
শেষ আপডেট: 20 July 2023 05:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'জীবন চলছে না আর সোজা পথে…', সত্যিই কি তাই? সমাজে বা জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে মানুষ এখন খুবই ব্যস্ত। দু'দণ্ড কারও সঙ্গে কথা বলার সময়টুকুও নেই কারও। শুধুই মানুষ এখন দৌড়াচ্ছে জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। আর সেই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য। অনিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে প্রায় সকলেই। কম বয়সেই শরীরের মধ্যে এমন সব রোগ বাসা বাঁধছে, যা আজ বিশ-তিরিশ বছর আগেও ভাবা যেত না। সেই সব রোগ শনাক্ত করতে করতেই মানুষের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তি (Google AI) আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে রোগ শনাক্ত করতে আর দৌড়তে হবে না হাসপাতাল!
গত কয়েকবছর ধরে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ছে। জীবনযাপনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই কোনও না কোনও ভাবে ঢুকে পড়েছে এই প্রযুক্তি। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ-- সবকিছুর মধ্যেই এখন এই প্রযুক্তি জায়গা করে নিয়েছে।
কল্পবিজ্ঞানের অনেক গল্পে, এমন বিষয় পড়ে থাকতে পারেন। কিন্তু বই বন্ধ করলেই সেসব বাস্তব থেকে অনেক দূরে চলে যায়। তবে গুগল (Google AI) ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর। চোখ স্ক্যান করেই আপনার হৃদযন্ত্র সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে পারবে গুগল এআই। আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত কিনা, আপনার শরীরে কী কী রোগ বাসা বেঁধে রয়েছে, সব খবরই ঘরে বসে মিলবে এক চুটকিতে।
বছর পাঁচেক আগের কথা। গুগল গবেষক ও স্বাস্থ্যদলের গবেষকেরা একটি অ্যালগরিদম নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। তাঁদের কথায়, মানুষের চোখই হল তাঁর মনের ও শরীরের মধ্যে প্রবেশ করার পথ। মানুষের সবকিছু বোঝা সম্ভব হয় এই চোখের মাধ্যমে। তার সেই যুক্তির কথা মাথায় রেখেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো শুরু করেন গবেষকরা।
মানুষের চোখের রেটিনা স্ক্যান করে তাঁর বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, এমনই দাবি করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। যেমন, বয়স, লিঙ্গ, ব্লাড প্রেসার, ধূমপানের অভ্যাস ইত্যাদি। আর সেইসব তথ্যকে সম্মিলিত করে আপনার হৃদরোগের হদিশ দিতে পারে গুগল এআই (Google AI)।
ইতিহাসের সুপ্রাচীন রহস্যময় কোডগুলোর মানে বের করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! আজ অবধি কেউ পারেনি
এখন অনেকেই কার্ডিওভাস্কুলার রোগের নামের সঙ্গে পরিচিত। গুগলের নতুন এই টেকনোলজি (Google AI), আপনাকে সেই রোগ সম্পর্কে আগাম সতর্ক করবে। শুধুমাত্র চোখের রেটিনা স্ক্যান করে সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই রোগ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করবে। দাবি করা হচ্ছে, এই প্রযুক্তি আপনাকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক তথ্য দিতে পারবে। গুগল আরও দাবি করেছে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি যাতে আরও বেশি সঠিক তথ্য দিতে পারে, সেই কাজ করা হচ্ছে।
গত বছর, লিডস বিশ্ববিদ্যালয় এআই প্রযুক্তি নিয়ে একটি গবেষণা করে একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা ৫ হাজার জনেরও বেশি মানুষের ওপর গবেষণা করেছে। সেই গবেষণায় এআই সিস্টেমের মাধ্যমে রোগীর রেটিনা ও হৃৎপিণ্ডের পরিবর্তনের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তা চিহ্নিত করেছে। একবার রোগীর চোখের ইমেজ প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারণা হয়ে গেলে, এআই সিস্টেম শুধুমাত্র রেটিনাল স্ক্যান করেই হার্টের বাম ভেন্ট্রিকলের আকার এবং পাম্পিং দক্ষতা অনুমান করতে পারে। রোগীদের, তাদের বয়স এবং লিঙ্গ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য দেবে।
গুগল চার বছর আগে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই মানুষের হৃদযন্ত্রের খবরাখবর জানা যাবে। এ প্রযুক্তির সাহায্যে, ডিমেনশিয়া, মাল্টিপল স্কেজোফ্রেনিয়া, পারকিনসনস, আলঝাইমার এমনকি সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগও প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা যাবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা