শেষ আপডেট: 16 January 2020 07:50
কিন্তু বেশ কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেও সবরকম মাপকাঠি মিলিয়ে কোনও লিভার পাওয়া যায়নি। এমনকি দিল্লি গিয়েও মেলেনি কোনও ডোনার। শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল রঞ্জিতবাবুর। তখনই এগিয়ে আসেন রাজ কুণ্ডু, রঞ্জিতবাবুর ছেলে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজ জানান, বাবাকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর তিনি। তাই তিনিই লিভার দেবেন বাবার জন্য। প্রথমে পরিবারের তরফে অনেকেই রাজি হননি রাজের কথা শুনে। ১৯ বছরের ছেলের শরীর-স্বাস্থ্যে কোনও সমস্যা হোক, তা কেউই চাননি।
কিন্তু সবরকম পরীক্ষানিরীক্ষার পরে চিকিৎসকরা জানান, রাজের শারীরিক মাপকাঠির সঙ্গে সবকিছুই ম্যাচ করছে রঞ্জিতবাবুর। তাঁরা রাজি হন রাজের লিভার তাঁর বাবার দেহে প্রতিস্থাপন করতে। শেষমেশ ছেলের জেদের কাছে হার মানতে হয় পরিবারকে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, রাজের শরীর থেকে লিভারের ৬৫ শতাংশ কেটে বসানো হবে বাবা রঞ্জিত কুণ্ডুর দেহে।
এর পরে সোমবার রঞ্জিত কুণ্ডুকে ভর্তি করানো হয় এসএসকেএম-এর লিভার ডিজিজ বিভাগে। ১৮ জন চিকিৎসকের একটি দল দিল্লি থেকে এসে পৌঁছন কলকাতা। আজ, বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় শুরু হয় অস্ত্রোপচার। অপারেশন থিয়েটারে পাশাপাশি বেডে শোয়ানো হয় বাবা ও ছেলেকে। রাজের লিভারের অংশ নিয়ে তা তার বাবার শরীরে প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়। চলে দীর্ঘ অপারেশন। লাগে অনেকটা রক্ত। চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, সন্ধে পর্যন্ত চলতে পারে অপারেশন।