Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

কালিকাপুর, ব্যাসপুর ও বিষ্ণুপুর

রত্না ভট্টাচার্য্য শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য যাঁরা বেড়াতে ভালবাসেন, যাঁরা দেখতে চান বাংলার মুখ, তাঁদের কথা মনে রেখেই এই ধারাবাহিক ‘পায়ে পায়ে বাংলা’। খুঁজে নিন আপনার পছন্দের জায়গা, গুছিয়ে ফেলুন ব্যাগ, হুস করে বেরিয়ে পড়ুন সপ্তাহের শেষে। আপনার সঙ্গ

কালিকাপুর, ব্যাসপুর ও বিষ্ণুপুর

শেষ আপডেট: 4 December 2020 16:28

রত্না ভট্টাচার্য্য শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য

যাঁরা বেড়াতে ভালবাসেন, যাঁরা দেখতে চান বাংলার মুখ, তাঁদের কথা মনে রেখেই এই ধারাবাহিক ‘পায়ে পায়ে বাংলা’। খুঁজে নিন আপনার পছন্দের জায়গা, গুছিয়ে ফেলুন ব্যাগ, হুস করে বেরিয়ে পড়ুন সপ্তাহের শেষে। আপনার সঙ্গে রয়েছে ‘পায়ে পায়ে বাংলা’।

কালিকাপুর

কালিকাপুর বৃহত্তর কাশিমবাজারের মধ্যেই পড়ে। কাশিমবাজার স্টেশনের কাছেই কালিকাপুর লেভেল ক্রসিংয়ের ধারে রয়েছে ডাচ বা ওলন্দাজ সমাধিক্ষেত্র। এই কালিকাপুরে সতেরো ও আঠেরো শতকে ওলন্দাজদের কুঠি ও ব্যবসাকেন্দ্র ছিল। ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজ কুঠিতে ৭০০ জন তাঁতি সিল্ক বোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। একথা জানা যায় ‘বন্দর কাশিমবাজার’ গ্রন্থ থেকে। ব্যবসায় প্রভূত উন্নতির কারণে ওলন্দাজরা এখানে বিশাল প্রাসাদ তৈরি করেছিল আঠেরো শতকের প্রথম দিকে। কাশিমবাজার বাণিজ্যনগরীর পতনের পর থেকে সব কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। ডাচ অস্তিত্ব বলতে টিকে আছে শুধু এই সমাধিক্ষেত্র। এখানে মোট ৪৭টি কবর আছে। সবচেয়ে পুরনো কবরটি হল ড্যানিয়েল ভ্যানদার ম্যুল-এর, যিনি ১৭২১ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। ড্যানিয়েল প্রয়াত হলে সুউচ্চ দুটি স্তম্ভ-সহ সমাধিটি নির্মিত হয়। সব কবরগুলি ১৭২১ থেকে ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। কিছু সূক্ষ্ম চূড়াবিশিষ্ট সমাধিস্তম্ভ চুঁচুড়ার ডাচ সমাধিক্ষেত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। টেমার্স ক্যান্টর ভিশাশের সুদৃশ্য শ্বেত সমাধি মন্দিরটি বেশ সুন্দর, এটি ইউরোপীয় উপাসনা মন্দিরের রীতিতে নির্মিত। চুঁচুড়ার সুসানা আন্না মারিয়ার সমাধি মন্দিরের সঙ্গে হুবহু এক। শুধু এখানে ভিত্তিবেদির উচ্চতা কম। এটি অসাধারণ পুরাকীর্তির নিদর্শন। বর্তমানে এই ক্ষেত্রটি পুরাতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত।

ব্যাসপুর

কাশিমবাজার রাজবাড়ি থেকে কাছে, কাশিমবাজার রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৫৭ ফুট সুউচ্চ সুন্দর মন্দিরে বেশ বড় শিবলিঙ্গ কপিলেশ্বর নিত্য পূজিত হচ্ছেন। পণ্ডিত কৃষ্ণনাথ রায় পঞ্চাননের পিতা রামকেশব দেবশর্মা ১৭৩৩ শকাব্দ অর্থাৎ ১৮১১ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কালের প্রভাবে মন্দিরটি জীর্ণ হয়ে পড়লে লালগোলার রাজা যোগেন্দ্রনারায়ণ রায়বাহাদুর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে এটি সংস্কার করিয়ে দেন। প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমেই শিবপার্বতীর সিমেন্টের মূর্তি দেখা যাবে যা সম্প্রতি হয়েছে। তারপরেই প্রশান্ত অঙ্গনের মধ্যে মন্দির। স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের দিক দিয়ে জেলার অন্যতম মন্দির এটি। মন্দিরের প্রবেশপথে একটি একবাংলা ঢাকা বারান্দা আছে। মন্দিরের প্রথম অংশে বাঁকানো কার্নিশ, দ্বিতীয় অংশে পদ্মের আটটি পাপড়ি আর তৃতীয় অংশে উলটানো পদ্ম আকৃতির চূড়া। একবাংলার বারান্দার দেওয়ালে ও সামনের দিকে পৌরাণিক দেবদেবী, রাম-রাবণের যুদ্ধ, কৃষ্ণলীলা ও ফুলবাড়ি নকশার টেরাকোটা রয়েছে। টেরাকোটাগুলি উৎকৃষ্ট মানের। এছাড়া চুন-বালির দুর্গা, কালী প্রভৃতি মূর্তিগুলিও সুন্দর। মন্দির প্রত্যহ সকাল ৬টা থেকে ১১টা ও বিকাল ৪টা থেকে ৮টা অবধি খোলা থাকে। শিবরাত্রিতে এখানে বিরাট মেলা বসে ও বহু মানুষের সমাগম হয়। বৈশাখ, শ্রাবণ, চৈত্র মাস ছাড়াও সারাবছর ভক্তদের আনাগোনা থাকে।

বিষ্ণুপুর

করুণাময়ী কালী : ট্রেনে লালগোলার দিকে যাওয়ার পথে বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের পরেরটি কাশিমবাজার স্টেশন। স্টেশনের দক্ষিণে অথবা হোতার সাঁকোর দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পুবে, বিষ্ণুপুর বিলের পূর্ব তীরে করুণাময়ী কালীমন্দির। প্রথম মন্দিরটি সম্ভবত কৃষ্ণেন্দ্র হোতা কর্তৃক নির্মিত হয়। সেটি বিনষ্ট হয়ে গেলে কাশিমবাজার ছোট রাজবাড়ির রানি আন্নাকালী ও পরে লালগোলার মহারাজা রাজা যোগীন্দ্রনারায়ণ মন্দির পুনর্নির্মাণ করিয়ে দেন। মুর্শিদাবাদে যেসব ঐতিহ্যময় কালী মন্দির রয়েছে তার মধ্যে বিষ্ণুপুরের করুণাময়ী কালী মন্দির অদ্বিতীয়। আভিজাত্যে ভরা মন্দিরটিতে কোথাও জীর্ণতা স্পর্শ করেনি। প্রচলিত মন্দিরের গঠন এ মন্দিরে অমিল। ছাগবলির অঙ্গন থেকে মূল মন্দিরের মেঝে পর্যন্ত দু’রঙের পাথরে বাঁধানো। মন্দিরের পূর্ব দিকে প্রসাদঘর, সামনে বলির প্রাঙ্গণ, তারপরে উত্তরমুখী শিবমন্দির দেবীর গর্ভগৃহের ঠিক সামনে। শিবের একাকী অধিষ্ঠান সেখানে। গর্ভমন্দিরে দেবী কালীকে অদ্ভুতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। কোনও বেদির বালাই নেই। মূল মন্দিরে মেঝের মাঝখানে দেবী সমাসীন। সিমেন্টের তৈরি সিংহাসন আকারের বেড় দেবীকে ঘিরে বাঁধানো। দেবী নানা অলংকারে সজ্জিতা। চোখ, জিভ, মাথার মুকুট এমনকি হাতের খড়্গটিও রুপোর তৈরি। বিগ্রহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কোমর থেকে ঊর্ধ্বাংশের সম্পূর্ণ দেখা যায়, নিম্নাংশ দেখা যায় না। জনশ্রুতি, দেবী নাকি ক্রমশ বসে যাচ্ছেন মাটিতে। ভবিষ্যতে হয়তো তিনি বিলীন হয়ে বিদায় নেবেন মানুষের অনাচারের জন্য। এমন অদ্ভুতদর্শন কালীমূর্তি সম্বন্ধে যে গল্প প্রচলিত আছে তা হল-– কৃষ্ণদাস হোতা ছিলেন আলিবর্দী খাঁর অধীনস্থ রাজ কর্মচারী। তিনি পথ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া এক কন্যাকে আদরযত্নে মানুষ করতে থাকেন। নাম রাখেন করুণাময়ী। বিবাহযোগ্যা হলে বারবার তার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি কৃষ্ণদাস। একদিন তিনি কোনও একটি জায়গায় যাচ্ছিলেন। করুণাময়ী তার পিছু নেয়। হঠাৎ করুণাময়ী পায়ে আঘাত পায়। কৃষ্ণদাস তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। কাজ সেরে তিনি বাড়ি ফিরে জানতে পারেন করুণাময়ী ফেরেনি। তাকে খুঁজতে খুঁজতে তিনি শ্মশানঘাটে আসেন। সেখানে তিনি এক দৈববাণী শুনতে পান যে, স্বয়ং মা কালী তার কন্যা করুণাময়ীরূপে তাঁর গৃহে এতদিন ছিলেন। বর্তমানে ওই শ্মশানের একটি গাছের কোটরে তিনি অবস্থান করছেন। গাছের কোটর থেকে সেই বিগ্রহকে উদ্ধার করে তিনি এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করেন। দেবী নিত্যপূজিতা। এখানকার প্রধান উৎসব রটন্তী চতুর্দশী তিথিতে (পৌষ মাসে) দেবীর বার্ষিক পূজা ও উৎসব হয়। এই উৎসব প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো। এই উপলক্ষে এক মাস ধরে একটি বিরাট মেলা বসে। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও পাশাপাশি জেলা বীরভূম, নদিয়া ও কলকাতা থেকেও বহু মানুষ এখানে আসেন দেবীকে দর্শন করতে। এছাড়াও প্রতিবছর পৌষ মাসের শনি-মঙ্গলবার জাঁকজমক সহকারে দেবীর পূজা হয় এবং দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। দেবী জাগ্রতা বলে ভক্তদের বিশ্বাস। কাছের বিলে স্নান করে মন্দিরে লাগোয়া বটগাছে তারা ইটের টুকরো বা পাথর বেঁধে দেন মনষ্কামনা পূরণের আশায়। বহরমপুরে রাত্রিবাস করে এগুলি দেখে নেওয়া সুবিধার হবে। রাত্রিবাসের ঠিকানা : বহরমপুর টুরিস্ট লজ, ৪৮ কে এন রোড, দূরভাষ : ০৩৪৮২ ২৫৯৭১১।

কাছেপিঠে আরও নানা জায়গায় বেরিয়ে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লাইনে।

পায়ে পায়ে বাংলা


```