Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

কাগজের কাপে চা খান? বিষাক্ত পদার্থ ঢুকছে শরীরে, সতর্ক করলেন আইআইটির গবেষকরা

চৈতালী চক্রবর্তী কাগজের কাপেই কি ঘন ঘন চায়ে চুমুক দেন? অফিসের বাইরে, বিকেলে পাড়ার চেনা ঠেকে পেপার কাপে চা-কফিতে চুমুক দিয়েই দেদাড় আড্ডা চলে। মাটির ভাঁড়ের বদলে এই পেপার কাপের আমদানি অনেকদিনই হয়েছে। আর যে হারে এই কাপের ব্যবহার শুরু হয়েছে ত

কাগজের কাপে চা খান? বিষাক্ত পদার্থ ঢুকছে শরীরে, সতর্ক করলেন আইআইটির গবেষকরা

শেষ আপডেট: 8 November 2020 18:30

চৈতালী চক্রবর্তী

কাগজের কাপেই কি ঘন ঘন চায়ে চুমুক দেন? অফিসের বাইরে, বিকেলে পাড়ার চেনা ঠেকে পেপার কাপে চা-কফিতে চুমুক দিয়েই দেদাড় আড্ডা চলে। মাটির ভাঁড়ের বদলে এই পেপার কাপের আমদানি অনেকদিনই হয়েছে। আর যে হারে এই কাপের ব্যবহার শুরু হয়েছে তাতেই ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। গরম চা পেপার কাপে ঢেলে খাওয়া একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়, এই সতর্কবাণী শুনে চমকে ওঠেন বেশিরভাগ মানুষই। “এমন কাপেই তো বরাবর চা খাই”, এ কথাই বলতে শোনা গেছে অধিকাংশকে, আর চিন্তার মূল কারণ সেখানেই। পেপার কাপ কেন ক্ষতিকর, কী ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করেছে শরীরে, সে নিয়েই নতুন গবেষণা খড়্গপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) গবেষকদের। আইআইটি খড়্গপুরের অধ্যাপক ও এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত ডক্টর সুধা গোয়েল বলেছেন, কাগজের কাপে চা খাবার অভ্যাসই রপ্ত করে নিয়েছে বর্তমান প্রজন্ম। কাঁচের গ্লাস বা মাটির ভাঁড়ের বদলে বেশিরভাগ দোকানেই এখন পেপার কাপেই চা, কফি দেওয়া হয়। ডিজপোজেবল, খেয়ে ফেলে দেওয়ার সুবিধা আছে, ধোয়াধুয়ির খাটনি নেই তাই শত নিষেধাজ্ঞাতেও এই ধরনের কাপেরই বাড়বাড়ন্ত। কিন্তু যে বিপদটা চুপিসাড়ে আসছে সে নিয়ে বিন্দুমাত্র সচেতন নন বেশিরভাগ মানুষই। অনেকে তো জানেনই না গরম চা, কফি বা অন্য কোনও পানীয় এই ধরনের কাপে ঢেলে খেলে কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। মুখ ও গলার ক্যানসারের অন্যতম কারণও হল এই ধরনের পেপার কাপ। কী উপাদানে তৈরি এই পেপার কাপ যা শরীরে জন্য চরম ক্ষতিকর? আইআইটির গবেষকরা বলছেন, বাজারে, দোকানে যে ধরেনর পেপার কাপ বিকোচ্ছে সেগুলি তৈরি হচ্ছে এমন রাসায়নিক উপাদানে যা শরীরে ঢুকলে মারণ রোগ ছড়াতে পারে। এই ধরনের কাপে থাকে হাইড্রোফোবিক ফিল্মের পাতলা স্তর যা তৈরি হয় প্লাস্টিক বা পলিইথিলিন দিয়ে। কাপকে আরও বেশি টেকসই করার জন্য কো-পলিমারের উপাদানও থাকে। আর গণ্ডগোলটা সেখানেই। কারণ এই ধরনের প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান শরীরে ঢুকলে ছোট ছোট ভগ্নাংশে রক্তে জমতে থাকে। WHO microplastic update calls for health impact research - The Source সেটা কীভাবে? গবেষকরা বলছেন, গরম জল বা চা কাপে ঢাললে মিনিট পনেরোর মধ্যে প্লাস্টিকের ওই স্তর গলতে শুরু করে। পলিইথিলিনের লেয়ার গলে গিয়ে ছোট ছোট উপাদানে ভেঙে যায়। এদের মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে। এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের এক একটা ভগ্নাংশের দৈর্ঘ্য পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও কম। অধ্যাপক গোয়েল বলছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এক একটি কাপের প্রায় ১০০ মিলিলিটার গরম তরলে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ২৫ হাজার মাইক্রন (১০ থেকে ১০০০ মাইক্রোমিটার) সাইজের মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়। তার মানেই বোঝা যাচ্ছে, দিনে যদি তিন কাপ চাও খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে প্রায় ৭৫ হাজার প্লাস্টিকের কণা ঢুকছে। দিনে পাঁচ-ছয় কাপ চা খাওয়ার অভ্যেস অনেকেরই থাকে বা আরও বেশি। তাহলে হিসেব করলেই বোঝা যাবে কী পরিমাণ প্লাস্টিকের কণা সারাদিনে শরীরে ঢুকছে এবং রক্তে মিশছে। Blueair calls for global agreement to stop plastic air pollution | Blueair মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ছড়ায়, ক্যানসারেরও কারণ গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকের এই উপাদানে থাকে টক্সিক পদার্থ বিসফেনল যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। বিশেষত মুখ ও গলার ক্যানসারের কারণ হতে পারে এই উপাদান। এই বিষাক্ত পদার্থ শরীরে ঢুকলে অন্ত্র অবধি পৌঁছে যেতে পারে। অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা সহজেই রক্তে মিশে গিয়ে জমতে থাকে। কোষে কোষে পৌঁছে যায় এই টক্সিক উপাদান। নানা সংক্রমণজনিত রোগ, স্তন ক্যানসারেরও কারণ এই প্লাস্টিকজাত উপাদান। তাছাড়া অধিকমাত্রায় প্লাস্টিকের কণা শরীরে জমলে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। মহিলাদের হরমোন ক্ষরণে বাধা তৈরি করে। বিশেষ ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এই টক্সিক পদার্থ। গবেষকরা বলছেন, পেপার কাপের ব্যবহার কমানোর জন্য নানা ক্যাম্পেন চলছে। পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সমীক্ষাই বলছে আগামী দিনে ভারতে ক্যানসারের প্রকোপ প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যাবে। তাই এখন থেকেই সাবধান না হলে আরও বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে দেশবাসীকে।

```