
শেষ আপডেট: 8 November 2020 18:30
সেটা কীভাবে? গবেষকরা বলছেন, গরম জল বা চা কাপে ঢাললে মিনিট পনেরোর মধ্যে প্লাস্টিকের ওই স্তর গলতে শুরু করে। পলিইথিলিনের লেয়ার গলে গিয়ে ছোট ছোট উপাদানে ভেঙে যায়। এদের মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে। এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের এক একটা ভগ্নাংশের দৈর্ঘ্য পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও কম।
অধ্যাপক গোয়েল বলছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এক একটি কাপের প্রায় ১০০ মিলিলিটার গরম তরলে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ২৫ হাজার মাইক্রন (১০ থেকে ১০০০ মাইক্রোমিটার) সাইজের মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়। তার মানেই বোঝা যাচ্ছে, দিনে যদি তিন কাপ চাও খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে প্রায় ৭৫ হাজার প্লাস্টিকের কণা ঢুকছে। দিনে পাঁচ-ছয় কাপ চা খাওয়ার অভ্যেস অনেকেরই থাকে বা আরও বেশি। তাহলে হিসেব করলেই বোঝা যাবে কী পরিমাণ প্লাস্টিকের কণা সারাদিনে শরীরে ঢুকছে এবং রক্তে মিশছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ছড়ায়, ক্যানসারেরও কারণ
গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকের এই উপাদানে থাকে টক্সিক পদার্থ বিসফেনল যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। বিশেষত মুখ ও গলার ক্যানসারের কারণ হতে পারে এই উপাদান। এই বিষাক্ত পদার্থ শরীরে ঢুকলে অন্ত্র অবধি পৌঁছে যেতে পারে। অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা সহজেই রক্তে মিশে গিয়ে জমতে থাকে। কোষে কোষে পৌঁছে যায় এই টক্সিক উপাদান। নানা সংক্রমণজনিত রোগ, স্তন ক্যানসারেরও কারণ এই প্লাস্টিকজাত উপাদান। তাছাড়া অধিকমাত্রায় প্লাস্টিকের কণা শরীরে জমলে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। মহিলাদের হরমোন ক্ষরণে বাধা তৈরি করে। বিশেষ ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এই টক্সিক পদার্থ।
গবেষকরা বলছেন, পেপার কাপের ব্যবহার কমানোর জন্য নানা ক্যাম্পেন চলছে। পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সমীক্ষাই বলছে আগামী দিনে ভারতে ক্যানসারের প্রকোপ প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যাবে। তাই এখন থেকেই সাবধান না হলে আরও বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে দেশবাসীকে।