতেও সমস্যা হতে পারে।
ওভারহাইড্রেশন হলে কী করবেন?
কম নুন খান। জাঙ্ক ফুড, বেশি মশলাদার খাবার একদম চলবে না।
চা, কফি খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
অ্যালকোহল এই সময় শরীরের জন্য বিষ।
সবুজ শাকসব্জি, ফল বেশি করে খান। পাতে রাখুন টমেটো, কলা, অ্যাভোক্যাডো, শসা, বাঁধাকপি, পালং শাক। ভিটামিন বি রয়েছে এমন খাবার বেশি করে খান। শরীরে জল জমা এড়াতে স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও ওয়েট লিফ্টিং করুন। এতে পুরো শরীরে ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন হবে।
ওভারহাইড্রেশন হলে দিনে কতটা জল খেতে হবে তা ডাক্তারের থেকে জেনে নিন।
হাল্কা খাবার খান, নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন।