দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যাটা হাড় হিম করে দেওয়ার মতোই। আমাদের দেশের ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ মারণ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। পাঁচ লক্ষাধিক ক্যানসারে প্রাণ হারান প্রত্যেক বছর। বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপনে সংযমের অভাব, খাদ্যাভ্যাস, নেশার প্রবণতা ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শহরের মেয়েদের মধ্যে আবার ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রবণতা বেশি। সময় যত এগোচ্ছে মানুষ এই মারণ রোগ সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছে। নিত্যনতুন চিকিৎসা পদ্ধতিও আসছে। ক্যানসার লড়াইয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সিএমআরআই হাসপাতাল। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধপত্র, কাউন্সেলিংয়ে ক্যানসার রোগীদের নতুন জীবনদান করছেন সিএমআরআই-এর অনকোলজি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
হাসপাতালের বিশিষ্ট ডাক্তাররা বলছেন, এখন ক্যানসার রোগীদের জন্য ১০টি বেড রাখা হয়েছে হাসপাতালে। অনকোলজি বিভাগে অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ডাক্তারদের টিম ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা করছেন। ডা. চঞ্চল গোস্বামী, ডা: ইন্দ্রনীল খান, ডা: সুদীপ্ত সাহা, ডা: জ্যোতিরূপ গোস্বামী, ডা. সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. শুভম ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্ট ডাক্তাররা রয়েছেন। অস্ত্রোপচার, থেরাপির পাশাপাশি মেডিক্যাল কাউন্সেলিংও হচ্ছে হাসপাতালে।
হাসপাতালের কনসালট্যান্ট মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা: চঞ্চল গোস্বামী বলেন, “বর্তমানে চিকিৎসার প্রযুক্তি, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থায় এসেছে আমূল বদল। ক্যানসার চিকিৎসা এখন আগের থেকে অনেক উন্নত। ঠিক সময়ে এবং সঠিক চিকিৎসা হলে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সাফল্য আসে। শরীরের নানা অঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা চিকিৎসকরা রয়েছেন যাঁরা নির্দিষ্ট থেরাপি করেন। বহু জটিল আপারেশন এখন মাইক্রোস্কোপ এবং নেভিগেশন সিস্টেম দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের প্যাথোলজি বিভাগও খুবই উন্নত। এক্ষেত্রে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, পেট সিটি-এর মতো পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার রোগটি এবং রোগের পর্যায় সম্পর্কে জানতে পারি।“
মুখের বা গলার ক্যানসারের জন্য ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ইএনটি সার্জেন রয়েছেন হাসপাতালে। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তকে থোরাসিক ক্যানসার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে, হাসপাতালে অভিজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন। একইভাবে খাদ্যনালীর ক্যানসারে আক্রান্তকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। একইভাবে শরীরের অন্যান্য অংশের ক্যানসারের জন্য রয়েছে বিশেষজ্ঞ দল। তাঁরাই গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে চিকিৎসা পদ্ধতি বিবেচনা করেন।
হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, সিএমআরআই-তে ডায়গনস্টিক রেডিওলজি এবং থেরাপিউটিক রেডিওলজির আলাদা বিভাগ রয়েছে। তবে সব ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিওলজির ব্যবহার নেই।
ডা: চঞ্চল গোস্বামী আরও জানান, রোগীর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ বানিয়ে ফেলেন ডায়েট চার্ট। সেই ডায়েট মানতে হয় রোগীকে। ক্যানসার শুধু শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে তা নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন রোগী। অনেকেই গভীর ট্রমায় চলে যান। মৃত্যুভয় গ্রাস করে অনেককে। সেক্ষেত্রে রোগীকে বুঝিয়ে জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার দরকার পড়ে। মনোবল বাড়াতে হয়। সেই কাজের জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারদের টিম রয়েছেন, যাঁরা রোগীদের মানসিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কাউন্সেলিং করান। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে রোগীকে বাঁচার পথ দেখান ডাক্তারবাবুরা।