
শেষ আপডেট: 4 December 2020 16:28
এখানে মোট ৪৭টি কবর আছে। সবচেয়ে পুরনো কবরটি হল ড্যানিয়েল ভ্যানদার ম্যুল-এর, যিনি ১৭২১ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। ড্যানিয়েল প্রয়াত হলে সুউচ্চ দুটি স্তম্ভ-সহ সমাধিটি নির্মিত হয়। সব কবরগুলি ১৭২১ থেকে ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। কিছু সূক্ষ্ম চূড়াবিশিষ্ট সমাধিস্তম্ভ চুঁচুড়ার ডাচ সমাধিক্ষেত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। টেমার্স ক্যান্টর ভিশাশের সুদৃশ্য শ্বেত সমাধি মন্দিরটি বেশ সুন্দর, এটি ইউরোপীয় উপাসনা মন্দিরের রীতিতে নির্মিত। চুঁচুড়ার সুসানা আন্না মারিয়ার সমাধি মন্দিরের সঙ্গে হুবহু এক। শুধু এখানে ভিত্তিবেদির উচ্চতা কম। এটি অসাধারণ পুরাকীর্তির নিদর্শন। বর্তমানে এই ক্ষেত্রটি পুরাতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত।
কাশিমবাজার রাজবাড়ি থেকে কাছে, কাশিমবাজার রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৫৭ ফুট সুউচ্চ সুন্দর মন্দিরে বেশ বড় শিবলিঙ্গ কপিলেশ্বর নিত্য পূজিত হচ্ছেন। পণ্ডিত কৃষ্ণনাথ রায় পঞ্চাননের পিতা রামকেশব দেবশর্মা ১৭৩৩ শকাব্দ অর্থাৎ ১৮১১ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কালের প্রভাবে মন্দিরটি জীর্ণ হয়ে পড়লে লালগোলার রাজা যোগেন্দ্রনারায়ণ রায়বাহাদুর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে এটি সংস্কার করিয়ে দেন। প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমেই শিবপার্বতীর সিমেন্টের মূর্তি দেখা যাবে যা সম্প্রতি হয়েছে। তারপরেই প্রশান্ত অঙ্গনের মধ্যে মন্দির। স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের দিক দিয়ে জেলার অন্যতম মন্দির এটি।
মন্দিরের প্রবেশপথে একটি একবাংলা ঢাকা বারান্দা আছে। মন্দিরের প্রথম অংশে বাঁকানো কার্নিশ, দ্বিতীয় অংশে পদ্মের আটটি পাপড়ি আর তৃতীয় অংশে উলটানো পদ্ম আকৃতির চূড়া। একবাংলার বারান্দার দেওয়ালে ও সামনের দিকে পৌরাণিক দেবদেবী, রাম-রাবণের যুদ্ধ, কৃষ্ণলীলা ও ফুলবাড়ি নকশার টেরাকোটা রয়েছে। টেরাকোটাগুলি উৎকৃষ্ট মানের। এছাড়া চুন-বালির দুর্গা, কালী প্রভৃতি মূর্তিগুলিও সুন্দর। মন্দির প্রত্যহ সকাল ৬টা থেকে ১১টা ও বিকাল ৪টা থেকে ৮টা অবধি খোলা থাকে। শিবরাত্রিতে এখানে বিরাট মেলা বসে ও বহু মানুষের সমাগম হয়। বৈশাখ, শ্রাবণ, চৈত্র মাস ছাড়াও সারাবছর ভক্তদের আনাগোনা থাকে।
এমন অদ্ভুতদর্শন কালীমূর্তি সম্বন্ধে যে গল্প প্রচলিত আছে তা হল-– কৃষ্ণদাস হোতা ছিলেন আলিবর্দী খাঁর অধীনস্থ রাজ কর্মচারী। তিনি পথ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া এক কন্যাকে আদরযত্নে মানুষ করতে থাকেন। নাম রাখেন করুণাময়ী। বিবাহযোগ্যা হলে বারবার তার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি কৃষ্ণদাস। একদিন তিনি কোনও একটি জায়গায় যাচ্ছিলেন। করুণাময়ী তার পিছু নেয়। হঠাৎ করুণাময়ী পায়ে আঘাত পায়। কৃষ্ণদাস তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। কাজ সেরে তিনি বাড়ি ফিরে জানতে পারেন করুণাময়ী ফেরেনি। তাকে খুঁজতে খুঁজতে তিনি শ্মশানঘাটে আসেন। সেখানে তিনি এক দৈববাণী শুনতে পান যে, স্বয়ং মা কালী তার কন্যা করুণাময়ীরূপে তাঁর গৃহে এতদিন ছিলেন। বর্তমানে ওই শ্মশানের একটি গাছের কোটরে তিনি অবস্থান করছেন। গাছের কোটর থেকে সেই বিগ্রহকে উদ্ধার করে তিনি এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করেন। দেবী নিত্যপূজিতা। এখানকার প্রধান উৎসব রটন্তী চতুর্দশী তিথিতে (পৌষ মাসে) দেবীর বার্ষিক পূজা ও উৎসব হয়। এই উৎসব প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো। এই উপলক্ষে এক মাস ধরে একটি বিরাট মেলা বসে। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও পাশাপাশি জেলা বীরভূম, নদিয়া ও কলকাতা থেকেও বহু মানুষ এখানে আসেন দেবীকে দর্শন করতে। এছাড়াও প্রতিবছর পৌষ মাসের শনি-মঙ্গলবার জাঁকজমক সহকারে দেবীর পূজা হয় এবং দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। দেবী জাগ্রতা বলে ভক্তদের বিশ্বাস। কাছের বিলে স্নান করে মন্দিরে লাগোয়া বটগাছে তারা ইটের টুকরো বা পাথর বেঁধে দেন মনষ্কামনা পূরণের আশায়।
বহরমপুরে রাত্রিবাস করে এগুলি দেখে নেওয়া সুবিধার হবে। রাত্রিবাসের ঠিকানা : বহরমপুর টুরিস্ট লজ, ৪৮ কে এন রোড, দূরভাষ : ০৩৪৮২ ২৫৯৭১১।
কাছেপিঠে আরও নানা জায়গায় বেরিয়ে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লাইনে।