
শেষ আপডেট: 21 March 2019 13:39
এক অন্য পরিবার।[/caption]
সত্যদেবী ও নাজরিন নিজেদের কিডনি স্বামীদের জন্য দান করতে রাজি হলেও, স্বামীদের সঙ্গে ক্রাইটেরিয়া ম্যাচ করছিল না তাঁদের। কিন্তু চিকিৎসকেরা দাতা-গ্রহীতার তালিকা মেলাতে গিয়ে লক্ষ করেন, নাজরিনের ব্লাডগ্রুপ এবং অন্যান্য ক্রাইটেরিয়া মিলে যাচ্ছে রামসারথের চাহিদার সঙ্গে। আবার কাকতালীয় ভাবে, নাদিমের যে কিডনি দরকার, তার সব ক্রাইটেরিয়া মিলে যাচ্ছে সত্যদেবীর সঙ্গে।
দুই পরিবারকেই এ কথা জানান চিকিৎসকেরা। প্রথমে একটু দ্বিধা ছিল। কারণ দুই পরিবারের ধর্ম অভ্যাসে ফারাক রয়েছে। এই ধর্ম অনেক সময়েই এই সমস্ত চিকিৎসার অন্তরায় হয়, এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে চিকিৎসকেদের। রোগীর চরম বিপদের সময়েও অন্য ধর্মের রক্ত নিতে অস্বীকার করেছে রোগী পরিবার, এমনটাও ঘটেছে। তাই এই ক্ষেত্রেও নাজরিন ও সত্যদেবী নিজের স্বামীর জন্য নয়, পরস্পরের স্বামীর জন্য কিডনি দিতে পারবেন-- এ কথা একটু দ্বিধার সঙ্গেই জানিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
[caption id="attachment_88755" align="aligncenter" width="1000"]
বন্ধন[/caption]
কিন্তু হাসপাতাল জানানো মাত্রই রাজি হয়ে যান নাজরিন এবং সত্যদেবী। তাঁদের দু'জনের কাছেই ধর্মের ঊর্ধ্বে ছিল স্বামীর সুস্থতা। ফলে নাজরিনের কিডনি পেলে যদি রামসারথ সুস্থ হন, এবং সত্যদেবীর কিডনি পেলে, নাদিম-- এতে কারওই কোনও আপত্তি ছিল না।
সব নিয়ম মেনে এবং খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় দুই দম্পতিকে। পরপর দু'টি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচারের পরে দিন কয়েক পর্যবেক্ষণে রাখার পরে অস্ত্রোপচার সফল বলে জানান তাঁরা। এখনও অবশ্য সংক্রমণের ভয়ে কড়া নিয়মের মধ্যে আছেন রামসারথ ও নাদিম। তাঁদের স্ত্রী সত্যদেবী এবং নাজরিন সুস্থ হয়েছেন।
দুই ভিন্নধর্মী পরিবার এই ভাবে একে অপরের সঙ্গে জীবনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্ব কিডনি দিবসে। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের সাফল্যে এই ঘটনা যেমন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মাইলস্টোন হয়ে রইল, তেমনই সম্প্রীতির ইতিহাসেও এই ঘটনার প্রভাব অনস্বীকার্য। এখন আশা, দুই দাতা ও দুই গ্রহীতাই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যেন বাড়ি ফিরতে পারেন।