
শেষ আপডেট: 31 May 2023 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে দামি সিগারেট। সুখটানেই বাজার কাঁপাচ্ছে বয়ঃসন্ধি। বারোর কিশোরী হোক বা আঠেরোর টিনএজ ধোঁয়ার (Smoking) রিঙেই বন্দি স্টাইল স্টেটমেন্ট। ধূমপান ঠিক কতটা ক্ষতিকর সেটা সার্চ ইঞ্জিনের রমারমার যুগে আলাদা করে বলার কিছু নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, পুরুষদের তুলনায় ধূমপানে বেশি আসক্ত মহিলারা। বিশেষত কমবয়সি মেয়েদের মধ্যে সুখটান দেওয়ার প্রবণতা সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আর সিগারেট ও তামাক জাতীয় দ্রব্যে অতিরিক্ত আসক্তিই ডেকে আনছে বিপদ।
টেকনো ইন্ডিয়ার হেলথকেয়ার অ্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. এম শাহনওয়াজ পুরকাইত, ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. সুরজিৎ গড়াই, দিশা আই হসপিটালের অপথ্যালমোলজিস্ট ডা. অনন্যা গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন অতিরিক্ত ধূমপান (Smoking) মহিলাদের শরীরে নানাভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

নেট সার্ফিংয়ে যাঁরা অভ্যস্ত তাঁদের কাছে এই তথ্যগুলো নতুন নয়। তবুও মাঝে মাঝে আর একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া দরকার, একটা টান (Smoking) দেওয়ার পরে ঠিক কী কী ঢুকছে শরীরে। সিগারেটের (Smoking) উপাদানে আছে আর্সেনিক, টয়লেট ক্লিনারে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া, কীটনাশক ডিডিটি, নেলপলিশ রিমুভার অ্যাসিটোন, ব্যাটারিতে ব্যবহৃত ক্যাডমিয়াম, নিকোটিন-সহ আরও প্রায় ৭০০০ রকমের বিষ! আর এতেই ঘনাচ্ছে বিপদ। ফুসফুসের দফারফা তো হচ্ছেই, ত্বক ও চুলেরও বারোটা বাজছে।
ডা. সুরজিৎ গড়াই বলছেন, সিগারেটে অতিরিক্ত সুখটান (Smoking) দিলে অকালেই বুড়িয়ে যাবে ত্বক, চওড়া হবে বলিরেখা। ত্বকে কালো দাগছোপ হবে, পাতলা হবে চুল।
১) মুখের ত্বক হয়ে যেতে পারে রুক্ষ ও শুষ্ক। বলিরেখা বাড়বে। অকাল বার্ধক্য এসে যাবে।
২) মুখ সামান্য ফুলে লালচে বা কমলা ভাব দেখা দিতে পারে। চামড়া দ্রুত কুঁচকে যাবে। ত্বকের টানটান ভাবটা থাকবে না।
৩) পাতলা হয়ে যেতে পারে মুখের ত্বক।
৪) অল্প বয়সেই বলিরেখা দেখা দিতে পারে।
৬) অনেক সময় হাতের নখে হলদেটে ছাপ পড়তে পারে।

৭) ত্বকে দাগছোপ হবে। মেচেদার মতো দাগ পড়তে পারে। ত্বকের নানা জায়গায় কালচে ছোপ হবে।
ধূমপান যাঁরা করেন তাঁদের বেশিরভাগেরই ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে যায়। মহিলারা বেশি ধূমপান করলে ত্বক কালচে-ধূসর হতে থাকে, অকালবার্ধক্যের ছাপ পড়ে মুখে। চামড়া কুঁচকে যায়, বলিরেখা দেখা দেয়। কোনও ধূমপায়ীর মুখে এই সব সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিলে, চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে বলে ‘স্মোকার্স ফেস’।
ত্বকের সঙ্গে ক্ষতি হবে চুলেরও। চুল পড়তে শুরু করবে। চুলের গোড়া নষ্ট হবে, চুল পাতলা ও রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে যাবে।
ধূমপানে ফুসফুসের ক্ষতি তো হয়ই, পাশাপাশি ত্বক-গলা-তালুর ক্যানসার দেখা দেয়। ‘পামোপ্ল্যান্টার পাসচুলোসিস’ নামের অসুখে যাঁরা ভোগেন তাঁদের শতকরা ৮০ জনই ধূমপায়ী। হাতে-পায়ে ফোস্কা, ফোঁড়ার মতো রোগ হয়।
ধূমপানে ত্বকের ক্ষতি হয় কেন?
তামাকে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক ত্বকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ত্বকের এপিডার্ম ও এক্সোডার্মে নানা রকমের প্রভাব ফেলে। এমনিতেই তামাক ফুসফুসে থাকা কোলাজেন ও ইলাস্টিনকে নষ্ট করে দিতে পারে। ক্ষতি করে ধমনীরও। রক্তবাহী নালীর ইলাস্টিন নষ্ট হওয়ায় ত্বক হয়ে যায় ধূসর এবং দেখা দিতে থাকে বলিরেখা।
ডা. অনন্যা গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, কমবয়সিদের মধ্যেই ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপানের প্রভাব পড়তে পারে চোখেও। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ড্রাই আই সিনড্রোম হতে পারে।
গবেষণা বলছে, নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত ধূমপান মহিলাদের বন্ধ্যত্বের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে ভ্রূণের ক্ষতি হয়। ঋতুস্রাব হয় অনিয়মিত, অকালেই মেনোপজ এবং নানা স্ত্রীরোগের সমস্যা দেখা দেয়।
ধূমপানে বাড়ে পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজের আশঙ্কা। অর্থাৎ পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশের রক্তবাহী ধমনিতে কোলেস্টেরলের প্রলেপ জমে রক্ত চলাচল কমে যায়। সব থেকে বেশি সমস্যা হয় পায়ে। ধূমপায়ীদের এই অসুখের আশঙ্কা অন্যদের থেকে ১৬ গুণ বেশি। মধ্য বয়সে পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ জনিত পায়ের ব্যথার রোগীদের ৯৫% ধূমপায়ী।
চাকরি ছেড়ে বাবা-মায়ের সেবা, ঘরের কাজেই মোটা টাকা বেতন পাচ্ছেন তরুণী