দ্য ওযাল ব্যুরো: মেনস্ট্রুয়াল কাপ বিষয়টার সঙ্গে অনেকের পরিচিত ঘটলেও, অনেকেই এখনও হয়তো নামই শোনেননি বস্তুটির। এক কথায় বলতে গেলে, পিরিয়ড বা মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল তলার সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও আধুনিক একটি বস্তু হল এই মেনস্ট্রুয়াল কাপ।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, ঋতুকালীন অস্বাচ্ছন্দ্য দূর করে এই মেনস্ট্রুয়াল কাপ। সবচেয়ে বড় কথা, এটি পরিবেশবান্ধব। মেডিকেল গ্রেড সিলিকনের তৈরি একটা মাথাখোলা কাপের মত পাত্র, যার সাথে একটি ছোট, সরু পাইপ বা নল লাগানো থাকে।
পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন কাপটিকে খোলা মুখ ভেতরদিকে করে যোনিপথে প্রবেশ করাতে হয়। এর ফলে মাসিকের রক্ত, মিউকাস ইত্যাদি পদার্থ জমা হয় ওই কাপের মধ্যেই। কতটা পরিমাণ রক্ত বের হচ্ছে তারওপর ভিত্তি করে কাপটিকে দিনের মধ্য়ে কয়েক বার পরিষ্কার করতে হয়। মোটামুটি ৬-৮ ঘন্টার মধ্যে কাপটিকে যোনি থেকে বের করে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যায়।
মেডিকেল গ্রেড সিলিকন ফ্লেক্সিবেল হওয়ার কারণে সহজেই যোনিতে ঢোকানো ও বার করা যায়। তবে প্রতি বার মাসিকের সময়ে ব্যবহারের আগে আর মাসিক হয়ে যাওয়ার পরে ফুটন্ত জলে খুব ভাল করে অনেকটা সময় ধরে ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হয় কাপটিকে।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কতটা নিরাপদ? সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে! স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, সঠিক ভাবে পরিষ্কার করে ব্যবহার করলে মেনস্ট্রুয়াল কাপ কিন্তু ন্যাপকিন বা ট্যাম্পনের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। মেনস্ট্রুয়াল কাপ মাসিকের রক্তকে দেহ থেকে দূরে রাখে। অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা রাখেন যে মেনস্ট্রুয়াল কাপের জন্যে ভার্জিনিটি নষ্ট হয় অর্থাৎ হাইমেন ছিঁড়ে যায়! এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, কারণ যোনিপথের সামনের দিকেই কাপটি থাকে, হাইমেন পর্দার ধারে-কাছেও যায় না।
একটা কাপ ৫-১০ বছর ব্যবহার করা যায়, যদি ঠিক করে নিয়ম মেনে রাখা হয়। দামও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই, মোটামুটি ৫০০ টাকা থেকে শুরু। বিদেশি সংস্থার তৈরি কাপ ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা মতো দাম পড়ে। বেশ কয়েকটি নির্মাতা সংস্থার কাপ এখন জনপ্রিয়, তাদের মধ্যে রয়েছে কিপার কাপ, মুন কাপ, লুনেট মেনস্ট্রুয়াল কাপ, ডিভা কাপ, লেনা কাপ এবং লিলি কাপ। অনলাইনে যে কোনও নির্মাতা সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে কেনা যাবে এই কাপ।
কীরকম কাপ কিনবেন?
সারভিক্সের গভীরতার উপর নির্ভর করেই মেনস্ট্রুয়াল কাপ কেনা উচিত। হাই সারভিক্সের ক্ষেত্রে বড়, লো সারভিক্সের ক্ষেত্রে ছোটো এবং মাঝামাঝি সারভিক্সের ক্ষেত্রে মিডিয়াম সাইজের মেনস্ট্রুয়াল কাপ কেনা উচিত।
এবার সারভিক্স কোনটা বুঝবেন কী করে? জরায়ুর নিচের অংশটিকে সারভিক্স বলে। বোতলের মতো নলাকার অংশটি যোনি প্রাচীরের সাথে জরায়ুর সংযোগ করে করে। গর্ভবতী অবস্থার শেষ দিকে ডাক্তাররা অনেকসময় সারভিক্সের ওপেনিং চেক করেন।
পরিষ্কার জলে সাবান দিতে হাত ধুয়ে নিয়ে কাপ এই সার্ভিক্সের ভেতরে ঢোকাতে হবে। ভারী চেহারার, তিরিশের উপর যাঁদের বয়স এবং নরমাল ডেলিভারিতে যাঁরা মা হয়েছেন, তাঁদের সারভিক্স তুলনামূলক বড় হয়। ফলত, তাঁদের বড় কাপ ব্যবহার করতে হয়। কমবয়সি ও হাল্কা চেহারার জন্য ছোট সাইজের কাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন গাইনোকোলজিস্টরা। তবে যদি প্রচুর রক্ত বের হয় তাহলে বড় কাপই ব্যবহার করা দরকার। যাঁরা নিয়মিত যৌনসংসর্গ করেন তাঁদের সারভিক্স বড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে, তাই সেক্ষেত্রে তাঁদের বড় কাপই ব্যবহার করা প্রয়োজন।
সাধারণত কম দামী ন্যাপকিন কিনলেও তার যা খরচ পরে, তার থেকে মেনস্ট্রুয়াল কাপের খরচ অনেক কম। এছাড়াও এসটিডি, অন্যান্য ইনফেকশন, ওভারিয়ান ক্যান্সারের মত রোগ থেকেও দূরে থাকা যায়। চিন্তা দূর হয় দাগ-ছোপের। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে এই কাপ, না হলে লিকেজ হতে পারে।
সাবধানতা হিসেবে কেনার সময় দেখে নিতে হবে, কাপের মেটেরিয়াল যেন মেডিকেল গ্রেড সিলিকন দিয়ে তৈরি হয়। এছাড়া সদ্য মা হলে, অ্যাবরশন বা মিসক্যারেজ হলে বা আই.ইউ.ডি. থাকলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করতে হবে।