দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের অষ্টম হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার চলছে ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সব ঠিকঠাক হলে, ৪৪ বছরের এক রোগিণী ফিরে পাবেন নতুন জীবন। জানা গিয়েছে, দমদমের বাসিন্দা তিনি। তাঁর শরীরে বসছে মুম্বইয়ের এক ১৬ বছরের কিশোরের হৃদপিণ্ড।
অনেক দিন ধরেই দুরারোগ্য হৃদরোগ ডায়লেটেড কার্ডিও মায়োপ্যাথিতে ভুগছিলেন ওই মহিলা। প্রয়োজন ছিল প্রতিস্থাপনের, খোঁজ চলছিল হার্টের। অবশেষে মিলল হার্ট। সুদূর মুম্বই থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে, ক্যাসকেড বাক্সে বন্দি করে সে হার্ট মঙ্গলবার রাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতা। রাত ১০টা ২০-তে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছয় হার্ট। তৈরি ছিল গ্রিন করিডর। সেখান দিয়ে মাত্র ১৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে ১৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হার্ট পৌঁছয় বাইপাসের ওই হাসপাতালে।
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া ছিল আগে থেকেই। পৌনে এগারোটা নাগাদ দুই হার্ট সার্জেন ডক্টর কেএম মন্দনা এবং কার্ডিওথোরাসিক ট্রান্সপ্লান্ট সার্জেন ডক্টর তাপস রায়চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় অস্ত্রোপচার।
সূত্রের খবর, মুম্বইয়ের গ্লোবাল হাসপাতালে ব্রেন ডেথ হয় ১৬ বছরের এক কিশোরের। তার পরিবারের তরফে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধে ছ'টা ৪০ নাগাদ ওই কিশোরের হার্ট বার করে সংরক্ষণ করা হয়। তার পরেই দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতা।
এই নিয়ে শহর কলকাতা সাক্ষী থাকল আট নম্বর হার্ট প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের। এমনটাই জানান কার্ডিওথোরাসিক ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. তাপস রায়চৌধুরি। তাঁর নেতৃত্বেই শহর কলকাতা প্রথম হার্ট প্রতিস্থাপনের সাক্ষী থেকেছে। সে বার বেঙ্গালুরু থেকে উড়ে আসা হার্ট কলকাতার একটি হাসপাতালে বসানো হয়েছিল ঝাড়খণ্ডের দিলচাঁদ সিংয়ের শরীরে।
এ দিন মুম্বই থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে খবর আসার পরে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও জাতীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংগঠন নোটো-র তরফে সবুজ সঙ্কেত পেয়েই হার্টটি কলকাতায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। চরম তৎপরতার সঙ্গে সারা হয় গোটা পদ্ধতি।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কলকাতায় অনেক হাসপাতালে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু তার পরেও এ রাজ্যে হৃদ্-প্রতিস্থাপনের সংখ্যা তেমন ভাবে বাড়ছে না। এর জন্য অঙ্গের আকালকেই দুষছেন চিকিৎসকরা। দায়ী করছেন অঙ্গ দান নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবকে।