Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহের

জল খান মেপে, চনমনে থাক হার্ট-কিডনি-লিভার, সারাদিনে কতটা দরকার বললেন বিশেষজ্ঞরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলই জীবন। তাই বলে সারাদিন ঢকঢক করে জল খেয়ে যাওয়াটা কোনও কাজের কথা নয়। শরীরের কলকব্জা ঠিক রাখতে হলে জলের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি নিঃসন্দেহে। তবে ঠিক কোন সময় কতটা জল শরীরে দরকার সেটাও জানা উচিত। শরীর হল মেশিনের মতো। যাকে চালাতে জ

জল খান মেপে, চনমনে থাক হার্ট-কিডনি-লিভার, সারাদিনে কতটা দরকার বললেন বিশেষজ্ঞরা

শেষ আপডেট: 12 August 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলই জীবন। তাই বলে সারাদিন ঢকঢক করে জল খেয়ে যাওয়াটা কোনও কাজের কথা নয়। শরীরের কলকব্জা ঠিক রাখতে হলে জলের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি নিঃসন্দেহে। তবে ঠিক কোন সময় কতটা জল শরীরে দরকার সেটাও জানা উচিত। শরীর হল মেশিনের মতো। যাকে চালাতে জল অবশ্যই দরকার। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণে। প্রয়োজনের বেশি জল সিস্টেমে ঢেলে দিলে সেটা তো বিগড়ে যাবেই! ডাক্তাররা তাই বলেন, জল খান, তবে মেপে। যতটা দরকার ঠিক ততটাই। এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন, জল খেলে শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়। ডিহাইড্রেশন থেকে রেহাই মেলে। চুল-ত্বক সতেজ থাকে। বিপাকক্রিয়া ঠিকঠাক থাকে। মোদ্দা কথা শরীর বেশ ঝরঝরে থাকে। অনেকক্ষণ জল না খেলেই শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়, ঝিমুনি আসে, মাথা ঘোরে ইত্যাদি। তাহলে শরীরের জন্য জল কতটা দরকার? ঠিক কী পরিমাণে জল খেতে হবে? সারাদিন বোতল বোতল জল খেলেই কি শরীর তরতাজা থাকবে? অনেকেই বলেন দিনে পাঁচ লিটার জল খাওয়া উচিত, এটা কি ঠিক? সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্নগুলিই সবচেয়ে আগে আসে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুব সহজভাবে দিয়েছেন।

শরীর জল চায়, তবে গাদাগাদা নয়

হার্ট, লিভার, কিডনি, পাকস্থলী, ফুসফুস সহ গোটা শরীরটাই ঠিকঠাক ভাবে চালাতে জলের দরকার। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতেও জল চাই, কিডনি ফুরফুরে রাখতেও জলেরই দরকার। জল কম খেলেই বিপদ। ডিহাইড্রেশন তো হবেই, কিডনি ফেলিওর থেকে লিভারের সমস্যা সব রোগই একে একে বাসা বাঁধবে শরীরে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শরীর কতটা জল চায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট, লিভার, কিডনি যাদের একদম তরতাজা রয়েছে তারা দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার জল খেতেই পারেন। তবে এখানেও একটা ব্যাপার আছে। ওজন, শারীরিক গঠন সবকিছু দেখেই জলের পরিমাণ বাতলে দেন বিশেষজ্ঞরা। ধরা যাক, যিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করে বা যাঁকে ছুটোছুটি করে কাজ করতে হয় তাঁর শরীরে জলের চাহিদা একরকম, আবার যিনি দীর্ঘ সময় বসে কাজ করছেন তাঁর শরীরে জলের চাহিদা আবার অন্যরকম। আবার কিডনি বা হার্টের রোগ রয়েছে যঁদের, অথবা প্রেগন্যান্সির সময় শরীরে জলের চাহিদার তারতম্য হয়। তাই সবদিক বিচার বিবেচনা করেই পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের গাইডলাইন বলে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দিনে ৩.৭ লিটার (১২৫ আউন্স) ফ্লুইড (Fluid) দরকার হয়। একজন মহিলার সেখানে দরকার হয় ২.৭ (৯১ আউন্স) লিটার ফ্লুইড। এখানে ফ্লুইড অর্থে শুধু জল নয়, চা-কফি, হেলথ ড্রিঙ্ক, দুধ সবই হতে পারে। মানে যে কোনও লিকুইড। যদি সারাদিনে চা-কফির পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে সেই অনুপাতে জল মেপে খাওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনের একটা সময় বোতল ধরে ঢকঢক করে একগাদা জল খেয়ে নিয়ে বাকি সময়টা জল কম খেলে হিতে বিপরীত হয়। এমন অভ্যাস থাকে অনেকেরই। সারাদিনে অল্প অল্প করে মেপে জল খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে শরীরও তরতাজা থাকে, ডিহাইড্রেশন হয় না কখনওই।

ওজন মেপেছেন তো?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরের ওজন কতটা সেই অনুপাতে কতটা জল দরকার হয় তার হিসেব বের করা যায়। যার ওজন ৫০ কিলোগ্রাম তার যতটা জল খাওয়া উচিত, ৯০ কিলোগ্রাম ওজন হলে সেই পরিমাণ তো বদলে যাবেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরের ওজন যত তাকে ২ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল বেরবে ততটাই জল দরকার হয় শরীরে। যেমন ওজন যদি হয় ১৮০ পাউন্ড (প্রায় ৮১ কিলোগ্রাম) তাকে ২ দিয়ে ভাগ করলে হবে ১৮০/২=৯০ আউন্স (২.৬৬ লিটার) জল খাওয়া দরকার। তবে আরও কিছু ফ্যাক্টর আছে, যেমন সারাদিনে একটা মানুষ কতটা সক্রিয়, কী পরিমাণ কাজ করছেন, শরীরকে কতটা খাটানো হচ্ছে এই বিষয়গুলোর উপরেও জলের পরিমাণ নির্ভর করে।

হার্টের রোগ, কিডনি ফেলিওরে কী করা উচিত

কিডনির অসুখে মেপে জল খাওয়ার পরামর্শই দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নেফ্রোলজিস্টরা বলেন কিডনি অকেজো হযে গেলে অতিরিক্ত জল বের করে দিতে পারে না, তাই বেশি জল খেলে শরীর ফুলে ওঠে। সেক্ষেত্রে জল পরিমাণমতোই খাওয়া উচিত। আবার এমনও দেখা যায়, কিডনির অতিসক্রিয়তায় বেশি জল বেরিয়ে যায় শরীর থেকে, তখন ডিহাইড্রেশন হতে পারে। তাই কিডনির অসুখ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতোই জল খাওয়া উচিত। হার্টের রোগ থাকলেও দিনে ২-৩ লিটার জল খাওয়া যেতেই পারে, এমনটাই বলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে যদি জটিল কোনও অপারেশন হয়ে থাকে বা হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিওমায়োপ্যাথির মতো সমস্যা থাকে তখন বেশি জল খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সারাদিনে কতটা জল খেতে হবে সেটা ঠিক করে নেওয়াই ভাল।

প্রেগন্যান্সিতে শরীর হাইড্রেটেড থাকা দরকার, বুকের দুধ খাওয়ান যে মায়েরা তাদের কতটা জল দরকার

বিশেষজ্ঞরা বলেন, গর্ভাবস্থায় শরীর হাইড্রেটেড থাকা খুবই জরুরি। এই সময় প্রয়োজনের কম জল খেলে বা ডিহাইড্রেশন হলে তার খারাপ প্রভাব পড়ে শরীরে। সাধারণত গর্ভবতী মায়েদের সারাদিনে কম করেও ২.৪ লিটার ফ্লুইড শরীরে যাওয়া উচিত। প্রসবের পরে অনেকেরই বমিভাব, শারীরিক অস্বস্তি থাকে, সেক্ষেত্রে জল মেপে খেতে হবে। ব্রেস্ট-ফিড করান যে মায়েরা তাদের দিনে ৩.১ লিটার ফ্লুইড দরকার। অর্থাৎ জল, ফলের রস মিলিয়ে এই পরিমাণ ফ্লুইড শরীরে গেলে ভাল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শারীরিক গঠন, মায়েরা কতটা ব্রেস্ট-ফিড করাচ্ছেন এইসব ফ্যাক্টর দেখেও জলের পরিমাণ ঠিক করা উচিত। তার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ দরকার।

এক্সারসাইজে টগবগ করে শরীর, জল একটু বেশি লাগে

শরীরচর্চা মানেই প্রচু ঘাম হয়, বডি-ফ্লুইড বেরিয়ে যেতে থাকে। তাই এই সময় ঘন ঘন পিপাসা পায়। জল একটু বেশিই চায় শরীর। তবে তেষ্টা পাচ্ছে মানেই ঢকঢক করে একবারে অনেকটা জল খাওয়া ঠিক নয়। বরং অল্প অল্প করে বারে বারে জল খেলে ভাল। এতে যতটা ঘাম বের হচ্ছে এবং যতটা জল ঢুকছে শরীরে তার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরচর্চা করলে জল তো বটেই, ফলের রস, ডাবের জল, লস্যি এগুলোও সঠিক সময় মেনে খেলে ভাল ফল হয়। তবে বাজারচলতি স্পোর্টস ড্রিঙ্ক, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা সিন্থেটিক নরম পানীয় এড়িয়ে চলাই ভাল।

```